Mental health মনের যত্ন

বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানের মধ্যে পরিবর্তন ও বাবা-মায়ের ভূমিকা

প্রতিটি ছেলে ও মেয়ের জীবনে বয়ঃসন্ধিকাল যৌবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই বয়সে তারা শৈশব থেকে কৈশোরে পদার্পণ করে। যৌন হরমোনের ক্ষরণে শরীর ও মনে আসে একটি বিরাট পরিবর্তন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী জীবনের ১০-১৯ সময়টাই হলো কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকাল। শৈশব ও যৌবনের এই সন্ধিক্ষণে ছেলেমেয়েদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন হয়।

এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-

বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে ছেলেমেয়েদের নিজেদের শরীর সম্পর্কে কৌতূহল হয়, শরীরের পরিবর্তন বিষয়ে জানতে চায়;

নারী-পুরুষের সম্পর্কে আগ্রহ দেখতে শুরু করে;

নিজেদের হঠাৎ করে বড় ভাবতে শুরু করে;

ছেলেমেয়েরা পরস্পরের প্রতি আকর্ষণবোধ করে;

অজানা জিনিস জানার বিষয়ে কৌতূহলী হয়;

চেহারা, সৌন্দর্য ও পোশাক সম্পর্কে সচেতন হয় এবং অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করে ;

কেউ আবার একা থাকতে পছন্দ করে, সংকোচের কারণের কারো সামনে যেতে চায় না;

এ বয়সে মন চঞ্চল হয়ে ওঠে। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, আবেগ আর অস্থিরতা কাজ করে । কখনও মন বিষন্ন হয়ে ওঠে, আবার কখনও মন খুশিতে ভরে যায় । কেউ হয়ে ওঠে অভিমানী, কেউবা কৌতূহলী ।

তবে এই পরিবর্তনগুলো সাময়িক । বড় হওয়ার সাথে সাথে সব স্বাভাবিক হয়ে যায় ।

বয়ঃসন্ধিকালের এই ধাপটিতে এতকিছু ঘটে, অথচ সন্তানের বাবা-মায়েরা এই সময়টা ঠিক করে উঠতে পারেন না, সন্তানের সঙ্গে কিভাবে মিশবেন। বয়ঃসন্ধিকালের সময়েই তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পড়ে বাবা-মায়ের বন্ধুত্বের।

বাবা-মায়ের অসহযোগিতা যেকোনো মুহূর্তে কোনও ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিতে পারে ছেলেমেয়েদের ৷

বয়ঃসন্ধিকাল যে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, তা বাড়ির অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানের আচার-আচরণে পরিবর্তন খুবই স্বাভাবিক।

এই পর্যায়ে ছেলেরা বা মেয়েরা অভিভাবকদের সঙ্গে একটা দূরত্ব বজায় রেখে চলতে চায়।

অর্থাৎ তারা নিজেদের জন্য একটা আলাদা জায়গা তৈরি করতে চায়।

যেসব অভিভাবকরা তাঁদের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে খোলাখুলিভাবে আলোচনা করেন, সন্তানের সঙ্গে বন্ধুর মতো মেশেন, তাঁদের  সন্তানের মনের নাগাল পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে না।

একজন উঠতি বয়সের মানুষের এই ঝুঁকিপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়টিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তার মা-বাবাকে ও পরিবারকে ৷

তাছাড়া পারিবারিক বন্ধনের চেয়ে বড় বন্ধন কিছুই নেই।

বাড়ির পরিবেশ সুন্দর রাখা যেমন দরকার, তেমনই দরকার সন্তানের সাথে বন্ধুর মতো মেশার ৷

কারণ, তার মনের খবর রাখলেই হয়তো সন্তানকে অপরাধমূলক কাজ থেকে দূরে রেখে একজন যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যাবে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top