Mental health মনের যত্ন

ব্যর্থতার পরিণাম কী তবে ডিপ্রেশন!

failure

প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতার শিকার হলেও প্রথম সারিতে স্থান মেলে না সকলের। ফলত আপাতদৃষ্টিতে পিছিয়ে পড়া, আর এ জগতে পিছিয়ে পড়া মানুষ মূল্যহীন, অপাংতেও। এই ধারনা থেকেই জন্ম নেয় ডিপ্রেসন, যা মানুষকে ক্রমশ আরও পিছিয়ে পড়তে সাহায্য করে। কিন্তু মনোবিদের মতে ব্যর্থতা কখনই ডিপ্রেশনের কারণ হতে পারে না, মানসিকভাবে হার শিকার করার অর্থই ডিপ্রেশন জানালেন- ডা. কেদার রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে তার সহপাঠী বন্ধুদের থেকে। এই নিয়ে প্রত্যহ বাড়িতে অশান্তি দানা বেঁধেছে। কয়েকদিন যেতে না যেতেই পরিবারের বেশ কয়েকজন ভবিষ্যৎ বাণীও করে ফেলল তাকে দিয়ে আর কিছু হওয়ার নয়। ফলত শিশুটির মনেও এক ভ্রান্ত ধারনার জন্ম নিল হীনমন্যতা, সেখান থেকেই জন্ম নিল উদাসীন মনোভাব।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির ফলে শিশুরা যে ধরণের সমস্যায় পড়ে তা হল

অতিরিক্ত পড়ার ফলে শিশুর মস্তিষ্কে চাপ পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে ভুলতে থাকে যাবতীয় পড়া বিষয়।

বইয়ের প্রতি তৈরি হয় এক চরম অনীহা।

ভালোবেসে কোনও বিষয়কে জানার আগ্রহ হারাতে থাকে।

প্রতিদিন স্কুল যেতে না চাওয়া।

“আমি বুঝতে পারছি না” এই ধারনা মনের মধ্যে ঢুকে যাওয়া।

সহপাঠীদের তুলনামূলকভাবে বেশি নম্বর হলে নিজেকে তাদের মধ্যে থেকে গুটিয়ে নেওয়া।

এইভাবেই একটা শিশুর ভিত অপরিণত থেকে যায়। যার প্রভাব পড়ে একটু উঁচু ক্লাস থেকে। অতএব, শিশুদের এই অবস্থার জন্য দায়ী তার পরিবেশ ও অভিভাবক। কোনও শিশুই প্রথম থেকে সব জানতে পারে না।

এক্ষেত্রে অভিভাবকের উচিৎ

বইয়ের থেকে শিশুকে প্রতিদিন বেশকিছুটা সময় সরিয়ে রাখা।

নানান বিষয় নিয়ে শিশুর সঙ্গে আলোচনা করা। তাতে তাদের পড়ার বইয়ের পাশাপাশি বাইরের জগৎ সম্পর্কেও একটা ধারনা থাকবে।

বাস্তবিক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তাদের ঠিক ও ভূলের সঠিক জ্ঞান দেওয়া। কারণ জীবনে সঠিকভাবে চলতে গেলে কেবল মাত্র পুঁথিগত বিদ্যাই সব নয়, নৈতিক শিক্ষারও প্রয়োজন।

মাঝে মধ্যে শিশুকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া, তা থেকে তাদের মনে ধারনা জন্মাবে শুধু পড়া নয়, তার ভালোলাগার দিকেরও খেয়াল রাখে বাবা-মা।

কখনও কারুর ভূল চোখে আঙুল দিয়ে বারবার দেখিয়ে দেবেন না, যেমন- তোমার দ্বারা অঙ্ক হবে না। এই মন্তব্য করা মানেই সে বুঝে যায়, মা যখন বলছে তার মানে আমি পারবই না।

যে কোনও বিষয় পড়ানোর আগে তা সম্পর্কে গল্পের মাধ্যমে তাদের মনে একটা ধারনা তৈরি করে দিন, তা থেকে বিষয়টির প্রতি তার আগ্রহ বাড়বে।

রোজের রুটিনে যেমন স্কুল, পড়া থাকে তেমনই খেলা, টিভি দেখা, বাবা-মার সঙ্গে সময় কাটানোর বিষয়গুলোও নজরে রাখুন।

প্রতিটা মুহুর্তে শিশুকে বুঝতে দিন তার পক্ষেও ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব।

বন্ধুর মতন মিশুন। যাতে শিশুরা আপনার প্রতি ভয় কাটিয়ে মন খুলে তার সমস্যাগুলো বলতে পারে।তাহলেই দেখবেন অনেকটা সমস্যা কেটে গেছে।

এই ধরনের সমস্যা যাতে তৈরি না হয় তার জন্য

প্রতিদিন স্কুলে যেটুকু বিষয় পড়াচ্ছে শুধু সেইটুকুই ভালো করে পড়ান।

মাঝে মধ্যে পুরনো বিষয়গুলি একবার করে দেখে নিতে বলুন।

স্কুলের পড়ার পাশাপাশি বাড়িতে তিনজন গৃহশিক্ষকের পড়ার চাপ দেবেন না।

বিভিন্নভাবে বিভিন্ন পদ্ধতিতে কোনও জিনিস বোঝাবেন না।

অহেতুক বকাবকি করে শিশুর রাগ বা জেদ বাড়িয়ে তুলবেন না।

মাঝে মধ্যে স্কুলে গিয়ে তাদের প্রতিদিনের কার্যকলাপের সঙ্গে অবগত থাকুন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top