Mental health মনের যত্ন

শৈশবেই শিশুর পায়ে নিয়মের বেড়ি পরাবেন না

childhood

জীবনের সকল স্তরের একটা ভিন্ন বৈচিত্র রয়েছে। রয়েছে তার বিভিন্ন আঙ্গিকও। কথায় আছে যে বয়সে যেটা, সেই বয়সে সেটাই করা উচিৎ। কিন্তু বাস্তবে জীবন গড়ার তাগিদে অতলে তলিয়ে যায় শৈশবের সেই নানা রঙের দিনগুলি।এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলেন- ডা. কেদাররঞ্জন বন্দোপাধ্যায়

ফিকে হয়ে যাওয়া শৈশব

তিতলি, বয়স তার ১৩ বছর। পড়াশুনায় বেশ ভাল, কিন্তু সমস্যা তার একটাই, মন খুলে সকলের সাথে মিশতে পারে না সে। সবসময় চুপচাপ। কোনও কথা যদি তাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় তাহলেও সে মন খুলে জানাতে পারে না কাউকে। কোথাও যেন একটা শূণ্যতা কাজ করে এই বয়সে। ভাবুন তো একবার, এই ভাবে যদি সকল বিষয় সে নিজের মধ্যে চেপে রাখতে শুরু করে, ভবিষ্যতে পথ চলাটা তার জন্য কতটা সমস্যাপূর্ণ হতে পারে ?

একাকীত্ব

এই ধরনের সমস্যার কারণ কিন্তু একটাই, তাদের একাত্ব মনোভাব। সঠিক সময়ে কাউকে পাশে না পাওয়া। অথচ মা-বাবারা মনে করেন। কেবল মাত্র পুঁথিগত বিদ্যাই একজন সঠিক ব্যক্তির পথ চলার পাথেয় হতে পারে। কেন তৈরি হল সে সমস্যা, তা না ভেবে তারা দারস্থ হয়। ডাক্তারের কাছে পরামর্শের জন্য, গোপন সমস্যা কোথায়? আসলে তার একটাই সমস্যা কোনও এক সময় সেও চায়, খোলা আকাশ, খেলার মাঠ।

সমস্যা সৃষ্টির মূল কারণ

ছোট থেকেই তাদের পায়ে বেড়ি পরানো;

সকলের সাথে মিশতে না দেওয়া; সব জায়গায় তাদের না নিয়ে যাওয়া;

আলাদা পড়ার ঘর, আলাদা জগৎ তৈরি করে দিয়ে নিজের থেকে দুরে রাখা;

তাদের চাহিদা, তাদের আবদার সম্পর্কে সচেতন থাকা;

সংসারে তাদের কোনও ভূমিকাই না থাকা;

বিকেল বেলায় খেলতে না দেওয়া;

বেশির ভাগ কথাই তাদের থেকে এড়িয়ে চলা;

কোনও বিষয় অতিরিক্ত প্রশ্ন করা প্রভৃতি।

বয়স সন্ধিক্ষণের সংশয়

বয়স সন্ধিক্ষণে শিশুরা তাদের নিজের একটা অধিকার পেতে চায়, তৈরি হয় তাদের নিজের মতামত প্রদর্শন করার ক্ষমতা, এই সময় তাদের চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে রাখা মানেই, তাদের ভেতর তৈরি হতে থাকে এক শূন্যতা, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে চুড়ান্তভাবে প্রভাব ফেলে। প্রয়োজনে ওষুধ নিশ্চয়ই দিয়ে থাকি, কিন্তু অধিকাংশ সময় তারা সেই সকল কথা একটু ভরসা পেলেই বলে দেয়। কারণ এই বয়সেই তারা হাত বাড়ায় এমন এক বন্ধুর খোঁজে, যাকে সে সকল কথা বলতে পারে, বিশ্বাস করতে পারে। তাই এই সময় মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কী কী করণীয়

সবার আগে চেষ্টা করুন আপনার সন্তানের ভালো বন্ধু হওয়ার;

এই সময় শাসন নয়, সমস্যা জানুন কথার ছলে;

এই বয়সে অযথা গায়ে হাত তুললে তাদের আত্মসম্মানে লাগে, তাই বুঝিয়ে সমস্যার সমাধান করুন অধিকাংশ সময়;

বিকেলে আর পাঁচটা বাচ্চাদের সাথে মাঠে বা পাড়ায় খেলতে দিন;

অধিকাংশ সময় তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করুন;

প্রয়োজনে তাদের সাথে ঘুরতে যাওয়া বা তাদের সাথে একটু সময় কাটানো;

অল্পবিস্তর তাদের বাড়ির কাজে লিপ্ত করুন;

নতুন কোনও বিষয়ে আগ্রহ দেখালে তা এড়িয়ে না গিয়ে যথা সম্ভব তাদের প্রশ্নের মার্জিত ভাবে উত্তর দিন;

সবসময় সন্দেহ না করে, কখনো-সখনো নিজেই যাচাই করে দেখুন তার চলন-বলন;

যাই করুক, পড়াশুনাটা তো ঠিক করে, এমন ধারণা পোষণ করার কোনও মানেই হয় না।

তবে এগুলো তো সমস্যা সৃষ্টি না হওয়ার উপায়ের কথা বললাম, কিন্তু যাদের মধ্যে ইতিমধ্যে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে বিলম্ব না করে যে কোনও মনবিদের পরামর্শ নিন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top