Lifestyle - লাইফস্টাইল

সবুজ নীলের জলছবি শিবখোলা অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প

Shivkhola

হিলকার্ট রোডের ধারে শিল্পীর হাতে আঁকা এক মহার্ঘ্য চিত্রকলার মতো । গাছে গাছে বহু প্রজাতির চেনা-অচেনা পাখির সংসার। শিলিগুড়ির পক্ষীপ্রেমিক বাসিন্দারা শনি-রবির ছুটি পেলেই রংটং ঘুরে যান গলায় ক্যামেরা ঝুলিয়ে। তেমন কয়েকজনের সঙ্গে এক সকালে পৌঁছে গেলাম প্রকৃতির খেলাঘরে। উদ্দেশ্য রংটং-এর কাছে নতুন গন্তব্য শিবখোলা ভ্রমণ।

রাস্তার ধারে গুটিকয়েক হোটেল। মোমো দিয়ে প্রাতরাশ সেরে হাঁটতে থাকি টয় ট্রেনের স্টেশনের দিকে। সামান্য যেতেই হিলকার্ট রোড থেকে ডানদিকে একটি শাখা রাস্তা চলে গিয়েছে পাহাড়ের ওপর দিকে। একধারে পাহাড়ের দেয়ালে লেখা, শিবখোলা অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পে স্বাগত। ব্যস, রাস্তা চিনে নেওয়া গেল। গাড়ি ঘুরল সেদিকে।

নতুন রাস্তায় একটা বাঁক ঘুরতে সবুজ পাহাড়ের আড়ালে রংটং হারিয়ে গেল। আরও একটা বাঁক নেবার পর অপরূপ অচিন জগতের দরজা খুলে গেল চোখের সামনে। শিলিগুড়ির বন্ধুরা ইতিপূর্বে অনেকবার রংটং এলেও এই পথে আমার মতোই প্রথম।

কি দেখবেন

দুপাশে যত দুর চোখ যায় পাহাড়ের গায়ে ঢেউ খেলানো চাবাগিচা।

মেঘ ও রোদ্দুরের খুনসুটি মাখা অমল আলোয় ভেসে যাচ্ছে চরাচর। মনে হচ্ছে যেন জগতে দুটি রঙের হাজারটা সেড আছে, আর কোনও রঙ নেই।

বনবাগিচার সবুজ আর আকাশের ধূসরমাখা নীল। এই চাবাগানের নাম নরবুং টি এস্টেট।

পাশেই সিপাইধুরা টি এস্টেট। হঠাৎ দেখি এক জায়গায় পাহাড় গড়িয়ে নেমেছে কয়েক হাজার ফুট।

সেখানে একটা ভিউপয়েন্ট তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে পাখির চোখে শিলিগুড়ি শহর দেখা যাচ্ছে। তার চারপাশ জুড়ে কত নদীর কাটাকুটি খেলা।

পাহাড়ে রোদ্দুর হলে কী হবে, ঘন কালো ও ধূসর মেঘ পুঞ্জ ছেয়ে আছে শিলিগুড়ির আকাশে । যেন কল্পনার রঙে আঁকা একটা ছবি।

শিবখোলার দিকে আরও এগোই, চারপাশ থেকে আরও যেন ঘিরে ধরে চাবাগানের সবুজ সমুদ্র।

নানা রঙের পোশাকে সজ্জিত মহিলাদের পিঠে টুকরি নিয়ে দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি তোলার চিরনতুন দৃশ্যে বার বার নজর আটকে যায়।

গ্রামবাসীর থেকে জানা গেল, শিবখোলা এই এলাকার একটি প্রসিদ্ধ তীর্থস্থান।

গাড়ি যেন পাহাড়ের ছায়ায় ছায়ায় পাতালে নেমে যেতে থাকে। কয়েকটা হাড় হিম করা হেয়ারপিন বেন্ড পৌঁছে দিল এক পাগলপারা নদীর কাছে। এই নদীর নাম শিবখোলা।

তিনটি নদীর মিলিত স্রোতধারা বর্ষার প্রশ্রয় পেয়ে গর্জন করছে। পাহাড়ের দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে কানে তালা লাগার উপক্রম। একটা ছোট সেতু অতিক্রম করার পর রাস্তার বাঁদিকে মন্দিরে যাবার বিরাট গেট দেখা গেল।

জনমানবহীন পাহাড়ের সানুদেশে নদীর ধারে পাঁচিল ঘেরা শিবখোলার বিরাট শিবমন্দির এলাকা।

একেবারে বিপরীত প্রান্তে শিবখোলা যেখানে একটা মনোরম বাঁক নিয়েছে তার ঠিক পাশে প্রাচীন শিবমন্দির। গর্ভগৃহে শিবলিঙ্গ।

পাহাড়ের নানা উচ্চতায় আরও কয়েকটি মন্দির আছে। কিন্তু পুরোহিত নেই এবং সব মন্দিরের গেট তালাবন্ধ।

কোথায় থাকবেন

সুবাস ঘিসিং-এর সময় তৈরি হওয়া একটা গেস্টহাউস। পাহাড়ে রাজনৈতিক পালা বদলের পর বহু টাকা ব্যায়ে নির্মিত বাড়ি পরিত্যক্ত।

এখন তাই একটাই থাকার জায়গা এখানে, শিবখোলা অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পে।

মহানন্দা নদীর ওপারে সবুজ বনে ঢাকা পাহাড়ের ছায়ায় তাবু আবাস দেখা যেতে মন নেচে ওঠে।

এ তো প্রকৃতির কোলের ভেতরে থাকা, নদীর নিরন্তন সঙ্গীতের আবহে।

গোড়ালি ডোবা জলের ওপর দিয়ে বোল্ডার বিছানো পথ অতিক্রম করে গাড়ি সোজা ক্যাম্পের দরজায় পৌঁছে দিল।

থাকার ব্যবস্থা, রান্না খাওয়ার জায়গা সবই আমাদের চেনা জগতের থেকে আলাদা।

এখানে নানানরকম অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস-এর আয়োজন করা হয় বলে এর নাম অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প।

ক্যাম্পের পরিচালক বললেন, “আপনাদের জন্য নদীর বুকে ন্যাচারাল সুইমিং পুল বানানো আছে। ঝকঝকে পরিস্কার জল। এখনই নেমে পড়ে দেখুন স্নানের মজা কাকে বলে।

পর্যটন বান্ধব সরকার রাস্তাঘাট সারাই করে দিলে শিবখোলা থেকে মহলদিরাম পর্যন্ত বিস্তীর্ণ পার্বত্য ভূমিতে পরিবেশ বান্ধব গ্রামীণ পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top