Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

মাঙ্কি পক্স কি আরও বেশি সংক্রামক ? জেনে নিন কতটা ভয়ঙ্কর এই অসুখ

বিশ্বজুড়ে মাঙ্কি পক্সের দাপট বেড়েই চলেছে।  ইতিমধ্যেই বিশ্বের একাধিক দেশে মাঙ্কি পক্সের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে।

এই নিয়ে গোটা বিশ্বের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি এই রোগ নিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে ।

তবে এখনও পর্যন্ত ভারতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত কোনও রোগীর সন্ধান মেলেনি।

তবে পাঁচ বছরের একটি বালিকার শরীরে ও এক ব্যাক্তির শরীরে উপসর্গ থাকায় তাদের রক্তের নমুনা পরখ করে দেখা হয়েছিল।

কিন্তু দুজনেরই রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর পক্ষ থেকে এদেশের জনগণকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

বিশেষত, যাঁরা মাঙ্কি পক্সে সংক্রমিত দেশগুলি থেকে ফিরেছেন, তাঁদের সংস্পর্শ এড়িয়ে যাওয়ার  নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।

এই রোগের মূল উৎস আফ্রিকায় খুঁজে পাওয়া গেলেও তা এবার ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অবশ্য আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, মাঙ্কি পক্সের জেরে করোনা-অতিমারির মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না দুনিয়ায়।

কী এই মাঙ্কি পক্স ?

মাঙ্কি পক্স ভাইরাস বা MPV হল একটি ডাবল-স্ট্র্যান্ডেড ডিএনএ জুনোটিক ভাইরাস। যা মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে মাঙ্কি পক্স সৃষ্টি করে।

সাধারণত বানর জাতীয় প্রাণী থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রামিত হয়।

আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা বা মাঙ্কি পক্সের জীবাণু আছে এমন পোশাক, বিছানা বা তোয়ালে ব্যবহারের মাধ্যমেও এই রোগের ভাইরাস ছড়াতে পারে।

মাঙ্কি পক্স-এর গুটির রস কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমেও ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।

এটি একটি বিরল ভাইরাল সংক্রমণ, যা ততটাও সংক্রামক নয়। মাঙ্কি পক্সে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষই কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

উপসর্গ :

১. শরীরে ব্যথা;

২.  র‌্যাশ;

৩. জ্বর;

৪. লিম্ফ নোড বড় হয়ে যাওয়া;

৫. শরীরে অনেক জায়গায় লিম্ফাডেনোপ্যাথিস;

জ্বর হওয়ার ১-৩ দিনের মধ্যে শরীরে ফুসকুড়ি বের হয়। ফুসকুড়িগুলো মুখ, হাতের তালু, পায়ের তলায়, মুখের শ্লেষ্মা, ঝিল্লি ও যৌনাঙ্গের আশপাশেও হতে পারে।

এই র‌্যাশ থেকে নিঃসৃত পুঁজ ও খষে পড়া মৃতকোষ প্রচণ্ড সংক্রামক, তা সে শরীরের যে স্থানেই থাকুক না কেন। তাই এগুলো সুস্থ ব্যক্তির শরীরের যে অংশে স্পর্শ করবে সেখানেই রোগের সূত্রপাত হবে।

কীভাবে সেরে যায় এই রোগ?

এই পক্সের কোনও লক্ষণ দেখা দিলেই সতর্ক হয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমত রোগ ফেলে রাখবেন না। সরাসরি চিকিৎসকের কাছে যান।

তবে এটি নিজে থেকেই সেরে ওঠে বেশিরভাগ সময়। তবে প্রয়োজনে ওষুধের দরকার পড়ে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top