Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

শিশুর ত্বকের সমস্যায় আয়ুর্বেদ

skin problems

শৈশবে শিশুর ত্বক পাতলা পলকা হওয়ায় পারিপার্শিক পরিবেশ এবং জীবাণুর সংস্পর্শে ত্বকের কিছু সমস্যা দেখা যায়।

সাধারণভাবে শিশুর ত্বকে যে সমস্যাগুলি দেখা দেয়, সেগুলি হল-

অটোপিক ভার্মাটাইটিস

এর ফলে ত্বক চুলকায়, লাল হয়, জলের মতো স্রাব বেরোয় এবং পরে চামড়া শক্ত হয়ে যায়। এই ধরনের রোগে শিশুদের ভবিষ্যতে হাঁপানি হওয়ার সন্তাবনা থাকে।

চুলকোনা কমানোর জন্য বাচ্চাকে অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়াতে পারেন। এছাড়া আক্রান্ত স্থানে অ্যান্টিবায়োটিক এবং স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ লাগানো যেতে পারে।

ইনফ্যানটাইল সেবোরিক ভার্মাটাইটিস

সাধারণত ৩-৪ মাস বয়সের শিশুদের হয়। ত্বক মাছের আঁশের মতো হয়ে যায়। ত্বক ছাড়াও শরীরের অন্য অংশে দেখা যায়।

প্রতিরোধে ঘরোয়া পদ্ধতিতে নিম-হলুদ বেটে লাগাতে পারেন। এছাড়া স্টেরয়েড বা অ্যান্টিফাংগাস লোশন ব্যবহার করতে পারেন।

হারপিস জস্টাস

চিকেন পক্সের মতো রোগ, নার্ভের রুট ধরে হয়। যে কোনও সময়ে হতে পারে। এই সমস্যায় ত্বক জ্বালা করে, যন্ত্রণা দেয়। নিরাময়ের জন্য ব্যাকটিরিয়া প্রতিরোধ করতে হবে।

আমবাত

ত্বকে আমবাত হলে জায়গাটা ফুলে লাল হয়ে যায়। অ্যালার্জিজনিত কারণে হয়। যেমন- ধুলো ময়লা, ফুলের পরাগরেণু, খাওয়ার ওষুধ, এমনকী ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণেও হয়। কখনও কখনও আমবাত মারাত্মক আকার নিতে পারে।

এক্ষেত্রে অভিভাবকের সাহায্য নেওয়া হয়। আর যদি সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় সেটা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। উপশম হিসাবে বাচ্চাকে অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়াতে পারেন এবং সেই সঙ্গে স্টেরয়েড লোশন বা মলম লাগাতে হবে।

ন্যাপকিন ্যাস্ক

শিশুর শরীরের যে অংশে মল, মূত্র নির্গত হয় সেখানেই এটা দেখা যায়। রোগের জায়গায় অল্প লাল হয়। এই অসুখের চিকিৎসার প্রধান অঙ্গ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা । সেই সঙ্গে হাইড্রোকটিজন ০.৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ লাগাতে হবে।

ঘামাচি

ঘাম শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বাচ্চার ত্বকে ঘামাচি বেশি হলে নুন-চিনির সরবত খাওয়াতে হবে। ঘাম মুছিয়ে ফেলতে হবে।

বাচ্চার অত্যধিক ঘামাচি হলে গায়ে অ্যান্টি-ব্যাকটিরিয়া বা অ্যান্টি-ফাংগাসজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন।

শিশুদের ত্বকের যত্নে যা যা করণীয়

সদ্যোজাতকে জনবহুল ঘরে না রাখাই ভালো;

যারা হাত-পা না ধুয়ে ঘরে ঢোকেন, তাদের হাতে বাচ্চাকে দেবেন না;

২-৪ সপ্তাহের বাচ্চার গায়ে তেল ব্যবহার করা উচিত নয় কারণ তাতে বাচ্চার গায়ে র‍্যাশ বেরোতে পারে। প্রয়োজনে শুকনো কাপড় দিয়ে বাচ্চাকে মুছিয়ে দিতে পারেন;

বাচ্চাকে গরমে শীতল জলে আর শীতকালে ঈষদ উষ্ণ গরম জলে স্নান করানো ভালো;

ফোটানো জলে তুলো ভিজিয়ে বাচ্চার ত্বক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন;

ঠান্ডায় গরম জামা-চাদর ব্যবহার করতে হবে, তেমনি গ্রীষ্মকালে বাচ্চাকে খোলামেলা সুতির পোশাক পরাবেন;

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top