Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

জরায়ু ক্যান্সার-এর অন্যতম কারণ স্মোকিং

uterine cancer

স্মোক করার কারণে মহিলাদের কি কি সমস্যা আসতে পারে সে বিষয়ে বিশদ জানিয়েছেন- বিশিষ্ট গাইনিকোলজিস্ট

মহিলাদের ক্ষেত্রে স্মোক করা কতটা ক্ষতিকারক?

এখানে মহিলা বলতে তিন ধরনের বয়সের মহিলার কথাই বলব, যেমন-

যারা কমবয়সী অবিবাহিতা;

দুই, মাঝবয়সী এবং বিবাহিতা;

তিন, বেশি বয়স এবং যাদের মেনোপজ হয়ে গেছে।

এই ভাগটা এইভাবে করলাম কারণ আজকের দিনে এই কমবয়সী মহিলাদের দলই স্মোকিং-এ বেশি আসক্ত হচ্ছেন বা স্মোক করছেন। কেননা কাজ, টেনশন, নানারকম স্ট্রেস আবার এর সঙ্গে সোসাইটি মেইনটেন-এর ব্যাপার তো আছেই। নাইট শিফটে কাজও অনেক মহিলাদের করতে হয় সেক্ষেত্রে তাদের স্মোক করার প্রবণতা হয়ে গেছে। তবে স্মোক করাই হল শারীরিক ক্ষতি। পুরুষদের স্মোক করার কারণে যে যে অসুখ হয়, মহিলাদের ক্ষেত্রে সেই রোগই হয়, এছাড়া এর কারণে জরায়ুর ক্যান্সারও হতে পারে।

বিদেশে বেশিরভাগ মহিলারা তো স্মোক করেন, এই কারণেই কি জরায়ুর ক্যান্সার ওখানে বেশি দেখা যায়?

যদিও ওদেশে জরায়ুর ক্যান্সার এদেশের মেয়েদের চেয়ে বেশি হয়। অবশ্য ওদের সেক্সুয়াল লাইফটা একদম অন্যরকম। এরসঙ্গে স্মোকিং ব্যাপারটা তো আছেই।

যেসব মহিলারা স্মোক করেন, তাদের স্বাভাবিক ঋতুচক্রের কোনও অসুবিধা হয় কি?

হ্যাঁ, সে তো হয়ই।

মেজাজ খিটখিটে থাকে । কেননা সিগারেট খেলে খাওয়া-দাওয়ার স্বাভাবিক নিয়ম-এ একটা বাধার সৃষ্টি হয়।

এর ফলে সবসময় একটা দুর্বলতা বোধ থাকে।

প্রেগন্যান্ট মহিলারা স্মোক করলে তার সন্তানের কি ক্ষতি হতে পারে?

নিশ্চয়ই, কেননা স্মোকিং এমন একটা নেশা যা ইনডাইরেক্টলি পাশে বসে থাকা মানুষের ক্ষতিও করে, সেহেতু স্মোকিং তো গর্ভের সন্তানের ক্ষতি করেই।

যেসব প্রসূতি মা স্মোক করেন, তাদের সন্তানের ওজন কম হয়, গ্রোথ ভালো থাকে না।

এমনকী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও ক্রটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। এছাড়া সন্তানের লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যারা ফ্যামিলি প্ল্যানিং করার কারণে পিল খেয়ে থাকেন, পাশাপাশি যদি স্মোক করেন সেক্ষেত্রে তাদের কি কোনওরকম অসুবিধা হয়?

পিল-এর একটু সুস্থ স্বাভাবিক কার্যকারিতা মহিলাদের শরীরে কাজ করে। কিন্তু সিগারেট খাওয়া মহিলাদের ক্ষেত্রে ঠিক সহজভাবে বিষয়টি ঘটে না। নানারকম সমস্যা আসে।

কনসিভ করার সময় বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

মেনোপজ হয়ে গেছে যেসব মহিলার, তাদের ক্ষেত্রে স্মোকিং কতটা ক্ষতিকারক?

সাধারণভাবে মেনোপজ হয়ে গেলে নানারকম সিম্পটম আসে সেগুলোকে বলে পোস্ট মেনোপজাল সিম্পটম। সেগুলো স্মোক করার সঙ্গে সঙ্গে আরও ত্বরান্বিত হয়। এছাড়া অস্টিওপোরোসিস এবং জরায়ুর ক্যান্সারেও আক্রান্ত হয়।

কোনও মায়ের গর্ভবতী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মোক করা কি ছেড়ে দেওয়া উচিত?

হ্যাঁ, সে তো নিশ্চয়ই। যদি একেবারে ছেড়ে দিতে পারে তো খুবই ভালো, আর একান্তই যদি ছাড়তে না পারে তাহলে অবশ্যই প্রেগন্যান্সি চলাকালীন এবং বাচ্চা যতদিন ব্রেস্ট মিল্ক খাচ্ছে ততদিন স্মোক না করাই উচিত।

আপনি কি মনে করেন, বর্তমানে মহিলাদের মধ্যে স্মোক করার প্রবণতা বেড়েছে?

মহিলাদের এখন স্ট্রেস, টেনশন, কাজের চাপ সবই বেড়েছে। লাইফ স্টাইলের বদল হয়েছে। সর্বোপরি ওঁদের এক্সপোজারও বেড়েছে, এর ফলে আজকের মহিলাদের মধ্যে অনেকেই স্মোক করায় অভ্যস্ত হচ্ছেন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top