Lifestyle - লাইফস্টাইল

চুলে রঙ বা ডাই করা কতটা নিরাপদ

hair color

আজকাল সবাই কমবেশি সৌন্দর্য সচেতন। কি মহিলা কি পুরুষ নিজেকে সুন্দর রাখতে প্রত্যেকেই আগ্রহী। সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার তাগিদে তাই নিজের ওপরে চলে কতরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা। প্রথমেই ধরা যাক চুল। চুলের রং কালো, কিছুদিন আগে পর্যন্ত এটাই ছিল সত্য, এখন এই সত্যতা বদলে গেছে। চুলের এখন কতই বাহারি রং। এখন শুধু সাদা চুল কালো করা নয়, কালো চুলেও রামধনুর ছটা এটাই এখন ইন-ফ্যাশন।

ডাই এর অসুবিধা

চুল পাক ধরলে, সাদা চুলকে লুকিয়ে রাখতে সাধারণত ডাই করা হয় চুলে। কিন্তু সব ডাই চুলের পক্ষে ভালো নয়। হেয়ার কালার, হেয়ার ডাই- এই দুইয়ের কার্যকারিতা এক অর্থাৎ চুল রাঙানো কিন্তু রাসায়নিক দিক থেকে এদের মধ্যে পার্থক্য আছে। হেয়ার ডাই-এর মধ্যে বিভিন্ন হেভি মেটাল থাকে যা চুলের ক্ষতিকারক।

কালারের সুবিধা

হেয়ার কালার দিয়ে যদি চুল রাঙানো যায়, সেই রঙের স্থায়িত্ব বেশি হয়। এই রং সহজে নষ্ট হয় না। চুলের গোড়া রঙের সংস্পর্শে এলেই সারা চুল রাঙিয়ে ওঠে।

চুল রাঙানো কতটা নিরাপদ

চুলের কালার নিয়ে যতই ফ্যাশন করুন না কেন, মনে কিন্তু একটা ভীতি থেকেই যায়। এই হেয়ার কালার কি নিরাপদ? এর থেকে ক্যান্সার হয় না তো? এমন কোনও বৈজ্ঞানিক তথ্য বা সত্যতা এখন প্রমাণিত হয়নি। তবে হেয়ার কালার সম্পূর্ণ নিরাপদ তা বোধ হয় বলা যায় না। কারণ এটি থেকে আর্টিকেরিয়া, কনট্যাকট ডার্মাটাইটিসজনিত অ্যালর্জির সমস্যা তৈরি হতে পারে।কালারিং এফেক্ট হিসেবে কালি মেহেন্দি খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু এটি ক্ষতিকারক, কারণ এতে খুব বেশি মাত্রায় থাকে পি পি ডি।

হেনা কখন কিভাবে ব্যবহার করবেন

সাদা চুলের পরিমাণ ১৫ শতাংশের কম হলে, ব্যবহার করা যায় হেনা । কিন্তু হেনা চুলকে শুষ্ক করে দেয়। সেজন্য হেনা ব্যবহার করলে চুলের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। তবে একটি কথা, হেনা চুলে কখনই ২০ মিনিটের বেশি রাখা ঠিক নয়।

হেয়ার কালার করার আগে কি কি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত

ব্যবহারের আগে সর্বদা প্যাচ টেস্ট করতে হবে।

ধৈর্য নিয়ে ইনস্ট্রাকশন মেনে চলতে হবে।

চুলে কালার করার পরদিন চুল ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে । এতে চুলের নিজস্ব তৈলাক্তভাব বজায় থাকবে।

ভিজে চুল কিছুর সাহায্যে শুকোবেন না, নিজে থেকে শুকনো হতে দেওয়া উচিত।

কালার করার পর যদি স্ক্যান্লে চুলকানি বা জ্বালা অনুভূত হয়, সঙ্গে সঙ্গে কালার ধুয়ে ফেলতে হবে, খেতে হবে অ্যান্টি অ্যালার্জিক ওষুধ এবং অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রথমবার কোনও বিউটিশিয়ানকে দিয়ে কালার করানো উচিত। পরবর্তী সময়ে নিজে নিজে করা যায়, তবে মাঝে মাঝে বিউটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া উচিত

কালারড চুলের রক্ষণাবেক্ষণ

সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার না করাই উচিত। কালারড হেয়ারের জন্য বাজারে পাওয়া যায় যে শ্যাম্পু তাই চুলে দেওয়া উচিত।

অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। যদি কন্ডিশনিং করার পরেও চুল শুষ্ক হয়ে যায় তখন চুল ধুয়ে হেয়ার সিরাম ব্যবহার করলে ভালো ফল মেলে।

১৫ দিন অন্তর চুলে অয়েল ম্যাসাজ করুন, গরমজলে তোয়ালে ভিজিয়ে সেটি মাথায় ১০ মিনিট রাখুন।

হেয়ার কালার ঘন ঘন করবেন না। দুটির মাঝে যেন ৪-৬ সপ্তাহের ব্যবধান থাকে।

হেয়ার কালার করুন কিন্তু তার আগে বা পরে অবশ্যই এসব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কোনও কিছু অসুবিধা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top