Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

ফাইব্রয়েড থেকে গর্ভপাত

fibroids

ফাইব্রয়েড এর সমস্যায় আজকাল প্রায়ই ভোগেন মহিলারা। পাঁচজনের মধ্যে একজনের এই রোগ হয়ে থাকে। কিন্তু এই সমস্যাটা আসলে কী এবং এর সমাধানই বা কোন উপায়ে সম্ভব- এই নিয়ে বিস্তারিত জানালেন বিশিষ্ট গাইনোকলজিস্ট।

ফাইব্রয়েড কী

ফাইব্রোস টিস্যু এবং স্ম্দমাসল-এর এক ধরনের গ্রোথ বা টিউমার (নন-ক্যানসারস)।

ফাইব্রয়েড কোথায় হয়

ইউটেরাস-এ। ফ্রাইবয়েড কে আবার মায়োমাস অথবা ফাইব্রোমায়োমাসও বলা হয়।

ফাইব্রয়েডএর আয়তন

নির্দিষ্ট থাকে না। এক একজনের এক একরকম হয়। কারুর বড়, কারুর আবার ছোট।

কোন বয়সে হয়

সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এই সমস্যা দেখা যায়।

ফাইব্রয়েডএর প্রকারভেদ

সাধারণত চার প্রকার। কোন জায়গায় এটি হয়েছে সেই অনুসারে তার নামকরণ হয়ে থাকে।

ইউটেরাস বা জরায়ুর দেওয়ালে যদি কোন ফাইব্রয়েড হয়, তাকে বলে ইনট্রামিউরাল ফাইব্রয়েড।

জরায়ুর বাইরের দেওয়ালে যদি কোন ফাইব্রয়েড এবং তা বেশ বড় হয় তাকে বলা হয় সাবসোরস্যাল ফাইব্রয়েড।

জরায়ুর ভিতরকার লাইনিং-এর গায়ে যদি কোন গ্রোথ হয় তাকে বলে সাবমিউকোসাল ফাইব্রয়েড।

সারভিক্স-এর গায়ে যদি কোন ফাইব্রয়েড হয়, তাকে বলে সারভাইক্যাল ফাইব্রয়েডস।

কী সমস্যা হয়

ফাইব্রয়েড থাকলে সাধারনতঃ বেশির ভাগ মহিলাদের কোন উপসর্গ থাকে না। আবার অনেকেই সচেতন নন ফাইব্রয়েড নামক সমস্যাটিতে। কিন্তু এর জন্য যদি শারীরিক কিছু অসুবিধা দেখা দেয়, তাহলে তারা ভূগতে পারেন এইসব সমস্যায়-

যন্ত্রনাদায়ক এবং খুব বেশি ব্লিডিং। যার থেকে অ্যানিমিয়া পর্যন্ত হতে পারে।

তলপেটে অস্বস্তি এবং ফাইব্রয়েড-এর আকার বেড়ে গেলে তলপেট ফুলে ওঠে।

ব্যাক এইচ অথবা পায়ে ব্যথা।

বারবার প্রস্রাব হওয়া। ফাইব্রয়েড ব্লাডার-এর উপর চাপ দিলেই এই সমস্যা হয়।

কনস্টিপেশন

যদি সারভিক্সের নিচের দিকে ফাইব্রয়েড থাকে। তাহলে শারীরিক মিলনের সময় ব্যথা ও অস্বস্তিভাব হয়।

কিছুক্ষেত্রে সম্তানহীনতার ও বারবার গর্ভপাতের সমস্যা।

কারণ

সঠিক কারণ এখনও জানা না গেলেও বলা যায় হরমোনের তারতম্য ফাইব্রয়েড-এর একটি কারণ।

চিকিৎসা

যদি ফাইব্রয়েড-এর কোনও উপসর্গ না থাকে, তাহলে চিকিৎসার খুব প্রয়োজন হয় না।

যারা অল্পস্বল্প সমস্যায় ভুগছেন (যেমন বেশি পিরিয়ড ইত্যাদি) তাদেরও ট্রিটমেন্টে যাবার খুব দরকার নেই। কারণ মেনোপজের পর হরমোনাল কারণেই ফাইব্রয়েডগুলি অনেক ছোট হয়ে যায়। বিভিন্ন উপসর্গ বা সমস্যা নিজে থেকেই কমে যায়।

কিন্তু সমস্যা যদি বেশি হয়, তাহলে চিকিৎসকরা ওষুধ এবং প্রয়োজনে অপারেশন-এর পরামর্শও দিয়ে থাকেন।

ফাইব্রয়েড-এর সমস্যা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য গোনাডোট্রপিন রিলিজিং হরমোন এগোনিস্ট ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়।

ফাইব্রয়েড-এর অত্যাধুনিক চিকিৎসা হল ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স গাইডেড পারসুটেনিয়াস লেজার অ্যাবলেশন এবং ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স গাইডেড ফোকাস্ড আললট্রাসাউণ্ড সার্জারি।

ফাইব্রয়েড নিয়ে অযথা টেনশন করবেন না। উন্নতমানের চিকিৎসা আছে। উপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে সম্পূর্ণভাবে সেরে ওঠা সম্ভব।

আর একটি কথা দৈহিক ওজন যাদের বেশি তাদেরই এই সমস্যা হতে বেশি দেখা যায়। কাজেই ওজন যাতে না বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top