Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের প্রবণতা বাড়ছে, সুস্থ থাকার উপায় কী

অনিয়মিত খ্যাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার ফলে যাঁরা মদ্যপান করেন না তাঁদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে ফ্যাটি লিভার।

ভারতের প্রায় ৩২ শতাংশ মানুষ এই রোগের শিকার।

দরকারের চাইতে লিভারে বেশি চর্বি জমে গেলে সেটিকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়।

নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষের দেহে যকৃতের যে ওজন, তার ১০ শতাংশের বেশি যদি চর্বি হয় তখন সেটিকে ফ্যাটি লিভার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মূলত ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাসের কারণে তাঁর লিভারে অতিরিক্ত ফ্যাট বা চর্বি জমা হয়ে যায়। ফলে লিভার নষ্ট হতে থাকে।

এই সমস্যার সমাধান না করলে লিভার সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়।  দীর্ঘদিন কারও ফ্যাটি লিভার থাকলে লিভার ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।

এরফলে যকৃতে ফাইব্রোসিস, ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস হয়ে থাকে।

যাঁরা মদ্যপান করেন না তাঁদের ক্ষেত্রে মূলত, শর্করা এবং ফ্যাট বিপাক ক্রিয়ার নানা অসামঞ্জস্যতার ফলে এই রোগ হয়।

অতিরিক্ত ওজনও ফ্যাটি লিভার হওয়ার জন্য দায়ী।

নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ :

জীবনযাত্রার মধ্যে অসামঞ্জস্য ও জাঙ্ক ফুডপ্রীতি এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবের ফলে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

এছাড়াও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, বিভিন্ন মেডিসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, অতিরিক্ত ওজন বা খুব দ্রুত ওজন কমানো, পেটে অতিরিক্ত মেদ, জেনেটিক্স-এর কারণে একজন মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হতে পারেন।

পেট ফুলে যাওয়া, প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া, হাতের তালু লাল হয়ে যাওয়া এবং চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ।

এছাড়া পেটের উপরের ডান দিকে, বুকের খাঁচার নিচে ডান দিকে ভারি লাগবে, একটা ব্যথা অনুভূত হবে। ক্লান্ত ও দুর্বল লাগে ।এই রোগ যদি খুব খারাপ পর্যায়ে চলে যায় তাহলে চোখের সাদা অংশ ও ত্বক হলুদাভ হয়ে যাবে, জন্ডিস হবে, ত্বকে চুলকানি দেখা দিতে পারে।

পেট, গোড়ালি, পা ফুলে যাবে, রক্ত বমি, কালো পায়খানা হবে।

এগুলো খুব প্রাথমিক পর্যায়ে হয় বলে চিকিৎসকদের মত।

কীভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব :

ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পেতে ওজন কমানো সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

যাদের ওজন বেশি, তারা যদি মাত্র ৭-১০% ওজন কমাতে পারেন তবে ফ্যাটি লিভার থেকে খুব দ্রুতই মুক্তি সম্ভব।

তবে এটা মনে রাখা জরুরি সঠিক ডায়েট না মেনে শুধুমাত্র  না খেয়ে বা কোনও  ওষুধের মাধ্যমে খুব দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করতে গেলে হিতে বিপরীত হবে।

সমস্ত রকম ফাস্টফুড এড়িয়ে চলতে হবে ।

ফাস্টফুডে অতিরিক্ত ক্যালোরি থাকে কিন্তু শরীরের জন্য দরকারি অন্য পুষ্টিগুণ অনেক কম থাকে।

তাই ফাস্টফুড শরীরের ওজন বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কোনও উপকারে আসে না।

এছাড়াও নিয়মিত এক্সারসাইজ হল মাস্ট। সুগার, প্রেশার রাখুন নিয়ন্ত্রণে। দুশ্চিন্তা কমান।

প্রাণায়াম বা যোগা করুন। আর নিশ্ছিদ্র ঘুম হতে হবে কমপক্ষে ৭ ঘণ্টার।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top