Mental health মনের যত্ন

ভয় নিয়ে ভয় নয়

Not fear with fear

সত্যি কথা বলুন তো, জীবনে একবারও কি আপনি ভয় পান নি? যতই ডাকাবুকো হন না কেন, ভয়ে একবারও কি সিঁটিয়ে থাকেন নি? তাহলে “ভয়” পাওয়া কি স্বাভাবিক? এই নিয়ে বিস্তারিতভাবে জানালেন বিশিষ্ট সায়কিয়াট্রিস্ট ডা. কেদার রঞ্জন বন্দোপাধ্যায়।

 

জীবনে ভয় পাননি এমন লোক বোধহয় খুঁজে পাওয়া ভার ছোটবেলায় ভূতের ভয় তো বড় বেলায় চাকরি সংসার আর চারপাশের চাপ থেকে ভবিষ্যতের জন্য ভয় ভয় নিয়েই তো মানুষের বেঁচে থাকা

একদম ঠিক কথা। ভয় তো আমাদের একটা স্বাভাবিক আবেগ।

কিন্তু কখন এই স্বাভাবিকটা স্বাভাবিকে পরিণত হয়, আর আমাদের ছুটতে হয় সায়কিয়ান্ট্রিস্টের কাছে?

হ্যাঁ, সমস্যাটা এখানেই। ভয়টা স্বাভাবিক থেকে অ-স্বাভাবিক হলে তখনই তার চিকিৎসার দরকার হয়। আর এই অস্বাভাবিক ব্যাপারটা কখন বোঝা যায় জানেন? যখন সেই মানুষ তার “ভয়” নিয়ে

নিজের ও তার আশেপাশের মানুষজন কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই ভয় বা ফোবিয়ার তো শুনেছি অনেকরকম ধরন আছে একটা তো সোশ্যাল ফোবিয়া

হ্যাঁ। আর অন্যটা হল স্পেসিফিক ফোবিয়া।

স্পেসিফিক ফোবিয়া?

স্পেসিফিক ফোবিয়ার অনেকগুলো সাবটাইপ বা ধরন আছে-

প্রথমটা হল – অ্যানিম্যাল রিলেটেড ফোবিয়া। যেমন ধরুন কারুর কুকুরে ভয়, সাপে ভয় বা বিশেষ কোনও জন্তুর প্রতি ভয়।

দ্বিতীয়টি হল – এনভায়রনমেন্ট রিলেটেড ফোবিয়া। উদাহরন স্বরূপ কারুর বাজ পড়লে বা বিদ্যুৎ চমকালে ভয় করে। অথবা কোনও উঁচু জায়গা থেকে নিচের দিকে তাকালে ভয় করে।

তৃতীয়টা হল- রক্ত-ইঞ্জেকশন আঘাত জনিত ফোবিয়া।

আর চতুর্থটা হল – সিচুয়েশন স্পেসিফিক ফোবিয়া। যেমন ধরুন – প্লেনে চড়তে ভয়, কোনও বদ্ধ ঘরে থাকতে ভয়। খুব ভিড়ের জায়গায় ভয়।

এক্ষেত্রে কী করনীয়

এই স্পেসিফিক ফোবিয়াগুলোর ক্ষেত্রে একটা বোধহয় সুবিধে আছে। এগুলো আ্যাভয়েড করে চলা যায় অনেক ক্ষেত্রেই। যেমন ধরুন, যার রক্ত দেখলে ভয় করে, সে চাইলে ওই ধরনের সিচুয়েশন এড়িয়ে যেতে পারে। অথবা ধরুন উঁচু বাড়িতে উঠলে, নিচের দিকে তাকলে যার ভয়, সেও চাইলে ব্যাপারটা অ্যাভয়েড করতে পারে।

স্কুল পড়ুয়াদের খুব কমন একধরনের ফোবিয়া হয় স্কুলে যেতে ভয় পায় জেদ ধরেস্কুলে যাব না

 

হ্যাঁ স্কুল, ভাল প্রসঙ্গ তুলেছো। স্কুল ফোবিয়া। বেশ গুরুত্বপূর্ন সমস্যা এখন। এক্ষেত্রে আমরা স্পষ্ট একটা কারণ পাই ফোবিয়ার পেছনে । যেমন ধরুন অনেক সময় টিচাররা ঠিকমতন ট্যাকল করতে পারছেন না কোনও বাচ্চাকে। খালি বকছেন। আবার ধরুন, কোন বন্ধ দুষ্টুমি করছে – পেছনে থেকে জামাটা টানছে, মারছে, এই ধরণের। আর ক্লাসে পড়া না পারার জন্য সবার সামনে অপমান- যতই বাচ্চা হোক, হজম করা একটু কঠিন হয়ে যাচ্ছে আজকাল। এদের ম্যানিফেসটেসনগুলো ভারী মজার ঠিক স্কুলে যাওয়ার সময়ে মিথ্যে পেট ব্যথার ভান করল। আবার অনেকে আর এক কাঠি এগিয়ে গোঁ ধরে বসে থাকে- স্কুলে যাবই না।

এই সমস্যাতো বেড়ে চলেছে মা বাবাদের কপালে রীতিমতন ভাঁজ ফেলে দিয়েছে তা এক্ষেত্রে আপনাদের কাছে এলে আপনারা কী করেন? কাউন্সেলিং ? নাকি ওষুধেরও দরকার হয় ?

কাউন্সেলিং বা ওষুধ– কোনওটাই ঠিক নয়। সরাসরি স্কুলে গিয়ে কথা বলুন। শিক্ষকদের সঙ্গে, পারলে দু-একজন বন্ধুর সঙ্গে।

ভয় বা ফোবিয়ার চিকিৎসা কীভাবে করেন আপনারা ?

ছোটদের স্কুল ফোবিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারটা তো জানেন। এবার বলি সোস্যাল ফোবিয়ার ট্রিটমেন্ট নিয়ে। এক্ষেত্রে আমরা অনেক সময়ে ওষুধ দিই। অনেক সময়ে ওষুধ না দিয়ে বা ওষুধের সঙ্গে সিবিটি বা কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপির পরামর্শ দিই। এখানে বাড়ির লোক বা বন্ধুবান্ধবের ভূমিকাও কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ন। আর স্পেসিফিক ফোবিয়ার ক্ষেত্রে আমরা ওষুধের চেয়ে কগনেটিভ

বিহেভিয়ার থেরাপিতেই বেশি গুরুত্ব দিই।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top