Lifestyle - লাইফস্টাইল

কসমেটিক সার্জারির দৌলতে পেতে পারেন ফর্সা, টানটান ত্বকের ছিপছিপে শরীর

taut skin

শতাব্দীর পর শতাব্দী পার করে চেতনার ব্যাপ্তি আর বিজ্ঞানীর সাধনার অমৃতফল যেদিন টুক করে ঝরে পড়ল, মানুষ সেদিন জানান দিল আমি আর রূপের ক্রীতদাস নই। রূপ আমার ক্রীতদাস। নবঅধ্যায়, নবজীবন, নবচেতনা, পুরানো মরচে ধরা মন রাঙিয়ে দিল- ফেলে আসা শতাব্দীকে। এক দামাল হাওয়ার মতো ঢুকে পড়া একটি নতুন অভিধান প্রণীত হল- বেরিয়াট্রিক সার্জারি।

কসমেটিক সার্জারির দৌলতে বর্তমানে প্রায় সব কিছুই সম্ভব হচ্ছে। যেমন ধরুন চ্যাপটা বা বৌচা নাককে টিকালো করা, বয়স কমিয়ে ফেলা, লাইপোসাকশান করে শরীরের অবাঞ্ছিত মেদ সরিয়ে ফেলা ইত্যাদি।

বেরিয়াট্রিক সার্জারি

বেরিয়াট্রিক সার্জারি হল এক ধরনের সার্জারি যা শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য করা হয়। যে সমস্ত মানুষেরা মাত্রাতিরিক্ত মোটা হয়ে যাবার সমস্যায় ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত এই সার্জারি করা হয়ে থাকে। বেরিয়াট্রিক সার্জারি মূলত দুভাবে করা হয়ে থাকে_

রেসট্রিকটিভ সার্জারি;

গ্যাসট্রিক বাইপাস।

কাদের বেরিয়াট্রিক সার্জারি করা হয়ে থাকে

বেরিয়াট্রিক সার্জারি কিন্তু শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফেলা এবং ওজন কমাবার জন্য খুব একটা উপযোগী পদ্ধতি নয়। এর প্রচুর পার্শপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। তাই সব মোটা মানুষের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির ব্যবহার করা হয় না। কিছু বিশেষক্ষেত্রে এই সার্জারির ব্যবহার হয়।

বেশ কিছু মানুষের খাদ্যাভ্যাস দায়ী থাকে তাদের মোটা হওয়ার জন্য। যেমন-

জাঙফুড বা ফাস্টফুড খাবার প্রবণতা থাকে;

মানসিক অবসাদে আচ্ছন্ন হয়ে প্রায় সারাদিনই কিছু না কিছু হাইক্যালোরিযুক্ত খাবার খেতে থাকে;

যে সমস্ত রোগীর “বিএমআই” ৪০ এর বেশি (বিএমআই সংখ্যা হল শরীরের হাইট এবং ওয়েটের অনুপাত);

শরীরের ওজন যদি মাত্রাতিরিক্ত বেশি থাকে (ছেলেদের ক্ষেত্রে ১০০ পাউন্ড, মেয়েদের ক্ষেত্রে ৮০ পাউন্ড);

অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাওয়ার জন্য যদি হাইব্লাড প্রেসার, স্লিপ অ্যাপনিয়া এবং ডায়বেটিস হয়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

এই সার্জারির মাধ্যমে যেহেতু খাওয়ার অভ্যেস বদলায় তাই অনেকক্ষেত্রেই দুর্বলতা এবং ক্লান্তি অনুভব হতে পারে;

বেরিয়াট্রিক সার্জারিতে শরীরের মধ্যে অতিরিক্ত মেদ গলে যেতে থাকে ফলে দেহের চামড়া শিথিল হয়ে যায়;

অনেকক্ষেত্রে হারনিয়া, গলব্লাডারে স্টোন ইত্যাদি অসুখের আগমন হয়;

বেরিয়াট্রিক সার্জারি করাবার পর হাইব্লাড প্রেসার, হাই কোলেস্টেরল, স্লিপ অ্যাপনিয়া, টাইপ-২ ডায়াবেটিস-এর প্রাদুর্ভাব হতে পারে;

গ্যাসট্রিক বাইপাস সার্জারি করার পর ওজন কমে গেলেও পেটকে আরও আগের গঠনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় না।

সুতরাং ওজন কমাতে বেরিয়াট্রিক সার্জারি করা হয়ে থাকলেও এই সার্জারি শরীরের পক্ষে খুব একটা উপযোগী নয়।

তাই অনেক ক্ষেত্রেই ডাক্তারবাবুরা ব্যায়াম এবং সঠিক খাদ্যতালিকার মাধ্যমে অতিরিক্ত ওজন কমাবার পরামর্শ দেন। যদি দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় মাত্রাতিরিক্ত মেদ না কমে সেক্ষেত্রে এই সার্জারি করা হয়ে থাকে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top