Diet - ডায়েট

ডেঙ্গু হলে কী কী খাবেন

মশার কামড়ে ডেঙ্গু ধরা পড়লে বয়স্ক থেকে শিশু সকলকেই খুব সাবধানে থাকতে হবে। ডেঙ্গু হলে সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, পেশি ও শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা হয়।

সেই সঙ্গে চামড়ায় লাল লাল ফুসকুড়িও দেখা দিতে পারে ৷

ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশেষ করে শিশুদের জ্বর হলে তারা খাওয়া-দাওয়া একেবারেই ছেড়ে দেয়। এমনকি জল পর্যন্ত খাওয়ানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।

আর এই সময় খাবারের প্রতিও বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে ৷ শরীর দুর্বলতর হওয়া ছাড়াও হতে পারে জলশূন্যতাসহ নানান জটিলতা।

বাড়িতে কারও ডেঙ্গু জ্বর হলে তাই নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন।

ডেঙ্গু হলেই আমাদের শরীরে প্লেটলেটস কাউন্ট হুহু করে কমতে থাকে।  শরীরের ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রথমেই দেহের  রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।

শরীরের যে ক্ষয় হয়  সেই ক্ষতি পূরণ করতে হলে রোগীকে উপযুক্ত পথ্যের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।

রক্তে প্লেটলেটসের  সংখ্যা বৃদ্ধি করতে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার রোগীকে বেশি করে দিতে বলা হয় ।

পালংশাক, সামুদ্রিক মাছ, মেটে, কুমড়ো , ডালিম, মটরশুঁটি, ছোলা, মুসুর ডাল, কচুশাক ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন রয়েছে, যা রোগীর শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতেও সাহায্য করে।

ডেঙ্গু হলে শরীরের জন্য ভিটামিন-সি অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।  কমলালেবু ডেঙ্গু জ্বরে ভাল কাজ দেয় ।

কারণ এটিতে রয়েছে ভিটামিন-সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।

আর এই দু’টি উপাদান ডেঙ্গু জ্বর নিয়ন্ত্রণে ভালো কাজ করে। লেবু ছাড়াও আপেল, পেয়ারা, আমড়া, পেঁপে, আম, আনারস, আঙুর, জাম ইত্যাদি ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি আছে।

ডেঙ্গু রোগীকে প্রতিদিন এই ফলগুলো পরিমিত পরিমাণে খাওয়াতে হবে।

এছাড়াও ফলের মধ্যে ডালিম দেওয়া যেতে পারে রোগীকে।  কারণ ডালিম পুষ্টি ও খনিজসমৃদ্ধ ফল। এটি শরীরের ক্লান্তিভাব কমায়।

ডালিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, যা রক্তের জন্য উপকারী। এ ছাড়াও ডালিম প্লেটলেট কাউন্ট বজায় রাখতে সাহায্য করে।

জ্বর হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।  সেজন্য ডেঙ্গুতে ভুগলে দেহের শক্তির চাহিদা পূরণ করতে প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট দিতে হবে।

সেক্ষেত্রে রোগীকে নরম সেদ্ধভাত, খিচুড়ি, বিভিন্ন ধরনের স্যুপ খেতে দিতে হবে।

শাকসবজির মধ্যে পালং শাক দেওয়া যেতে পারে।

এই সবুজ শাকটি আয়রন ও ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

এছাড়াও এটি প্লেটলেট  বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ব্রকোলি, বাঁধাকপি দেওয়া যেতে পারে।

অন্যান্য খাবারের মধ্যে ভিটামিন বি-১২–এর অন্যতম উৎস ডিম, দুধ, মাখন, পনির, কম ফ্যাটযুক্ত দই দিতে হবে ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top