Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

বন্ধ্যাত্ব- বিষয়টিকে একটু সহজভাবে নিন

Infertility

সেকাল থেকে একালে বন্ধ্যাত্ব নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা নারীর। এ যেন কেবলমাত্র তারই অপমান, তারই লজ্জা। কিন্তু বিষয়টিকে রোগ হিসাবে না দেখে একটি অন্তরায় ভাবুন। সহজ সমাধানের জন্য চলে যান চিকিৎসকের কাছে। সঠিক চিকিৎসার মধ্যে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জীবনে নেমে আসতে পারে অভিনব সুখ। বন্ধ্যাত্ব নিয়ে নানান প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিশিষ্ট গাইনিকোলজিস্ট।

বন্ধ্যাত্বের কারণগুলি কি কি?

প্রাথমিকভাবে বন্ধ্যাত্বের তিনরকম কারণ পাওয়া যায়-

পুরুষদের দিক থেকে কোনওরকম ঘাটতি।

মহিলাদের দিক থেকে ঘাটতি।

পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই সমস্যা।

পুরুষদের ক্ষেত্রে কি ধরনের সমস্যা হয়?

পুরুষদের ক্ষেত্রে অনেক কারণেই সমস্যা আসে । যেমন, যে শুক্রাণুটা তৈরি হচ্ছে সেটা সক্রিয় নয়, অথবা স্পার্ম কাউন্ট কম হচ্ছে।

হাই-ব্লাডসুগার/নিউরোলজিক্যাল কোনও সমস্যা এবং হরমোনাল কোনও গণ্ডগোল থাকলেও পুরুষদের দিক থেকে সমস্যা আসতে পারে।

এছাড়া যারা ড্রাগ বা অ্যালকোহলের নেশায় আসক্ত থাকেন তাদের দিক থেকেও সন্তান হওয়ার সমস্যা হতে পারে।

যারা বেশি সাইকেল চালান, টেসটিসে বেশি চাপ পড়ার কারণে যথাযথ শুক্রাণু নির্গমনে সমস্যা হতে পারে।

তবে মানসিক চাপ পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে একটি বড় কারণ।

মেয়েদের বন্ধ্যাত্বের কারণগুলি কি কি?

মেয়েদের প্রথমেই গঠনগত সমস্যা আছে কি না দেখে নিতে হয়।

এছাড়া প্যাসেজ ব্লক, হরমোনাল গণ্ডগোল, পলিসিস্টিক ওভারি, ওবেসিটি এবং ইউটেরাস না থাকার মতো সমস্যাও থাকতে পারে।

খুব বেশিদিন যদি কেউ কন্ট্রাসেপটিভ পিল খায়, তাহলে কি বন্ধ্যাত্ব আসার সম্ভাবনা থাকে

মোটেই নয়, পিল খেলে মেয়েদের শরীরের সবরকম অর্ডার ফাংশন একদম ঠিকঠাক থাকে। হরমোনাল ফাংশন ঠিক হওয়ার কারণে প্রতিমাসে নিয়মিত পিরিয়ডও হয় এবং কন্ট্রাসেপটিভ পিল ছেড়ে দেওয়ার তিন থেকে ছয় মাসের মাথায় সন্তান ধারণ সম্ভব হয়।

বেশি বয়সের সঙ্গে কি বন্ধ্যাত্বের কি কোনও সম্পর্ক আছে?

সাধারণত পঁয়ত্রিশ বছরের পর বিয়ে হলে সমস্যা হয়। একটু বেশি বয়সে বিয়ে হলে, বেশ কয়েকমাস মেলামেশা করলেও যদি সন্তান না আসে, তখন একটা চেক-আপ করে নেওয়া দরকার।

বিয়ের পর সাধারণ সহবাসের সম্পর্ক হওয়ার পরও যদি সন্তান না আসে ঠিক কতদিন পরে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত?

সাধারণ মেলামেশা হল, কোনওরকম কন্ট্রাসেপটিভ ছাড়া অথচ সন্তান আসতে দেরি হচ্ছে, এক্ষেত্রে অন্তত দু’বছর সময় তো অপেক্ষা করতেই হয়।

মহিলাদের ক্ষেত্রে কীরকম পরীক্ষা করা হয়

প্রথমেই আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করে ভেতরের পজিশন দেখে নেওয়া হয়।

থাইরয়েড-এর সমস্যা থাকলেও পরীক্ষা করে দেখতে হয়।

প্যাসেজ ব্লক আছে কি না দেখার জন্য ল্যাপারোস্কোপি ডাই টেস্ট করতে হয়।

এছাড়া জরায়ুর ভেতর থেকে টিস্যু নিয়ে ডি সি করার প্রয়োজন হতে পারে। সবরকম ইনভেস্টিগেশন করার পর যে ব্যাপারটায় তার সমস্যা আছে সেদিকে চিকিৎসা শুরু করা হয়।

পুরুষদের ক্ষেত্রে কীরকম চিকিৎসা করা হয়?

পুরুষদের স্পার্ম কাউন্ট ঠিক আছে কি না দেখে নেওয়া হয়।

সিমেন টেস্ট করা হয়।

এছাড়া প্লাস্টিক সার্জারি করে অ্যানালাইজেশনের মধ্যে দিয়ে পরীক্ষা করতে হয়। এমনকী টেস্টিক্যুলার বায়োপসিও করতে হয়।

এইসব পরীক্ষানিরীক্ষা করার মধ্যে দিয়ে যাওয়া মানেই তো বেশ ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার ?

হ্যাঁ, এই চিকিৎসা পদ্ধতিটাই খুব ব্যয়বহুল। হয়তো মধ্যবিত্তের আয়ত্তের বাইরে । অনেকরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তবে মূল চিকিৎসায় যেতে হয়।

কতদিন চিকিৎসা চলার পর একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়?

সাধারণত ছ’মাস থেকে একবছরেই চিকিৎসা সম্পূর্ণ হয়। তখন সে সন্তান ধারণ করতে পারে, কেউ কেউ তার আগেই সন্তান ধারণ করে ফেলেন। তবে দু’বছর চিকিৎসা চলার পর আমরা বুঝতে পেরে যাই, তখন অ্যাডপ্ট করার কথা বলি।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top