Mental health মনের যত্ন

অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করাটা কি ভালো?

আমাদের দেহের একটি অঙ্গ হাতের পাঁচটা আঙ্গুলের মতোই আমরা ব্যক্তিবিশেষে প্রত্যেকে প্রত্যেকের থেকে আলাদা। তাই আমাদের চিন্তা-ভাবনা থেকে শুরু করে আমাদের দোষ-গুণ, শিক্ষা, বেড়ে ওঠার পরিবেশ এমনকি নিজের বাবা-মাও আলাদা।

তা সত্ত্বেও আমরা একে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে মানসিকভাবে দুর্বল হতে থাকি।

কোনও বিশেষ কাজ আপনার সহকর্মী করে ফেলল, আপনি সেটা পেরে উঠলেন না। আর সেই নিয়ে নিজেকে তাঁর সঙ্গে ক্রমাগত তুলনা করে মনের ওপর সাংঘাতিক চাপ বাড়িয়ে তুললেন।

কিন্তু আপনাকে এটা বুঝতে হবে, আপনি তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন ব্যক্তি। আপনার যা গুণ বা দোষ আছে আপনার সহকর্মীর সেটা নেই এবং ঠিক একই কথা প্রযোজ্য আপনার সহকর্মীর ক্ষেত্রেও।

এটা জেনে নিন, নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করতে করতে নিজেকে নিকৃষ্ট ভাবতে গিয়ে আপনি নিজেকে প্রায়শই বিধ্বংসী পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। কারণ, এই দুনিয়ায় কোনও মানুষই পারফেক্ট বলে নিজেকে দাবি করতে পারেন না।

যারা আপাতদৃষ্টিতে সফল তাঁদের কিছু দোষ খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। আপনার যাকে দেখতে অসাধারণ বলে মনে হচ্ছে কিন্তু তার আচরণ ভাল নাও হতে পারে । আবার এটাও হতে পারে যে, আপনি যার সঙ্গে নিজেকে তুলনা করছেন সে আপনার মতো কাজে দক্ষ নয়।

আপনি যা করতে পারেন সেটা সে করতে পারে না। সবাই একই গুণ নিয়ে জন্মায় না।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মানুষ সারাক্ষণ অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করেন তাদের মধ্যে হিংসা, অপরাধবোধ ও অনুশোচনা বেশি থাকে l মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আধুনিক তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক অস্থিরতার জন্য বেশিরভাগই ক্ষেত্রেই সামাজিক তুলনাকে সরাসরি দায়ী করছেন।

আমরা প্রায়ই আমাদের বেশিরভাগ বন্ধু, সহকর্মী বা এমনকি একজন সেলিব্রিটির সঙ্গে তুলনা করতে পছন্দ করি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাফেরা করতে করতে এই প্রবণতা দিনকে দিন বাড়ছে।

এটা জেনে রাখা ভালো প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু নিজস্ব সমস্যা থাকে এবং প্রতিমুহূর্তে সে তার সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করে চলেছে। তাই, আপনি বাইরে থেকে যা দেখেন তা সত্য নাও হতে পারে। আপনি কেবল তার সেই বৈশিষ্ট্যগুলিই দেখতে পান যা, আপনার কাছে ভাল বলে মনে হয়।

কীভাবে এই সমস্যা থেকে বেরোবেন?

অন্যের সঙ্গে তুলনা টানার কুফল সম্পর্কে সচেতন হোন। অন্যদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করার ক্ষতিকর প্রভাবগুলি আপনার জীবনের উপর লক্ষ্য করুন। এই মানসিকতা আপনার যে ক্ষতি করছে তা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হলে আপনাকেই সচেষ্ট হতে হবে।

আপনার নিজের সদিচ্ছাই এটিকে ভেতর থেকে সরিয়ে ফেলতে পারে।

নিজের ব্যর্থতা ভুলে গিয়ে যেসব গুণগুলি রয়েছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।  যে ক্ষমতা আপনার আছে তা হয়তো অপরজনের মধ্যে নেই। সেই ক্ষমতাকে হাতিয়ার করেই লক্ষ্যপূরণের দিকে এগিয়ে যান।

অতীত সাফল্য সম্পর্কে গভীরভাবে সচেতন হন। এবং সেটিকে অনুসরণ করার জন্য তাদের মধ্যে অনুপ্রেরণা খুঁজুন। নিজেকে মনে করিয়ে দিন কেউই নিখুঁত নয়। কেউই সমস্যা বা ব্যর্থতাহীন জীবনযাপন করে না।

অন্যদের সঙ্গে আমাদের জীবন তুলনা করা বোকামি। কিন্তু অনুপ্রেরণা খোঁজা এবং অন্যদের কাছ থেকে শেখা সম্পূর্ণ বুদ্ধিমানের কাজ। পার্থক্য শিখতে কঠোর পরিশ্রম করুন।

আপনি যাদের প্রশংসা করেন বা অনুপ্রেরণা হিসেবে মনে করেন তাঁদের সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানার চেষ্টা করুন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top