Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

ইউরিনের রঙ হলুদ হলে সতর্ক হোন

urine is yellow

আমাদের প্রত্যেকদিনের ব্যস্ত জীবনে নিজের যত্ন নেওয়ার সময় বড়ই কম। সব কাজ সামলে আমরা আয়োজন করি নিজেদের জন্য সঠিক ডায়েট এবং বিশ্রামের তা সত্ত্বেও ঘটে যায় নানা বিপত্তি।

অনেক সময় অনেক ছোটখাটো অসুবিধাও বড় কোনও অসুখের সিম্পটম হতে পারে। আবার ছোটখাটো সমস্যা যদি দীর্ঘদিন অবহেলা করা হয় তাহলে পরবতীকালে সেটা বড় কোনও অসুখের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। তাই সমস্যা যতই সাধারণ বা ছোটখাটো হোক না কেন, একটু সতর্ক থাকলেই মোকাবিলা করা সম্ভব।

শরীরের সাধারণ বেশ কিছু সমস্যার জন্যও ইউরিনের রঙ হলুদ হতে পারে

ডিহাইড্রেশন ইউরিনের রঙ হলুদ হওয়ার অন্যতম কারণ ডিহাইড্রেশনও হতে পারে। অর্থাৎ পরিমিত জল না খেলে, শরীরের বর্জ্য পদার্থ ইউরিন আকারে বেরোবার সময় সাদা রঙের পরিবর্তে গাঢ় হলুদ রঙের হয়ে যায়।

জন্ডিস ইউরিনের রং হলুদ হওয়ার অন্যতম কারণ জন্ডিস হতে পারে। প্রথমেই বলে রাখি জন্ডিস কিন্তু কোনও অসুখ নয়, অসুখের লক্ষণ মাত্র। জন্ডিস হওয়ার বেশ কিছু কারণ আছে। কারণ অনুযায়ী জন্ডিসকে সাধারণ তিনভাবে ভাগ করা যায়_

হিমোলাইটিক জন্ডিস;

হেপাটোসেলুলার জন্ডিস;

অবস্টাকটিভ জন্ডিস।

বেশ কিছু খাদ্যের প্রভাবেও ইউরিনের রঙ এর পরিবর্তন হতে পারে যেমন

“আ্যাসপারাগাস” বেশি খেলে গাঢ় হলুদ রঙের ইউরিন হতে পারে।

খাদ্যের মধ্যে অধিকমাত্রায় বি-কমপ্নেক্স ভিটামিন খেলেও ইউরিন গাঢ় হলুদ হতে পারে।

নাইট্রোফুরেশন, সালফামেথক্সাজোল ইত্যাদি ওষুধের প্রভাবের ফলে ইউরিনের রঙ গাঢ় হলুদ হতে পারে।

এছাড়াও বিভিন্ন খাদ্য এবং ভিটামিনের প্রভাবের দরুন ইউরিনের রঙ লালচে, সবজেটে, কমলাও হতে পারে।

পরীক্ষা নিরীক্ষা

ইউরিনের রঙের পরিবর্তন হলে বেশ কিছু পরীক্ষা করে দেখতে হয়। যেমন-

রক্তপরীক্ষা;

লিভার ফাংশন টেস্ট;

আলট্রাসাউন্ড টেস্ট;

চিকিৎসা

হেপাটাইটিস ‘এ’ বা ‘বি’ হলে বেশ কিছু ওষুধ খেতে দেওয়া হয়;

পুরানো প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী দীর্ঘদিন বাড়িতে পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে হয় না, অল্প কিছু সময় বিশ্রাম নিলেই চলে;

শুধুমাত্র সেদ্ধ খাবার খাওয়ার দরকার নেই। অল্প তেলমশলাজাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে।

অতিরিক্ত গ্লুকোজ খাবার দরকার নেই। এতে অনেক সময় গা বমি বমি করতে পারে;

হেপাটাইটিক ‘বি’ বা ‘সি’ হলে ইন্টারফেরন এবং প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ দেওয়া হয়;

অ্যালকোহল থেকে জন্ডিস হলে অ্যালকোহল একদম ছেড়ে দিতে হবে এবং আনুষঙ্গিক চিকিৎসা করতে হবে;

কোনও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে যদি জন্ডিস হয়ে থাকে তাহলে সেই ওষুধ খাওয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে;

গলব্লাডার এবং তার আশেপাশে পাথর জমলে দ্রুত তার চিকিৎসা করতে হবে;

হিমোলাইটিক জন্ডিসের ক্ষেত্রে হিমোলিসিসের কারণ চলে গেলেই জন্ডিসও কমে যায়। সাধারণত আলাদা চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না।

সঠিক কারণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়ে জন্ডিসকে প্রতিরোধ করতে হবে, তার জন্য বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যেমন

হেপাটাইটিস ‘এ’ বা ‘বি’ যাতে না হয় সেজন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে।

বাইরের ভাজা, তেল-মশলাজাতীয় খাবার যতটা সম্ভব কম খেতে হবে।

হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ যাতে না হয় তার জন্য সবসময় ডিসপজাল সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে ইঞ্জেকশন দিতে হবে।

রক্ত দেওয়ার সময় দেখে নিতে হবে রক্তে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ পরীক্ষা করা হয়েছে কিনা।

অ্যালকোহল খাওয়া বন্ধ করতে হবে

এইভাবে কিছু সতর্কতা মেনে চললেই জন্ডিসের প্রকোপ থেকে নিজেকে বাঁচানো যাবে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top