Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

সোরিয়াসিস ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

Psoriasis

সোরিয়াসিস চর্মের একটি ক্রনিক ইনফ্লেমেটরি রোগ, যা ছোঁয়াচে নয়। সাইকোসোমাটিক ডিজিজগুলির মধ্যে এটি অন্যতম।

মানসিক চাপ বা স্ট্রেস, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে গেছে যা এই রোগের উৎপত্তি ও বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে।

১০-৩০ শতাংশ রোগীর বংশের একাধিক সদস্যদের মধ্যে এই রোগ দেখা যায়।

যে কোনও বয়সী পুরুষ বা স্ত্রীলোকের মধ্যেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে।

রোগের নির্দিষ্ট কারণ সঠিক জানা যায় নি। তবে দেখা যায় ত্বকের এপিডারমাল কোষগুলোর বেসাল স্তর থেকে বাইরের স্তরে আসতে যেখানে স্বাভাবিকভাবে ১ মাস লাগে সেখানে এই রোগের ক্ষেত্রে তা কমে ৩ থেকে ৫ দিন হয়ে যায়। ফলে অপরিণত এপিডারমাল কোষ তৈরি হয় যা আঁশের মতো উঠে আসে।

লক্ষণ

সাধারণত ত্বকের উপর লাল আঁশযুক্ত অংশ দেখা যায়, যা চুলকালে রূপালী বর্ণ ধারণ করে। একে বলে প্লেকটাইপ সোরিয়াসিস;

এগুলি বিভিন্ন আকৃতির ও আয়তনের হতে পারে এবং কখনও কখনও অনেকগুলি অংশ একত্র জুড়ে যায়;

শরীরের যে কোনও অংশেই এই রোগ দেখা যেতে পারে, তবে সর্বাপেক্ষা বেশি কনুই, হাঁটু, কোমরের নীচের অংশ, মাথায় দেখা যায়;

কোনও কোনও রোগীর ক্ষেত্রে চুলকানিই প্রধান লক্ষণ হয়ে দাঁড়ায়;

শীতকালে বাড়ে এবং গ্রীষ্মকালে কম থাকে;

কোনও কোনও ক্ষেত্রে অয়েন্টমেন্ট জাতীয় ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এই রোগ সারা দেহে ছড়িয়ে যায় এবং লাল হয়ে আঁশ উঠতে থাকে। এর সঙ্গে শীতভাব ও কাপুনিও দেখা যায়। একে বলে এক্সফোলিয়েটিভ ডার্মাটাইটিস;

সূর্যকিরণ সোরিয়াসিস আক্রান্তদের ক্ষেত্রে উপকারী বলে দেখা গেছে।

চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথিক শাস্ত্রানুসারে মনে করা হয় যে, সোরিয়াসিস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ওই রোগ দ্বারা আক্রান্ত হবার মতো দুর্বলতা আছে। ফলে তার আভ্যন্তরীণ চিকিৎসা দরকার যা তার ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করবে। প্রতিটি রোগী যেহেতু চিন্তায় ও শারীরিক গঠনে আলাদা তাই এদের চিকিৎসাও আলাদা। তাই এক্ষেত্রে নিজে নিজে কোনও একটি ওষুধ না খেয়ে প্রাথমিক অবস্থা থেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

নীচে কিছু ওষুধের নাম দেওয়া হল যা রোগীর আভ্যন্তরীণ চিকিৎসায় লাগে

আর্সেনিকাম, বোরাক্স, বোভিস্টা, ক্যালকেরিয়া, কষ্টিকাম, হিপার সালফ, হাইড্রাসটিস, ইগনেশিয়া, ক্যালি আর্স, ক্যালি ব্রোম, ক্যালি কার্ব, ল্যাকেসিস, লাইকোপোডিয়াম, গ্রাফাইটিস, ন্যাট্রাম গ্রুপ, নাইট্রিক অ্যাসিড, মেডোরিনাম, সোরাইনাম, ফসফরাস, পেট্রোলিয়াম, পলসেটিলা, নাক্স, রাস টক্স, সালফার, সিপিয়া, থুজা, জিঙ্কাম মেট ইত্যাদি।

উপরোক্ত ওষুধগুলি ছাড়াও আরও বহু ওষুধ হোমিওপ্যাথির ভাণ্ডারে আছে যা রোগীর লক্ষণানুসারে সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করলে উপকার পাওয়া যাবে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top