Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

আমাশয় বা প্রবাহিকা রোগ নিরাময়ে আয়ুর্বেদ

Ayurveda

প্রবাহিকা নামকরণ করার হিসাবে বলা হয়, যে এই রোগের প্রবাহন অর্থাৎ কুন্থন সহ মল নির্গত হয়। এই রোগে বায়ুর প্রকোপজনিত কারণে সঞ্চিত কফ মলের সঙ্গে বার বার অল্প পরিমাণে অধঃপ্রেরিত হয়ে থাকে।

বর্তমানকালে আমরা আমাশয় রোগের সাথে প্রবাহিকা রোগের সর্বাধিক সাযুজ্য দেখতে পাই এবং সাধারণভাবে ওষুধ-পথ্য-নিয়মাবলী প্রভৃতি একইরকমভাবে অনুসৃতি হয় আরোগ্যলাভের উদ্দেশ্যে।

রোগ লক্ষণ

এই রোগে বায়ু, পিত্ত, কফ ও রক্তকুপিত হয়ে বিভিন্নপ্রকার লক্ষণ সৃষ্ট করে থাকে। যেমন-

যাতকরুক্ষ, অপ, ফেনযুক্ত মল নির্গমণ, বেদনা প্রভৃতি সহ অল্প পরিমাণে বার বার মল নির্গত হয়, এবং উদরে অত্যন্ত কামড়ানি অনুভব করা যায়।

পিত্তজএই প্রকার প্রবাহিকা রোগে গুহ্যদেশে অত্যন্ত জ্বালা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, গাত্রদাহ প্রভৃতি হয়ে থাকে। উষ্ণ ও তীক্ষ দ্রব্য অতিসেবন এই রোগের অন্যতম কারণ।

কফজ স্নিগ্ধ, সকফ-মল নিঃস্বরণ হয়।

রক্তজএইপ্রকারের মলের সাথে রক্ত নির্গত হয়। এই প্রকার প্রবাহিকা রোগেও তীক্ষ্ণ ও উষ্ণ দ্রব্য অতিসেবনে হয়ে থাকে।

আমাশয় রোগ

উপরোক্ত প্রায় সকলপ্রকার রোগলক্ষণ এবং বিভিন্ন বর্ণভেদ আমাশয় রোগেও দেখা যায়। এই রোগের কারণ হিসাবে সাধারণভাবে Entamoeba Histolytica নামক পরোজীবী আদ্যপ্রাণীটিকে (Protozoan Parasite) চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি ছাড়াও E.Dispar প্রভৃতি প্রজাতির জীবাণু আছে যাদের অধিকাংশ কোনো রোগলক্ষণ প্রকাশ করে না।

রোগ ছড়ানোর মাধ্যম

এই রোগ অনুন্নত জীবনযাপন প্রণালী দারিদ্রতা প্রভৃতির হাত ধরে এগিয়ে চলে।

আমাদের মতো স্বাস্থ্যক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা দেশে এই রোগ প্রবল পরাক্রান্তভাবে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে।

মাঠে-ঘাটে শৌচকর্ম, বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব, অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন, কাঁচা খাওয়া ফল সবজি, হাতের বড় নখ প্রভৃতি দ্বারা সবথেকে বেশি এই রোগ ছড়ায়।

এছাড়াও আরশোলা, মাছি, অন্যান্য পোকামাকড় এবং বিশেষ কিছু যৌন সংসর্গ দ্বারাও এই রোগ ছড়ায়।

রোগ প্রতিরোধের উপায়

সঠিকভাবে শৌচালয় ব্যবহার করা উচিৎ।

জলে কোনওরকম জীবাণুযুক্ত মলাদি দ্রব্যসমুহ যাতে না মেশে তা নিশ্চিত করতে হবে। জল ফিল্টার করে বা ফুটিয়ে খাওয়া তুলনামুলক সুরক্ষিত।

খাদ্যকেও অনুরূপভাবে পরিষ্কার জল বা কিছু বিশেষ যৌগ দ্বারা জীবাণুমুক্ত করা উচিৎ। বিশেষত কাঁচা খাওয়ার উপযোগী ফল প্রভৃতি।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জনসচেতনতা প্রভৃতির প্রসার না ঘটলে কোনো পরিবর্তনই সফল হয়ে উঠবে না। জল, খাদ্য প্রভৃতি যারা ঘাঁটে তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরী।

রোগলক্ষণযুক্ত বা বিহীন যেকোনো ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি রোগের জীবাণুর বাহক না বাহক নয় তা নির্ধারণ করতে মল পরীক্ষা ও বিভিন্ন সেরোলজিক্যাল পরীক্ষা করা যেতে পারে।

বর্ষায় এই রোগের প্রকোপ বাড়ে তাই ওই ঋতুতে অধিক মাত্রায় সচেতন থাকা জরুরী।

চিকিৎসা

প্রবাহিকা রোগে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বিভিন্ন ওষুধ, ভেষজ প্রভৃতি প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে। রোগ ও রোগীর অবস্থা অনুসারে ওই সকল প্রয়োগ করা উচিৎ।

পিপুল, শুঠ (আদা, বেল), ধনে, জিরা, জোয়ান, বচ, বালা, নাগরমুখা, চিতা, কুঠজ, অম্লদাড়িম, ইন্দ্রসব, আতইচ, দারুহরিদ্রা, লোঠ, মরিচ, কুড় প্রভৃতি ভেষজ ও কয়েক শতাধিক কার্যকরী ওষুধ ও দ্রব্যযোগের উল্লেখ পাওয়া যায়।

এছাড়াও যারা দীর্ঘদিন ধরে এই রোগে ভুগছেন তারাও ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত আয়ুর্বেদ চিকিৎসার বহু পরীক্ষিত সুফল প্রহণ করতে পারেন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top