Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

 ছোট্ট সোনারও হতে পারে জুভেনাইল ডায়াবেটিস, সতর্কতা রুখতে পারে ক্ষতি

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা। ভারতে বর্তমানে ২০-৭৯ বছর বয়সী ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭৪.২ লাখ।

তবে এই পরিসংখ্যানটির পাশাপাশি আরও একটি সমস্যা চিকিৎসকদের চিন্তায় ফেলেছে তা হল শিশুদের মধ্যে ডায়াবেটিস।

পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে ৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে গোটা বিশ্বের প্রায় ১.১ মিলিয়ন শিশু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

প্রতিবছর ১ লাখেরও বেশি শিশু টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়।

স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত জাঙ্কফুড খাওয়া এবং বেশি মিষ্টি খাওয়া এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়।

ডায়াবেটিস আজকাল একটি খুব সাধারণ অসুখ বলে মনে করা হলেও, যখন শিশুর টাইপ-১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে, তখন বাবা-মায়ের চারপাশের পৃথিবীটা ভেঙে পড়ে বলে মনে হয়।

যে সময়টা ছোটাছুটি করে খেলাধুলোর কথা সেইসময়ে তাদের বেঁচে থাকার জন্য দিনে নিয়মিত তিন থেকে চারবার ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নিতে হয়।

এই কষ্টটা যতটা সন্তানের পক্ষে কষ্টদায়ক একইভাবে তার অভিভাবকদের কাছেও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোটদেরও যে ডায়াবেটিস হতে পারে সেটা তার বাবা-মার মাথাতেই আসছে না।

কারণ, অভিভাবকদের মধ্যে তো বটেই, ডাক্তারদের মধ্যেও এনিয়ে সচেতনতা অনেক কম।

তাই বাচ্চারা প্রাথমিক উপসর্গ নিয়ে গেলেও অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায়, চিকিৎসকরা বাচ্চাদের ডায়াবেটিস বাদে বাকি পরীক্ষা করিয়েছেন।

যেসব উপসর্গ দেখে বুঝবেন শিশুরাও ডায়াবেটিসের শিকার:

ঘন ঘন বাথরুম যাওয়া;

খুব তৃষ্ণা লাগা;

স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাওয়া বা এমনকি লক্ষণীয় ওজন হ্রাস;

অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগা;

বমিবমি ভাব;

বিরক্তি বোধ করা;

প্রস্রাবের জায়গায় (বিশেষ করে মেয়েদের) সংক্রমণ (ফাংগাল);

দ্রুত শ্বাস ফেলা বা অজ্ঞান হয়ে পড়া।

ক্ষতির পরিমাণ

এক্ষেত্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং সঠিক যত্ন প্রয়োজন। যদি সঠিকভাবে পরিচালনা না করা হয় তবে এটি অনেকগুলি জটিলতার জন্ম দিতে পারে

কখনো কখনো স্বল্পমেয়াদী এবং কখনো  কখনো দীর্ঘমেয়াদী।

টাইপ-ওয়ান ডায়াবেটিসের প্রভাবে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিডনি, দৃষ্টিশক্তি, নার্ভাস সিস্টেম, চোখ ও হার্ট।

টাইপ-১ ডায়াবেটিসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ইনসুলিন থেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুর প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে ইনসুলিন দেওয়া হয়।  টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে সঠিক জীবনযাপন, ওজন নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওষুধ খেয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে পারিপার্শ্বিক ক্ষতি অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top