Lifestyle - লাইফস্টাইল

সৌন্দর্য দর্শনে- “কালিম্পং থেকে কাফে”

Kalimpong

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ১২৫০ মিটার। এর দূরত্ব ৬৯ কিলোমিটারের, যাত্রাপথের সৌন্দর্য অসাধারণ। সোজা পথের দুধারে চোখে পড়বে বড় বড় গাছের ছায়া। প্রকৃতির এই অসাধারণ সৌন্দর্য দুচোখ ভরে দেখতে দেখতে কোনও খেয়ালই থাকে না যে সাোজা পথের রাস্তাটি কখন মিশেছে পাহাড়ের বাঁকে।

মনে হয় যেন চারিদিকে সবুজের মেলা বয়ে গেছে। আপনার মন আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠবে, যখন দেখবেন, বৃষ্টির জলে পরিপূর্ণ জলধারাগুলি পাহাড়ের গা বেয়ে নিজের গন্তব্যে ছুটে চলেছে। এই মনোরম দৃশ্য দেখতে দেখতে পৌঁছে যাবেন স্কটিশ মিশনারীদের হাতে তৈরী কালিম্পং শহরে।

কি দেখবেন

শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ১৯০০ খ্রীষ্টাব্দে ডঃ জন অ্যান্ডারসনের নামানুসারে রয়েছে একটি বিদ্যালয়। ডেলো পাহাড়ের কোলে বিদ্যালয়টির দৃশ্য চোখ মেলে দেখার মতো। যার মধ্যে রয়েছে নিজস্ব ডেয়ারী, পোলট্রি ফার্ম, হাসপাতাল সহ আর অনেক কিছু।

চলুন ঘুরে আসা যাক ১৯৩৭ সালে নির্মিত থারপাচোলিং বৌদ্ধ বিহার।

৫৫০০ ফুট উচ্চতায় সিকিম সীমান্তে ডেলো লেক। লেকের সৌন্দর্য মানুষের মন চুরি করে নেয়।

জংডং পালার ‘ফোব্রাঙ’- মনাষ্ট্রি রয়েছে এখানে। এখানকার স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের ফ্রেস্কো চিত্রগুলি অবশ্যই আপনাকে মুগ্ধ করবে।

শহর থেকে ২ কিমি দূরে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি ধন্য গৌরীপুর হাউস, যেখানে কবিগুরু বহুবার থেকেছেন।

কালিম্পং থেকে ৫৫ কিলাোমিটার দূরে ৫৫০০ ফুট উচ্চতায় ডেলো পাহাড়ের কোলে কাফের অবস্থান।

যারা শান্ত পরিবেশ উপভোগ করতে চান তাদের কাছে এটি একটি আদর্শ জায়গা। কাফের হল নির্জনতার প্রতীক। চারিদিকেই রয়েছে অফুরন্ত সবুজের বিশাল সম্ভার।

বনভূমির শান্ত-শিষ্ট পরিবেশ আপনাকে আকর্ষণ করবেই। মনে ধরবে কাফের নির্জন বাংলোয় থাকার এক অভিজ্ঞতার কথা। অন্ধকার যখন প্রকৃতির মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায়, তখন সীমাহীন মৌনতায় মন হয়ে উঠবে উদাসীন।

বেড়ানোর মরশুম

মার্চ থেকে জুন এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বর উপযুক্ত সময়। তবে বর্ষা ছাড়া সবসময়ই যাওয়া যায়।

কীভাবে যাবেন

শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং-এর দূরত্ব ৭২ কিলোমিটার। উত্তরবঙ্গ পরিবহনের বাস সকাল ৭টা ও ১০টা ও দুপুর ১২টায় ছাড়ে শিলিগুড়ির সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড থেকে। দার্জিলিং থেকে আড়াই ঘন্টায়, জিপও যাচ্ছে কালিম্পং-এ।

কোথায় থাকবেন

কালিম্পং-এ থাকার জন্য অসংখ্য হাোটেল ও লজ রয়েছ। থাকার খরচ আপনার সাধ্যের মধ্যেই।

ডব্লু-বি-টি-ডি-সি-র টুরিস্ট লজে থাকতে হলে, বুকিং করতে হবে-৩/২ বি.বা.দি. বাগ কলকাতা-১ থেকে। থাকার ভালো ব্যবস্থা আছে, ডব্লু-বি-টি-ডি-সি-র ডুরপিন হিলের বিলাসবহুল মরগাঁও হাউস টুরিস্ট লজে।

বেনফিসও হোটেল করেছে অর্কিড।

হলিডে হোম রয়েছে ইউ-বি-আই-এর ভবানীপুর শাখার।

থাকতে পারেন কম খরচে কালিম্পং মোটর বাস স্ট্যান্ড-এর কাছে রতিরাম বংশীলাল ধরমশালায়।

আর কাফেতে থাকার জন্য রয়েছে – নির্জন বন বাংলো, যোগাযোগ করে যেতে হবে বি.বা.দি.বাগ থেকে।

কেনাকাটা

পাহাড়ি রাস্তার ধারে কিছু দোকানপাট রয়েছে, সেখান থেকে আপনি পছন্দের মতো কিছু কেনাকাটা করতে পারেন।

পাওয়া যায় পিতল ও পাথরের নানা রকম মূর্তি আর চোখে পড়বে, নানা রকমের অ্যান্টিক পিস আর কিউরিও শপ।

তিব্বতি হাতের কাজের জিনিষে ঠাসা দোকানগুলি থেকে হস্তশিল্প সামগ্রী সওদা করা যায়।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top