Mental health মনের যত্ন

শিশুর বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ একান্ত প্রয়োজনীয়

development of the child

কথা না শোনা বা অবাধ্যতার সমস্যার কথা বাবা-মা প্রায়ই বলেন। আমরা ধরেই নিই, ছোটরা বড়দের কথা শুনেই চলবে। বড়রা সবদিক দিয়েই শাসনের অধিকার নিয়ে জন্মেছে, এমন একটা বদ্ধমূল ধারণা আমাদের আছে। ভেবে দেখলে কিন্তু দেখা যায় শুধু আগে জন্মানোর সুবাদে বড়দের এই শাসনের অধিকার কখনও কখনও স্বেচ্ছাচারিতার জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়।

আসলে ছোটদের জগৎটা বড়দের জগতের থেকে অনেকটাই আলাদা। ছোটোদের জগৎ অনেক বর্ণময়, অনেক অজানা আকর্ষণে ভরা। এই অজানাকে জানার আনন্দের হাতছানিতেই বারবার নিয়ম ভাঙার ঘটনা ঘটে থাকে।

নিয়মের বেড়াজাল

নিয়মের বাঁধনে, ছোটোদের বাধা দুঃস্বাধ্য না হলেও শাসন সাপেক্ষ।

সাধারণত নিয়ম শেখালে তারা সেই নিয়ম মেনে চলতে পারে। কিন্তু শেখানো নিয়মটা ঠিক হওয়া চাই।

কিন্তু একেবারেই যদি নিয়ম মানা না যায়? কিছু সময়ে সেটা সমস্যা, যারা নিয়ম তৈরি করে তাদের।

বাকি কিছু সময়ে সমস্যা হতে থাকে মনে। হ্যাঁ ! শিশু-কিশোরদেরও মানসিক অস্থিরতার কিছু রোগ থাকা সম্ভব।

যে বাচ্চারা ছোটোবেলা থেকে তার নিজের চারিদিকে সর্বদা একটা বিরুদ্ধতার লড়াই দেখে এসেছে, সেই বাচ্চা যে ভেতর ভেতর তার প্রিয়জনের প্রতিও অসহিষ্ণু (Hostile) হয়ে উঠতে পারে।

ক্ষতিকারক দিক

তার থেকেই আসে মুখে মুখে তর্ক, বিরুদ্ধাচারণ বা হঠাৎ রেগে ওঠার মত ঘটনাগুলি।

ক্রমাগত এই ঘটনাগুলো ঘটতে থাকলে তার একটা পোষাকী নাম আছে মনোবিজ্ঞানের ভাষায়- এধরনের সমস্যাকে অবজেশনাল ডিফাইন ডিসঅর্ডার (ODD) বলা হয়।

এই ধরণের সমস্যার ক্ষেত্রে বাচ্চারা বাবা-মায়ের মুখে মুখে তর্ক করা ছাড়া অবাধ্যতা,

দোষারোপ করা এবং

প্রতিরোধ স্পৃহা দেখিয়ে থাকে।

এধরণের ব্যবহার, তাদের সামাজিক পড়াশুনার সমস্যা তৈরি করে।

বন্ধুত্ব তৈরির ক্ষেত্রে অন্তরায় হয় এই ব্যবহার।

ক্লাসে ক্রমাগত এইরকম আচরণের জন্য শিক্ষক এবং অন্যান্য ছাত্রছাত্রীর বিরাগ ভাজন হয়।

এই ODD-এর আরও খারাপ ধরণ হল কনডাক্ট ডিসঅর্ডার CD। এই ধরণের সমস্যায় নিষ্ঠুরতা, অন্যের প্রতি অত্যাচার, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া, মিথ্যে কথা বলা বা মিথ্যে আচরণ করা, নানান অসামাজিক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়া ইত্যাদি ধরণের ব্যবহারের বিচ্যুতি করা দেখা যায়। এই শেষোক্ত ধরণটিতে অবশ্যই মনোবিদের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।

একথা ভুললে চলবে না শিশুকাল হল ভবিষ্যতের সুস্থ নাগরিক হয়ে বেড়ে ওঠার প্রথম পদক্ষেপ। শিশুর বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ একান্ত প্রয়োজনীয়, যা তার পরিবার এবং চারপাশের মানুষরা জোগাতে পারেন।

সাধারণত তিন ধরণের বাবামা আমরা দেখতে পাই

অর্থোরিটেটিভঃ যেখানে পারস্পরিক স্নেহ ভালোবাসা বেশি এবং শাসন স্বাভাবিক রকমের থাকে।

অর্থোরিটেরিয়ানঃ যেখানে স্নেহ ভালোবাসা কম অথচ শাসন বেশি থাকে।

পারমেসিভঃ যেখানে স্নেহ ভালোবাসা বেশি এবং বাবা-মায়ের শাসন একেবারে কম।

কিছু মানসিক রোগীর ক্ষেত্রে যেমন- বাচ্চাদের কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডার। নানানরকম ব্যবহারের পরিবর্তন এবং খারাপ হওয়া আসতে পারে, এক্ষেত্রে বাবা- মায়ের কথা না শোনা, স্কুল পালানো বা বাড়ির থেকে পালানো, অন্যদের প্রতি কোনো সহানুভূতি না থাকা, কর্তৃত্ব বা গায়ের জোর বাড়ানো, ভাঙচুর করা, নানা রকমের ড্রাগ ব্যবহার আসতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।

লেখকডঃ তন্ময় মিত্র

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top