Diet - ডায়েট

গর্ভাবস্থায় গ্রিন-টি পান কতটা নিরাপদ

সাধারণ চা-এর তুলনায় আমরা সাধারণত গ্রিন-টিকে বেশি উপকারী হিসেবে মনে করে থাকি।  গ্রিন-টি হলো এমন এক সতেজ পানীয় যা দেহে কোনও ক্যালোরি যোগ করে না।  এটিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকার কারণে এটি একটি স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসাবে বিবেচিত হয়।

আমরা সাধারণ অবস্থায় কোনও কিছু চিন্তা-ভাবনা না করেই অনেক খাবার খেয়ে থাকি যা মহিলাদের গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।  তাই সাধারণ চা খাওয়ার অভ্যেস  থাকলে মনে হতে পারে গর্ভাবস্থায় গ্রিন-টি পান কতটা নিরাপদজনক !

গর্ভাবস্থা মহিলাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।

এইসময় বেশি করে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত মহিলাদের। তবে সবরকম খাবার এই সময় খাওয়া যায় না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় গ্রিন-টি সম্পূর্ণ নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় হাইড্রেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এক্ষেত্রে গ্রিন-টি অবদান রাখতে পারে।

তবে গর্ভাবস্থায় থাকা মানে আপনার সঙ্গে নতুন একটি জীবন জড়িয়ে থাকা। তার স্বাস্থ্যের ব্যাপারেও আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

গ্রিন-টিতে আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা হবু মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। পাশাপাশি গ্রিন-টি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সেই কারণেও গ্রিন-টি গর্ভবতী মহিলাদের জন্য উপকারী। কিন্তু তার পরিমাণ যেন বেশি না হয়।

গর্ভাবস্থায় একজন মহিলাকে ক্যাফেইন জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।  কফির মতো উচ্চক্যাফিনযুক্ত পানীয়গুলি এড়িয়ে চলাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ক্যাফিন জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের দিকে নিয়ে যায় এবং পানীয় জলের ইতিবাচক প্রভাবগুলিকে শরীর থেকে কমিয়ে দিতে থাকে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ অফ অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টরা গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন ২০০ মিলিগ্রামের নিচে ক্যাফেইন খাওয়ার পরামর্শ দেয়। সেইমতো হিসেবে করে দেখতে গেলে এক কাপ গ্রিন-টিতে ২৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে, তাই প্রতিদিন নির্দ্বিধায় ২ কাপ গ্রিন-টি খাওয়া যেতেই পারে।

গ্রিন-টি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট-এ ভরপুর থাকে। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দেহের গুরুত্বপূর্ণ কোষগুলি ধ্বংস হওয়া থেকে বাধা দেয়।

আপনার ডায়েটে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত খাবার যোগ করে ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ইত্যাদির মতো রোগগুলি এড়ানো যায়।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে গ্রিন-টি গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিপজ্জনক । কারণ গ্রিন-টি শরীরে ফলিক অ্যাসিড বা ফোলেটের স্তর কমিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে এবং তাই প্রথম ট্রাইমেস্টারে এটি এড়ানো উচিত।

এমনকি দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ট্রাইমেস্টারেও গ্রিন-টি খাওয়া দিনে দুই কাপের বেশি হওয়া উচিত নয় । যাতে আপনি এবং আপনার শিশু নিরাপদে থাকেন। গর্ভাবস্থায় ফলিক অ্যাসিড অত্যন্ত জরুরি।

কিন্তু অতিরিক্ত গ্রিন-টি পান করলে যেহেতু শরীরে ফলিক অ্যাসিডের মাত্রা কমে যেতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় গ্রিন-টি বেশি না খাওয়া ভালো। তবে দিনে দু-কাপ গ্রিন-টি আপনি নিশ্চিন্তেই খেতে পারেন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top