Mental health মনের যত্ন

অতিরিক্ত আবেগ, নিজেকে সামলাবেন কোন উপায়ে

depression

মানুষমাত্রেই নানা অনুভূতির সমাহার।  প্রতিটি মানুষই নিজের নিজের মতো করে আবেগপ্রবণ হন। কেউ কম, কেউ বেশি।  তবে কোনও কিছুই বেশি থাকা ভালো নয়। তেমনই অতিরিক্ত আবেগের বশে, মানুষ পড়তে পারেন জোরদার সমস্যায়। রাগ, ক্ষোভ, ভালোবাসা, ঘৃণা, উদ্বেগ, বিশ্বাস, আনন্দ, প্যানিক, ভয়, দুঃখ ইত্যাদি আবেগের মধ্যে পড়ে। অতিরিক্ত আবেগ আমাদের মনকে তো ক্ষতিগ্রস্ত করেই, ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে আমাদের শরীরকেও। ক্ষতিকারক আবেগ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারাটা একটা মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ।

ছোটোখাটো বিষয়ে রাগ অভিমান ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিলে আপনাকে সাবধান থাকতেই হবে।

কী কী ক্ষতি হয়

দুঃখ –  দুঃখবোধ প্রধানত ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি শ্বাসের সমস্যা, অবসন্নভাব ও বিষণ্ণতা তৈরি করে।

ভয় : ভয়, কিডনি ও পাকস্থলীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আর যাঁরা দীর্ঘমেয়াদে ভয়ে ভোগেন, তাঁরা লিভার ও হার্টের সমস্যায় পড়তে পারেন। এমনকি ভয় আমাদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিয়ে আমাদের বিষণ্ণতার দিকে ঠেলে দেয়।  অনেক চিন্তা, অনেক রকম ভয় যখন মাথায় মধ্যে ঢুকে বসেতখন সেটি মনের অনেকটাই দখল করে নেয় । ফলে কাজের ফলাফল হয়তো আশানুরূপ হয় না।

আতঙ্ক :  এটি অনেকটা ভয়ের কাছাকাছি। আতঙ্ক থেকেও মানসিক ও শারীরিক সমস্যা হয়। এটি স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে। এছাড়া এটি থেকে মাথাঘোরা, বুক ধড়ফড় করা ইত্যাদির সমস্যা হয়।

রাগ : রাগের প্রকাশ বিভিন্নভাবে হয়। রাগ থেকে বিরক্তি, হতাশা, হিংসা, ক্রোধ তৈরি হয়। রাগ মাথাব্যথা, ঘাড়ের ব্যথা, মাথাঘোরার সমস্যা, বিশেষ করে লিভারের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়।

মানসিক চাপ : মানসিক চাপ মস্তিষ্ক ও হার্টকে দুর্বল করে দেয়।

দুশ্চিন্তা : দুশ্চিন্তা দুর্বল করে তোলে পাকস্থলীকে।

 

আবেগ নিয়ন্ত্রণের  উপায়

শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন।  প্রথমে কিছুক্ষণ স্বাভাবিক শ্বাস নিন। তারপর খুব ধীরে নাক দিয়ে ফুসফুস ভরে শ্বাস গ্রহণ করুন। শ্বাসটা ভেতরে ধরে রাখতে রাখতে ৪ পর্যন্ত গুনুন। তারপর ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন। এই পদ্ধতিটি আবেগ নিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ।

আবেগপ্রবণ মানুষ সব ধরনের সমস্যার কথাই চিন্তা করে নেন। তাই তাঁদের কথা একটু মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে। অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লে কাছের মানুষকে মনের কথা উজাড় করে দিন।  প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলেই তার সমাধান সম্ভব।

যা কিছু ভাল, যা কিছু সুন্দর তার প্রশংসা করুন প্রাণ খুলে, সেগুলোর চর্চা করুন নিজের জীবনে। প্রতিদিনের ছোটোখাটো আনন্দের বিষয়গুলো উপভোগ করুন। দেখবেন অকারণ আবেগ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন অনায়াসে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top