Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

প্রতিদিনের ব্যস্ততায় কীভাবে খুঁজে নেবেন নিজের জন্য সময়?

find time

সংসার আমার, তবু আমি একা। জীবনে নিত্য লড়াই থেকে কি করে খুঁজে পাবেন একটু স্বস্তি, বলছেন- মনোবিদ ডঃ তন্ময় মিত্র

আপনার সংসার। স্বামী, ছেলে, শ্বশুর-শাশুড়ি সবাইকে ঘিরে পরিপূর্ণ আপনি। আপনজনেদের ভালো রাখার দায়িত্বও আপনারই কাঁধে। তাই সকাল ছটায় দিন শুরু করে রাত বারোটায় ঘুমানোর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত আপনি ব্যস্ত থাকেন প্ল্যানিং আর টাইম ম্যানেজমেন্টে। এর মাঝের ৮/১০ ঘন্টা অবশ্য অফিস। সেখানে আপনি আত্মবিশ্বাসে ভরপুর, স্বনির্ভর একজন নারী। এই হল প্রদীপের শিখার মতো জ্বল-জ্বল করে ওঠা আপনার জীবন। কিন্তু প্রদীপের আলোয় আলোকিত ছোট থেকে বড় উপাদানও খবর রাখে কি, আলোর শিখার নীচে তিল তিল করে জমছে কতটা অন্ধকার? বোধহয় আপনার উত্তর হবে- না।

নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে একজন নারীর জীবনযাত্রীয় বেশ কয়েকটি ঘটনা নিয়মিত ঘটে চলেছে যেমন

সকালের ব্যস্ততায় অনেকসময়ই ব্রেকফাস্ট খাওয়া হয়ে ওঠে না। দুপুরে লাঞ্চে বাড়ির খাবারের বদলে এরা বেছে নেন ফাস্ট ফুড, জাঙ্ক ফুডের মতো রাস্তার খাবার। এর ফলে হজমের গোলমালসহ পেটের নানারকম সমস্যা দেখা দেয়।

অফিস থেকে ফিরেও বাচ্চাকে পড়ানো এবং ঘরের কাজের তাগিদে সঠিক বিশ্রাম নেওয়া হয় না। পরের দিনের কাজের চিন্তায় রাত্রে পর্যাপ্ত ঘুমও হয়ে ওঠে না। এর কু-প্রভাব শরীরে পড়তে দেখা দেয়।

ঘরে বাইরে মাত্রাতিরিক্ত প্রত্যাশার হাত থেকে খানিক স্বস্তি পেতে অনেকসময়ই সিগারেট, মদ ইত্যাদি নেশার সামগ্রীকে বেছে নেয় এরা।

প্রতিদিনের ব্যস্ততায় নিজের মতো করে সময় কাটানোর সময় থাকে না। ফলে মানসিক অবসাদ এবং হতাশা মনের মধ্যে বাসা বাঁধে।

গবেষণা করে দেখা গেছে, চাকুরিরত মহিলাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ মহিলাই জীবনযাত্রার কারণে নানারকম অসুখের শিকার হচ্ছেন।

কী ধরনের পরিবর্তন আনবেন?

প্রথমেই আপনার নির্ধারিত কাজ এবং সময়ের মধ্যে একটা হিসাব কষে নিন। এই হিসাব নোটবুকেও রাখতে পারেন অথবা মনেও রাখা যেতে পারে ।

এতে দেখবেন অগোছালো হয়ে যাওয়া অথবা ভূলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।

অফিসে যেমন আপনার জুনিয়রদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেন, তেমনি বাড়ির ছোটখাটো কাজগুলিকেও নিজের কাঁধে না নিয়ে অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দিন। যেমন

প্রথমেই আপনার বাচ্চা অথবা স্বামী বা বয়ঃজ্যেষ্ঠ সদস্য থাকলে তাদের নিজের জিনিসপত্রের দায়িত্ব নিতে বলুন।

স্বামীকে তার প্রয়োজনীয় পোশাক-আশাক, মোবাইল, পেন, দরকারি জিনিসপত্রের যত্ন নিজেই নেওয়ার জন্য উৎসাহী করুন।

বাচ্চার স্কুলের বই, খাতা, আঁকার জিনিসপত্র ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিসের দায়িত্ব ওর ওপর ছেড়ে দিন।

বাড়িতে বয়ঃজ্যেষ্ঠ কেউ থাকলে (তিনি যদি গুরুতর অসুস্থ না হন) তাকে তার চেকআপ, ওষুধ খাবার সময় ইত্যাদি সম্পর্কে খেয়াল রাখতে বলুন।

বাচ্চাকে স্কুলে, টিউশন নিয়ে যাওয়ার মতো কিছু দায়িত্ব স্বামীকে দিন।

সামর্থ্য থাকলে বাড়িতে আপনাকে সাহায্য করার জন্য কোনও সাহায্যকারী রাখতে পারেন। এতে আপনার টেনশন এবং কায়িক পরিশ্রম দুই’ই কমবে।

অফিসে যাওয়ার সময় অথবা ফেরার সময় পছন্দের বই পড়া, গান শোনা ইত্যাদি বিনোদনমূলক কাজের মধ্যে নিজের সময় কাটান। এতে কাজের একঘেয়েমি যেমন কাটবে তেমনি মনও ভালো থাকবে।

পুরনো বন্ধু-বান্ধব বা নিকট আত্মীয় কারও সঙ্গে মনের মিল হলে, মন খুলে কথা বলুন। মাঝে মধ্যে শপিং-এ যান, আড্ডা মারুন। এতে রুটিন লাইফের একঘেয়েমি কাটবে, অবসাদ আসবে না।

পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হলে পরিবারের অন্যান্য পুরুষ সদস্যদেরও সহযোগিতার প্রয়োজন এক্ষেত্রে আপনাদের বলব

প্রথমত, আপনি যেরকম অফিস করে ক্লান্ত হয়ে ফেরেন, আপনার স্ত্রীও একইভাবে কাজ করে বাড়ি আসেন। ফলে আপনার মতো তিনিও ক্লান্ত থাকেন। তাই নিজের ছোটখাটো প্রয়োজনে তাকে বার বার বিব্রত করবেন না।

চা বানিয়ে নেওয়া,

নিজের জামাকাপড় সঠিক জায়গায় রাখার মতো টুকটাক কাজে সাহায্য করলে দেখবেন আপনারও

ভালো লাগবে।

স্ত্রীরও ভার খানিকটা লাঘব হবে।

সন্তানের প্রতি দায়িত্ব যেমন আপনার স্ত্রীর ঠিক তেমনি আপনারও।

তাই বাচ্চাকে স্কুল বাসে তুলে দেওয়া,

গার্জেনস মিটিংয়ে যাওয়ার মতো কিছু কিছু দায়িত্ব আপনিও নিন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top