Diet - ডায়েট

স্মৃতিকে তরতাজা করে কাঁচা হলুদ

একটুকরো হলুদ কিন্তু তার অনেক গুণ।

রক্ত পরিশোধন করা থেকে  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি কাঁচা হলুদের গুণাগুণ-এর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো ক্ষমতা খুব কম জিনিষেরই আছে।

আবার  প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাঁচা হলুদের জুড়ি মেলা ভার।

এতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে ভীষণ কার্যকর।

করোনাকালে শরীরে ইমিউনিটি বৃদ্ধি করতে কাঁচ হলুদের ওপরই অনেকে ভরসা করতে শুরু করেছিলেন।

খালিপেটে নিমপাতার সঙ্গে একটুকরো কাঁচা হলুদ কিংবা দুধের সঙ্গে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে খাওয়ার ধুম পড়ে যায় সেসময়।

কিন্তু হয়তো অনেকেই জানেন না যে, আমাদের মনকে ফুরফুরে করে তুলতে পারে একটুকরো কাঁচা হলুদ।

কাঁচা হলুদের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট গুণ আমাদের বিষণ্ণ মনমরা ভাব, বদমেজাজ, ডিপ্রেশন কাটিয়ে মনকে চনমনে করে তুলতে সাহায্য করে।

তবে যে উপাদানটির জন্য হলুদের এত নাম-ডাক, সেই কারকিউমিন শরীরে রোগের প্রবণতা কমায় ৷ রক্ত চলাচল বাড়ে ৷

এই গুণটি ছাড়াও সম্প্রতি জানা গিয়েছে রান্নায় হলুদ ব্যবহার করলে সেই হলুদের সোনালি রং আমাদের মানসিক স্থিতি ও স্মৃতিশক্তিকে উন্নত করতে সহায়তা করে থাকে।

সম্প্রতি আমেরিকান জার্নাল অফ জেরিয়াট্রিক সাইকিয়াট্রিতে প্রকাশিত হয়েছে যে, হলুদে উপস্থিত কারকিউমিন মস্তিষ্ককে রক্ষা করতে পারে।

ইউএসএ -এর ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি, লস এঞ্জেলেস-এর লংএভিটি সেন্টারের গবেষক ডঃ গ্যারি স্মল এবং সহকর্মীরা ৫১ থেকে ৮৪ বছর বয়সী ৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের উপর কারকিউমিন যৌগটি প্রয়োগ করেন।

যাদের সবারই হালকা স্মৃতিশক্তির সমস্যা ছিল।

একটি দলকে  দৈনিক দু’বার ৯০ মিলিগ্রাম কারকিউমিন দেওয়া হয়, অন্যদলকে একটি প্লাসিবো দেওয়া হয়।

পরীক্ষার শেষে দেখা গিয়েছে যারা প্রতিদিন দু’বার কারকিউমিন গ্রহণ করেছিলেন তাঁদের স্মৃতিশক্তি আগের তুলনায়  ২৮ শতাংশ উন্নত হয়েছে।

অন্যদিকে, যাঁরা  প্লাসিবো গ্রহণ করেছেন তাদের স্মৃতিশক্তির কোন উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়নি।

যারা কারকিউমিন গ্রহণ করেছেন তাদেরও মেজাজে সামান্য উন্নতি হয়েছে বলে গবেষণায় প্রকাশিত।

এমনকি যারা কারকিউমিন গ্রহণ করেন তাদের হাইপোথ্যালামাস এবং অ্যামিগডালা অংশে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে।

মস্তিষ্কের এই অঞ্চলগুলি স্মৃতি এবং আবেগে মূল ভূমিকা পালন করে।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৫০০-১০০০ মিলিগ্রাম হলুদ খেলে ভাল। তবে একবারে ২৫০ মিলিগ্রাম হলুদই যথেষ্ট।

সকালে ও রাতে দু’বেলা ২৫০ মিলিগ্রাম করে খাওয়া যেতে পারে। সকালে খালিপেটে হলুদ খেয়ে নিতে হবে।

তারপরে অন্তত আধঘণ্টা কিছু না খেয়ে থাকতে পারলে শরীরের জন্য সবচেয়ে ভাল। দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার দেয়।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top