Diet - ডায়েট

আপেল- মুক্ত কোষ্ট, মুক্ত মন অনায়াসেই মেদ-হরণ

The nutritional value of apples

আপেলের প্রসঙ্গ উঠলেই মনে পড়ে যায় সেই সুপ্রচলিত প্রবাদটিঃ An apple a day keeps the doctor away। শুধু আপেল নয়, প্রায় সব পুষ্টিকর ফলের ক্ষেত্রেই একথা সত্যি। তবে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেল ছাড়াও আপেলে সবচেয়ে বেশিমাত্রায় রয়েছে একটি মহামূল্যবান উপাদান-পেকটিন। পেকটিন ছাড়াও আপেলে রয়েছে ম্যালিক আ্যাসিড, যা অন্ত্র, যকৃৎ ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। আর আছে যথেষ্ট পরিমাণে ফসফরাস যা পাকস্থলীর প্রভূত উন্নতি সাধন করে। এ জন্য অনেকে যে মনে করেন আপেলের উপকার পেয়ারা মেটাবে সে ধারণা কিন্তু

পুরোপুরি ঠিক নয়।পেয়ারায় ভিটামিন সি-র প্রাচুর্য থাকলেও একযোগে পেকটিন আর ফসফরাসের ঐতিহ্য নিয়ে আপেল ফলের রাজা।

প্রতি ১০০ গ্রাম আপেলের পুষ্টি উপাদান এইরকম

জলীয় অংশ ৮৪.৬, প্রোটিন ০.২, ফ্যাটি ০.৫, মিনারেল ০.৩, ফাইবার ১.০, কার্বোহাইডেট ১৩.৪। এছাড়াও আছে ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন প্রভৃতি খনিজ লবণ, এবং স্বল্পমাত্রায় ভিটামিন-এ

বি-কমপ্রেক্স, ই ও সি। প্রতি ১০০ প্রামে তাপশক্তি রয়েছে ৫৯ ক্যালোরি।

যাইহোক, আধুনিক গবেষকরাও আপেলের মধ্যে যে সমস্ত রোগ নিরাময়ের সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন তার তালিকাও কম দীর্ঘ নয়।

তাদের মতে রোগ বিশেষ আপেলের ভূমিকা ও ব্যবহারবিধি এইরকম-

কোষ্ঠবদ্ধতা এবং ডায়ারিয়া

কাঁচা আপেল কোষ্ঠবদ্ধতা (কনস্টিপেশন) সারানোর এক মোক্ষম দাওয়াই। একটা মাঝারি কি দুটো ছোট কাঁচা আপেল সকালে খালি পেটে খেলে চমৎকার কাজ দেয়। সকালের কোষ্ঠমুক্তি, আনে পরিতৃপ্তি, আনে সন্তোষ। দিনভর আর অস্বস্তি নিয়ে কাটাতে হয় না।

আরেকটি অস্বস্তিকর রোগ- ডায়ারিয়া। এ রোগেও আপেল কার্ষকরী। কিন্তু কাঁচা নয়, এক্ষেত্রে আপেল খেতে হবে সিদ্ধ করে।

অ্যানিমিয়া

ফসফরাস, আর্সেনিক আর আয়রন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আছে বলে আপেল রক্তাল্পতার ক্ষেত্রে বিশেষ উপযোগী । তবে ঘরে তৈরি তাজা আপেল জুস এক্ষেত্রে বেশি কাজ দেয়। আপেল জুস খেতে হবে দুবেলা প্রধান আহারের আধঘন্টা আগে আর রাত্রে শয্যা নেওয়ার পূর্বে। এভাবে সারাদিনে মাঝারি সাইজের ৫-৭টি আপেলের রস খাওয়াই যথেষ্ট।

আমাশয়

ছোট ছেলে-মেয়েরা নিদারুণ আমাশয় ভূগলে মিষ্টি পাকা আপেল পিষে নিয়ে, বয়স অনুসারে ৩-১০ চা-চামচ করে সারাদিনে কয়েকবার খাওয়ানো যেতে পারে।

মস্তিষ্কের দুর্বলতা

কাজকর্মে অনীহা, বারে বারে কাজে ভূল হয়ে যাচ্ছে, কিংবা সামান্য কারণেই মেজাজটা গরম হচ্ছে, রাতেও ভাল ঘুম হচ্ছে না। এইসব উপসর্গে আযুর্বেদের নিদান হচ্ছে পরপর কয়েকদিন আধকাপ করে আপেলের রস পান করা।

হৃদরোগ

হৃদরোগীদের পক্ষে আপেল অত্যন্ত হিতকর। কেন না আপেলে আছে প্রচুর পটাশিয়াম আর ফসফরাস। অথচ সোডিয়াম রয়েছে স্বল্প পরিমাণে । যারা আপেল প্রভৃতি খাদ্যবস্তর মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম গ্রহণ করেন, তারা অনায়াসে হার্ট-অ্যাটাক এড়িয়ে যেতে পারে।

হাই ব্লাডপ্রেসার

হাই ব্লাড প্রেসারের ক্ষেত্রে আপেল বিশেষ উপকারী । আপেল খেলে প্রস্রাব বেড়ে যায় বলে রক্তচাপ নেমে আসে উল্লেখযোগ্যভাবে। এছাড়া আপেলে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে বলে, এর সুবাদে

রক্তে সোডিয়াম-ক্লোরাইড লবণের মাত্রা কমে যায়, ফলে কিডনির উপর চাপও কম পড়ে।

দাঁতের রোগ

খাওয়ার পরে দাঁত ব্রাশ করলে যা ফল হয়, খাওয়ার পর একটা কাঁচা আপেল চিবিয়ে খেলে একই উপকার পাওয়া যায়। অর্থাৎ যেমন দাঁত পরিষ্কার হয়ে নির্মূল হয় তেমনি আপেলের উপস্থিত

অ্যাসিড বীজাণুনাশক হিসাবে মুখও দাঁতের বীজাণু ধ্বংস করে দেয়।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top