Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

পিত্তথলি বা গলব্লাডারে পাথর

Laparoscopic

গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে পাথর এমন একটি সমস্যা যাতে প্রায় প্রত্যেক ঘরেরই কেউ না কেউ কোনও না কোনও সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন। আমাদের পেটের ভেতরে যকৃতের ঠিক নিচেই একটা ছোট্ট থলি থাকে যাকে অনেকটা দেখতে ন্যাসপাতির মতো। এই থলিই হল গলব্লাডার বা পিত্তথলি।

আমাদের শরীরে পিত্ত বা বাইলের ভূমিকা

পিত্তের মধ্যে অন্যতম প্রধান উপাদানগুলি হল বিলিরুবিন, পিত্ত লবণ, কোলেস্টেরল। পিত্তের মূল কাজ হল ফ্যাট জাতীয় খাদ্যকে হজম করতে সাহায্য করা। কোলেস্টেরল এবং বিলিরুবিন বেড়ে গেলে তবেই পাথর তৈরির সম্ভাবনা বাড়ে।

পাথর হলে যে সমস্ত উপসর্গ নিয়ে রোগীরা ডাক্তারবাবুর কাছে আসেন

বমি বমি ভাব

গা গোলানো

পেটের উপরে অংশে ডান দিকে ব্যথা

হালকা জ্বর হলেও হতে পারে

জন্ডিস-এর উপসর্গ থাকতে পারে

পাথর হওয়ার পিছনে পজিটিভ ফ্যাক্টরগুলি

অতিরিক্ত শারীরিক ওজন

মাত্রাতিরিক্ত ডায়েটিং

কিছু ওষুধ

ডায়াবেটিসের মতো কিছু রোগ

অবশ্যই বংশগত ফ্যাক্টর

সাধারণত পুরুষ বা মহিলাদের মধ্যে কারা বেশি আক্রান্ত হয়

সমীক্ষা বলছে মহিলারাই বেশি আক্রান্ত হন। এর কারণ আর কিছুই নয় ইস্ট্রোজেন নামক একটি হরমোনের উপস্থিতি। ওরাল কনট্রাসেপটিভ পিলও কিছু ক্ষেত্রে দায়ী।

চিকিৎসা

শল্যচিকিৎসাই একমাত্র নিরাময়ের পথ । শল্যচিকিৎসা সার্জারির আসল উদ্দেশ্য হল গলব্লাডার বা পিত্তথলিটিকে কেটে বাদ দেওয়া । যার নাম কোলেসিস্টেকটমি। এই শল্যচিকিৎসা মূলত দু’রকমের-

(১) ওপেন কোলেসিস্টেকটমি আগে এই পদ্ধতিতেই গলব্লাডার বা পিত্তথলির অপারেশন হত। পেটের অনেকটা অংশ কেটে গলব্লাডার বের করতে হত।

(২) ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি বর্তমানে এই পদ্ধতিটি খুব জনপ্রিয়। এই পদ্ধতিতে পেটে দু-তিনটি ফুটো করে গলব্লাডার বের করা হয়।

দুটি পদ্ধতির সুবিধা অসুবিধা

ওপেন কোলেসিস্টেকটমিতে যেহেতু বড় করে পেট কাটতে হয় সুতরাং জটিলতা তৈরি হতেই পারে। হার্নিয়া হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

ওপেন কোলেসিস্টেকটমিতে হাসপাতালে কয়েকদিন থাকতে হয়। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে কয়েকটা দিন সময় লাগে।

ওপেন কোলেসিস্টেকটমিতে পেট অনেকটা কাটা হয় বলে গলব্লাডার এবং পেটের অন্যান্য আনুষঙ্গিক অঙ্গগুলিকে পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।

ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমিতে জটিলতা অনেক কম। হার্নিয়া হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমিতে অপারেশনের সময় অনেক কম লাগে।

ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি হলে একদিন পরেই বাড়ি ফেরা যায় এবং তুলনামূলকভাবে কর্মক্ষেত্র অনেক তাড়াতাড়ি যোগদান করা সম্ভব।

আস্ত্রোপচারের পরে

যে কোনও আস্ত্রোপচারেই অবশ্যই কিছু ঝুঁকি থাকে। কিন্তু একটু সাবধান হয়ে চললেই অনেক কিছু এড়ানো সম্ভব।

সার্জারির পরে পরেই মদ, সিগারেটের মতো নেশার জিনিসগুলি না গ্রহণ করাই ভালো।

কিছুদিন নিজে গাড়ি চালাবেন না।

হালকা খাবার খাবেন।

হাঁটাচলা একটু করবেন।

এক সপ্তাহ পরে কোনও জটিলতা না হলেও ডাক্তারবাবুকে দিয়ে চেকআপ করাবেন।

সার্জারির পরে যদি কোনও সংক্রমণ হয়, জ্বর আসে, কাটা জায়গায় ব্যথা হয় অবশ্যই ডাক্তারবাবুকে দেখান।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top