Mental health মনের যত্ন

আত্মহত্যার প্রবণতা, রুখতে চাই সদিচ্ছা

ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের রোগীর মরণঝাঁপ দিয়ে আত্মত্যার ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল  দিয়ে দেখিয়ে দিল, মানসিক অবসাদ কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।  এই ধরণের চাপা অবসাদই নিজের জীবনকে শেষ করে দেওয়ার মত চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।

১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে মৃত্যুর তৃতীয় ও বৃহত্তম কারণ আত্মহত্যা। একজন আত্মহত্যাপ্রবণ রোগী প্রায়শঃই  নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার  চেষ্টা করেন । সেই কারণে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করার কথা ভাবতে থাকেন। একজন আত্মহত্যাকারী বা আত্মহত্যাপ্রবণ রোগীর মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পেলেই তাঁকে দ্রুত চিকিৎসা করানোর প্রয়োজন।

কারণ, একমাত্র সঠিক চিকিৎসাই সম্পূর্ণ আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে পারে।

যেসব ব্যক্তি অন্তর্নিহিত মানসিক ব্যাধিতে ভুগছেন তাদের চরম পরিণতির কারণেই সবথেকে বেশি পরিমাণ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। যেসব  রোগীরা  বিষণ্ণতায় ভোগেন তাঁদের মধ্যে ১০-১৫% রোগীর আত্মহত্যার প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে।  সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে এই সম্ভাবনা ১০ শতাংশ বেশি ।  এই পরিসংখ্যানটি  বেড়ে যায় সিজোফ্রেনিয়ার সঙ্গে যখন মদ্যপানের বিষয়টি  যুক্ত হয়।  দুইয়ে মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।

তাই অন্তর্নিহিত মানসিক ব্যাধির চিকিৎসা বা ইভোল্যুশন এই ধরনের সমস্ত রোগীর জন্য আবশ্যক। হাতের বা কব্জির শিরা কাটা, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহননের চেষ্টা, ঘুমের ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন এইসব রোগীদের আত্মহননের কিছু সাধারণ উপায়।

তাই নিজের একান্ত প্রিয় মানুষটির আত্মহত্যার পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে না দিয়ে বরং তার দিকে ভালোবাসা আর সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।আর  এইসব রোগীর জন্য দ্রুত মানসিক চিকিৎসার বন্দোবস্ত করতে হবে। একজন মনোচিকিৎসকই পারেন এই ধরনের সমস্ত রোগীর ইভোল্যুশন করে তার সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁকে সম্পূর্ণভাবে সারিয়ে তুলতে। রোগীরা প্রায়শই আত্মহত্যার চিন্তা করে বা পরিকল্পনা করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

এই ধরণের রোগীদের সাধারণত তাঁর পরিবারের লোকেরা চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। প্রায় সবক্ষেত্রেই আত্মহত্যা করার পূর্বে আত্মহত্যাকারীর মধ্যে বেশ কিছু শারীরিক ও আচার আচরণের পরিবর্তন  ঘটতে  শুরু করে। যা দেখে খুব সহজেই বোঝা যায় সেই ব্যক্তি আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারেন ।

সেই পরিবর্তনগুলো অনেকটা এরকম-

>> একজন ব্যক্তি যিনি মৃত্যু সম্পর্কে বারবার একই কথা বলতে শুরু করেন, আত্মহত্যা করার হুমকি দিয়ে থাকেন কিংবা আত্মহত্যা করার কথা আলোচনা করেন;

>> আত্মহত্যার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেন;

>> একজন ব্যক্তি যিনি আত্মহত্যার ধারণা সম্পর্কে একাধিকবার উল্লেখ করেন;

>> একজন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন;

>> আত্মহত্যা করার ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সম্পত্তির উইল করা;

>> একজন ব্যক্তি যিনি সাম্প্রতিক বা অতীত জীবনের বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন কিংবা হতাশায় ভুগছেন অথবা যার মনের ভিতরে তীব্র অ্যাজিটেশন / উদ্বেগ কাজ করছে তিনি আত্মহত্যাপ্রবণ হতে পারেন।

 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top