Diet - ডায়েট

গানেই বশ করতে পারবেন আপনার মনকে

গান শুনতে বা গান গাইতে আমরা অনেকেই ভালোবাসি।  অবসর বা কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও অনেকে  গান শুনতে ভালোবাসেন।  ভালো গান শুনলে সত্যিই মন ভালো হয়ে যায়।

গান শুনতে শুনতে আমরা হারিয়ে যেতে পারি স্মৃতির সরণি বেয়ে অনেক দূর।

তাতে কিছুক্ষণের জন্য অন্যমনস্ক হলেও মন কিন্তু শান্ত হয়ে যায়।

তবে এটা জানেন  কি মস্তিষ্ককে গান শুনিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন নিজেই।  মানুষের মন ও আবেগের ওপর গানের প্রভাব অনেক বেশি।

পছন্দের কোনও  গান শুনলে অতিসাধারণ একটি দিনও নিজের মতো করে কাটাতে পারবেন।

যেমন ধরুন সকালে উঠতে আলসেমি লাগছে কিংবা প্রিয় মানুষটির সঙ্গে ঝগড়া, একটা গানই কিন্তু সমস্ত অনুভূতিকে বদলে দিতে পারে।

এবার জেনে নেওয়া যাক গান কীভাবে কাজ করে….

 ১. আবেগ  – মস্তিষ্ক যখনই কোনও মিউজিক শোনে তখন আর বাকিদের মতো তাকে বিশ্লেষণ করতে শুরু করে, সেই সময় আমাদের মস্তিষ্কের অনুভূতিগুলিকে উদ্দীপ্ত করতে শুরু করে  মস্তিষ্কের সার্কিটগুলি।

এরপরই মন ভালো হওয়া, কাঁদতে ইচ্ছা করা, ভালবাসতে চাওয়া বা  নাচ করতে যাওয়ার মতো ইচ্ছেগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে।

২. স্মৃতি – একটি মিউজিক বা গানের শব্দগুলি সাধারণত রোজদিন জীবনে ঘটতে থাকা বিষয়গুলোর ওপর নির্ভরশীল।

তাই এই শব্দগুলো আমাদের ভেতরে জমে থাকা কোনও স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়।

বলা যেতে পারে যা ভুলতে বসেছিলাম তাকে মনে করিয়ে দিয়ে বাস্তবের সঙ্গে পুনর্বার সংযোগ স্থাপন করে মিউজিক বা গান।

মস্তিষ্কের অনুশীলন বা ব্যায়াম হয় গান শুনলে। যাঁরা গান গাইতে পারেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি আরও ভালো কাজ করে।

মস্তিষ্কের যে অংশ মানুষের রাগ, দুঃখবোধ, আনন্দবোধের মধ্যে সামঞ্জস্য স্থাপন করে, গান শুনলে সেই অংশগুলোর সক্ষমতা বাড়ে।

এজন্য গান মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ও সুস্থভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। অক্সিটোসিন হরমোনকে সঞ্চালিত করে। যেটি মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে সাহায্য করে।

 নিউরোপ্লাস্টিসিটি –  মিউজিক বা গান সরাসরি নার্ভের উপর কাজ করে না তাকে শিথিল করতে অথবা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বা উদ্দীপনায় সাড়া দিতে সাহায্য করে।

গবেষকরা বিশ্বাস করেন নার্ভের সমস্যা যাদের আছে তাদের জন্য মিউজিক থেরাপি ভীষণভাবে উপকারী।

মনোযোগ- মিউজিক ও গান মস্তিষ্ককে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ  করতে সাহায্য করে।

মস্তিষ্ক যখন গানটিকে বিশ্লেষণ করছে ঠিক তখনই অনুভূতিগুলো সক্রিয় হয়।

পুরোনো কথা মনে পড়ছে, আবার ভুল হয়ে যাচ্ছে, এতগুলো একসঙ্গে হওয়ার ফলে মস্তিষ্ক অনেক বেশি মনোযোগ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

এজন্য যখন ধ্যান করা শুরু হয় তখন বলা হয় কোনও একটি মিউজিক হালকা করে চালিয়ে  ধ্যান করার অভ্যেস করতে।  তাহলে মনোযোগ দিতে সুবিধা হয়।

আমরা সবাই গান শুনি তবে এর  কার্যকারিতা অনেকেরই জানা ছিল না।

তাই এবার থেকে মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিজেও গান শুনুন, আর অন্যকেও গান শুনতে বলুন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top