Mental health মনের যত্ন

সম্পর্কের টানাপোড়ন প্রভাবিত করতে পারে শিশুকে

Relationship tensions

শিশু জন্মানোর পর কখনো একান্নবর্তী পরিবারে বা কখনো শুধু মা-বাবার সাথে বড় হয়ে ওঠে। বর্তমানে প্রতি ঘরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-ঝামেলা, মান-অভিমান লেগেই থাকে। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন এর দ্বারা একটি শিশুর মনে কি প্রভাব ফেলছে? এ বিষয়ে জানালেন- ডাঃ কেদার রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পর্কের টানাপোড়ন

আধুনিক যুগে সম্পর্কগুলি অনেকটা সাজানো তাসের ঘরের মতো, একটু টোকা লাগলেই হুড়মুড়িয়ে পড়ে যাবে। বর্তমানে বিশ্বাস, একে অপরকে বোঝা, ভালোবাসা, ধৈৰ্য্য শব্দগুলি খুব ক্ষীণ হয়ে উঠেছে। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছু কিছু স্বল্প সমস্যাও বড় হয়ে উঠতে থাকে এবং যার কারণে সেপারেসন অথবা ডিভোর্সের মতো ঘটনাগুলি ঘটছে। আর যার ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে শিশুর মনের ওপর।

এক্ষেত্রে বাবা-মায়েদের তাদের বাচ্চার প্রতি সতর্ক ও যত্নবান হওয়া একান্তই কাম্য।

বাবামায়েদের তাই যে সকল বিষয়ে লক্ষ্য রাখা উচিৎ

বাবা মায়ের বিবাহিত জীবনের ওপরেই নির্ভর করে শিশুটি বড় হয়ে সম্পর্কের প্রতি কতটা আগ্রহী হবে।

অভিভবকরা আলাদা থাকতে চাইলে মনে রাখবেন আপনাদের এই সিদ্ধান্তের কুপ্রভাব যেন শিশু মনে না পড়ে।

মাতা-পিতার ডিভোর্স হয়ে গেলে শিশুর অপরিণত মনেও বৈবাহিক সম্পর্ক সম্বন্ধে একটা খারাপ ধারণা জন্মায়। ফলে ভবিষ্যতে অশান্তির ভয়ে সে সম্পর্ক বিমুখ হয়ে পড়ে।

ভালোবাসাই সম্পর্কের বুনিয়াদ

মনে রাখা উচিৎ ভালবাসাই যেকোনো সম্পর্ক ও চরিত্র গড়ার বুনিয়াদ। তাই ছোটো থেকে যদি তাকে ভালবাসা কাকে বলে সেটা বোঝানো না যায়, কিংবা বাবা মায়ের মধ্যে ভালবাসার অভাব দেখতে পেলে শিশুর মনেও ভবিষ্যতে ভালবাসা সম্পর্কে আতঙ্ক ও বিতৃষ্ণা জন্মাতে পারে।

ঝগড়া অশান্তির ক্ষেত্রে

সন্তানের কথা মাথায় রেখে একে অপরকে সময় দিন, যাতে বাচ্চা মা-বাবার আদর সমান ভাবে নিতে পারে।

অযথা বাড়িতে বাচ্চার সামনে পরিবারের কারোকে নিয়ে কোনো অশান্তি বা কু-মন্তব্য করবেন না। এতে তাদের মনে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞান ক্ষীণ হয়ে যায়।

যদি কোনোরকম পারিবারিক বাদ-বিবাদ থাকে তা নিয়ে বাচ্চার সামনে আলোচনা না করাই ভালো। পরে একান্তে তা একে অপরের সাথে মেটিয়ে নেবেন।

বাচ্চাদের সামনে কোনো সময় একে অপরের সাথে এমন কোনো অশান্তি ঝামেলা করবেন না, যাতে সন্তানের ওপর কু-প্রভাব পড়ে।

সন্তানের সামনে এমন কোনো বিষয় নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করবেন না, যাতে সন্তানের কাছে আপনার সম্মানহানি হয়।

মন ভালো রাখার জন্যে জরুরি

নিত্যদিনের একঘেয়েমি ব্যস্ততার জীবনের থেকে বাইরে বেড়িয়ে সপ্তাহে একদিন কাছাকাছি কোথাও পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। এর ফলে, মনও ভালো থাকবে ও ঘোরাও হবে, সারা সপ্তাহের ক্লান্তি দূর হবে।

শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় বিষয়গুলি নিম্নরূপ

হঠাৎ খুব চুপচাপ হয়ে উঠছে কিনা?

মা-বাবাকে সর্বদা দোষারোপ করতে থাকলে, এড়িয়ে যাবেন না।

উগ্র মনোভাব বা স্কুলে বন্ধুদের সাথে হিংসাত্মক বা আক্ৰমনাত্মক মনোভাব দেখতে পেলে, ঠান্ডা মাথায় শিশুকে বোঝান।

বাড়িতে কারোর সাথে কথা বললে বা কোন কিছুতে অনিহা প্রকাশ করলে, বিষয়টি এড়িয়ে যাবেন না।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top