Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

রক্তাল্পতা নিরাময়ে আয়ুর্বেদ

cure anemia

একজন সুস্থ পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রায় পাঁচ লিটার রক্ত থাকে। রক্তে লালকণিকার সংখ্যা এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে রক্তাল্পতা হয়। আয়ুর্বেদশাস্ত্রে রক্তাল্পতাকে পাণ্ডুর রোগ বলা হয়।

রক্তাল্পতার কারণ

রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে এমন সব উপাদানের ঘাটতি, যথা- লোহা, ফলিক আ্যাসিড, ভিটামিন বি-১২, কিছু খনিজ পদার্থ। শুধুমাত্র আমাদের মতো গরিব দেশেই নয় সারা পৃথিবীতেই লোহার ঘাটতিজনিত কারণই রক্তাল্পতার কারণ। লালকণিকা তৈরির জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দেহে রোজ এক মিলিগ্রাম এবং মেয়েদের দুই মিলিগ্রাম লোহার প্রয়োজন হয়।

লক্ষণ

সামান্য রক্তাল্পতায় অনেকসময়ই কোনও উপসর্গ বা লক্ষণ থাকে না। অন্য কোনও অসুখ চিকিৎসার সময় রক্তাল্পতার উপসর্গগুলি হল

ক্লান্তি লাগা, দুর্বল মনে হওয়া;

বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বিশেষ করে সিঁড়ি ভাঙতে গেলে, কারণ দেহ সেই সময় কম পরিমাণ অক্সিজেন পায়।

বুক টিপটিপ করা, মাথা ধরা, মাথা ঘোরা, পা জ্বালা করা, জ্বর, কাজে অনীহা, যৌন মিলনে অনীহা, সন্তান উৎপাদনে অক্ষমতা, অরুচি, চুলের উজ্জ্বলতা নষ্ট হওয়া।

এই রোগে আক্রান্ত হলে চামড়া ফ্যাকাশে হয়ে যাবে, জিভ, ঠোট, নখ এবং আঙুলের ডগাও ফ্যাকাশে দেখাবে। চোখ-মুখে ফোলা ভাব থাকে, পায়ের পাতাও ফোলা থাকে, হৃদপিগু বড় হয়ে যায় এবং অস্বাভাবিক ধ্বনি শোনা যেতে পারে । অনেক সময় লিভার বা পিলে বড় হয়।

কাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি

গর্ভবতী ও স্তন্যদায়িনী মহিলা, শিশু এবং অতিবৃদ্ধদের রক্তাল্পতা বেশি হয়।

রোগটি কি সংক্রামক

এই রোগ সংক্রামক ও বংশগত নয়।

প্রতিরোধ

রোগ প্রতিকারের থেকে রোগ প্রতিরোধ অনেক বেশি কাম্য। তাই যাদের রক্তাল্পতা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাদের দিকে বেশি নজর দিতে হবে। যেমন গর্ভবতী মহিলা ও স্তন্যদায়িনী মা।

পথ্য আহার

লৌহযুক্ত খাবার, যেমন- মাছ, মাংস, ডাল, সবজি উপকারী। শাকের মধ্যে উপকারী লাউশাক, কলমিশাক, হিঞ্চে শাক, নটেশাক, থানকুনি, কুলেখাড়া, পুর্ণলবাদি।

ওষুধ

সকালে উঠে ১টি নবায়শ লৌহ (বেটিকা) সঙ্গে ২ চামচ কুলে খাড়া রসের সহিত মধু সহযোগে সেব্য;

কুলে খাড়া ও থানকুনি কাঁচা দুধের সঙ্গে খেলে উপকারি।

তৈরি ওষুধ হিসেবে উপকারি

পুর্নলবাদি লৌহ, কান্তা লৌহ, মন্ডুর ভম্ম, আরোগ্যবর্তিনী, বিরঙ্গাদী লৌহ।

শাস্ত্রীয় ওষুধ

লৌহাসব, সারিবাদাসব, অশোকারিষ্ঠ, দ্রাক্ষাসব।

রোগ ও রোগীর উপসর্গ অনুসারে ওষুধ প্রয়োগ হয়। সেজন্য কবিরাজের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top