Mental health মনের যত্ন

অবাধ্য সন্তান? আয়ত্তে আনার কিছু কৌশল

প্রত্যেক মা-বাবারই  অভিযোগ থাকে কিছু না কিছু ব্যাপারে সন্তান তাদের কথা শোনে না।  সমস্ত বাচ্চার মধ্যেই কিছুটা অবাধ্যতার লক্ষণ প্রকাশ পায়।   বাবা-মায়ের মুখে একই সমস্যার কথা- “বাচ্চা তাদের কথা শুনছে না ও দিন দিন আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে”। প্রযুক্তির কল্যাণে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বয়সের তুলনায় তাড়াতাড়ি অনেক কিছু জেনে ফেলছে।

অনেকসময় তারা বড়দের মতো আচরণ করলে আমরা স্বাভাবিকভাবেই তাকে অবাধ্য বলে ভাবতে শুরু করি।

কিন্তু একই সঙ্গে এটাও  ভাবা দরকার কেন কথা শুনতে চাইছে না সন্তান

অবাধ্যতা করার দোষ কি শুধু তার একার নাকি বাবা ও মায়ের আচরণের মধ্যে ফাঁক থেকে যাচ্ছে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক সন্তানের সঠিকভাবে উপযুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার পথ কিভাবে সুগম করা সম্ভব

১. সন্তানের প্রশ্নের জবাব দিন:

শিশু মনে কৌতুহলের শেষ নেই। কত কিছু নিয়েই যে প্রশ্ন জাগে তার মনের ভিতরে তার ইয়ত্তা নেই। সে তার চারপাশে যা দেখে তার সম্বন্ধেই  কৌতূহল প্রকাশ করে। আপনি যদি আপনার সন্তানের প্রশ্নের জবাব না দেন, জবাবের জন্যে সে হয়তো খুঁজে নেবে এমন কাউকে বা এমন কিছুকে  যা তার ছোট্ট মনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

তাই যতটা সম্ভব শিশুর বা সন্তানের প্রশ্নের জবাব দিতে চেষ্টা করুন।

২. প্রশংসা করুন ও ধন্যবাদ দিন :

আপনার সন্তান যখন কোনও ভালো কাজ করবে তখন তার প্রশংসা করে তাকে ভালো কাজে উৎসাহিত করুন। পজিটিভ কাজের জন্য তাকে ধন্যবাদ দিন। পারলে কাজের জন্য পুরষ্কার দিন। এতে করে তার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়বে তেমনি আরও  বেশি ভালো কাজ করতে সে উৎসাহ পাবে।

৩. সন্তানের ব্যাপারে একমত হোন :

সন্তানের ব্যাপারে বাবা-মার একমত হওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । একই ব্যাপারে বাবা-মা ভিন্ন মত দেবেন না। এতে সন্তান বিভ্রান্ত হয়। আগেই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে নিন। আর কোনও ব্যাপারে দ্বিমত হলে তা নিয়ে কখনো সন্তানের সামনে বিতর্কে জড়াবেন না।

নিজেরা কথা বলুন।

৪. ঠিক-ভুল উপকার-অপকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরি করে দিন :

সঠিক কাজের জন্য যেমন তাকে পুরস্কৃত করবেন তেমনি ভুল কোনও কাজ করলে বারবার তাকে তিরস্কার করবেন না। বরং অন্য সময় যেন এরকম ভুল না হয় সেই সম্পর্কে বুঝিয়ে বলুন। এই ভুল থেকে বেরিয়ে আসতে তাকে সাহায্য করুন। দেখবেন যেকোনো ভুল বা সমস্যায় পড়লে সে আপনাকেই সবার আগে বলবে এবং এর থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করবে।

ফলে দ্বিতীয়বার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না আর আপনিও থাকবেন নিশ্চিন্তে ।

৫. সন্তানের আত্মমর্যাদাবোধকে সম্মান করুন:

শিশুদেরও যে আত্মমর্যাদাবোধ আছে এটা আমরা অনেক সময় ভুলে যাই। আমরা হয়তো অন্যের সামনে তাকে বকাবকি করি, তার ভুল ধরিয়ে দিই বা তাকে অপ্রস্তুত করে তুলি। শিশুর যেকোনও ভুল সংশোধনের যৌক্তিক কারণ বা প্রয়োজন দেখা দিলেও এটা এমন কারও সামনে করা উচিত নয়, যাতে শিশুর আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত লাগতে পারে। মনে রাখা উচিত, শিশু ছোট হলেও তারও আত্মমর্যাদাবোধ এবং আত্মসম্মানবোধ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।

তাই এ ধরনের আচরণের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা একান্তভাবেই প্রয়োজন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top