Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

স্ক্রিন টাইম বেড়ে যাওয়ায় বৃদ্ধি পাচ্ছে ড্ৰাই আই- এর সমস্যা

করোনাকালে বাড়ির খুদে সদস্য থেকে বড়রা সকলেই বেশিরভাগ সময় টিভি, মোবাইল বা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে কাটাতে বাধ্য হয়েছে।  বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে ‘ড্রাই আই আমাদের একটা বড় মাথাব্যথা। টিভি, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখের পলক ফেলতে ভুলে যাচ্ছেন মানুষ। তার থেকেই চোখের জল শুকিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে চোখের ভেতর শুষ্ক হয়ে ওঠে। স্বাভাবিকভাবে তাকিয়ে থাকাও কষ্টকর হয়ে ওঠে। চোখের সাধারণ এই সমস্যাটিকে বলা হচ্ছে ‘ড্রাই আই’।

যাঁরা বেশি সময় ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে টিভি দেখেন অথবা ভিডিয়ো গেম খেলেন, তাঁদের অনেকেরই ড্রাই আইয়ের সমস্যা হয়।

ড্রাই আইয়ের লক্ষণ

১. চোখে যথেষ্ট পরিমাণ জল তৈরি না হলে বা সেই জল লুব্রিক্যান্ট হিসেবে যথেষ্ট না হলে চোখ করকর করে অথবা চোখে জ্বালা হতে পারে;

২. চোখ দিয়ে অনবরত জল পড়া;

৩. চোখ লাল হয়ে যাওয়া;

৪. চোখে মিউকাস তৈরি হওয়ার ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া;

৫. চোখ চুলকানোর মতো সমস্যা ।

কেন হচ্ছে

স্ক্রিন টাইম বেশি হয়ে যাওয়া ছাড়াও রোদে অতিরিক্ত সময় থাকার জন্য চোখের নানা ক্ষতি হচ্ছে , যার মধ্যে ড্ৰাই আই অন্যতম।  এছাড়াও সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি সরাসরি চোখে লেগে ক্ষতি হচ্ছে রেটিনারও।  এমনকি দূষণ ও ধোঁয়ার সংস্পর্শে বেশি থাকলে, ভুল খাদ্যাভ্যাসও ডেকে আনতে পারে ড্ৰাই  আইয়ের উপসর্গ।

ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে দূর হবে এই সমস্যা

চোখে  গরম জলের ভাপ

গরম ভাপ নেওয়া:  হালকা ও আরামদায়ক গরম ভাপ চোখের ভেতরের অংশের সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এটি চোখে বেশি আর্দ্রতা জোগাবে।  হালকা গরম জলে একটা পরিষ্কার কাপড়ের টুকরো বা তুলো ডুবিয়ে রেখে দিন ৷ তারপর কাপড়টা তুলে নিংড়ে নিয়ে চোখের উপর পাঁচ মিনিটের জন্য রাখুন ৷ এতে চোখের মধ্যে সমস্ত ময়লা বেরিয়ে যাবে।

গোলাপ জল

গোলাপ জল চোখের পক্ষে বেশ ভালো একটি উপাদান। লাল বা জ্বালা ভাব দূর করতে ও ক্লান্ত চোখ তরতাজা করে তুলতে ভিটামিন-A গুণসমৃদ্ধ গোলাপ জল খুব কার্যকর৷ প্রসঙ্গত, ভিটামিন A-র অভাবেই ড্রাই আইয়ের সমস্যার সূত্রপাত হয় ৷ পরিষ্কার তুলো গোলাপ জলে ভিজিয়ে নিয়ে চোখের উপর রাখুন৷ ১০ মিনিট পর সরিয়ে চোখ ধুয়ে নিন ৷

যখন বাইরে থাকবেন, বিশেষ করে প্রবল হাওয়া ও রোদে অবশ্যই সানগ্লাস  ব্যবহার করতে হবে । ড্রাই আই’র সমস্যা নিয়ে যদি স্ক্রিন ওয়ার্ক করতে হয়, অর্থাৎ কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় তবে সানগ্লাস পরে কাজ করতে হবে। এছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে একটানা স্ক্রিন-এর দিকে তাকিয়ে থাকা থেকে বিরত করতে হবে।  তা নাহলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।  অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top