Diet - ডায়েট

শরীরকে চাঙ্গা রাখতে পাতে রাখুন প্রোবায়োটিক ডায়েট

আমাদের শরীর তথা পরিপাক তন্ত্রে লাখো ব্যাকটিরিয়ার বসবাস। তবে এদের মধ্যে সবকটি কিন্তু ক্ষতিকর নয়। এদের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু উপকারী ব্যাকটিরিয়াও। কিছু জীবাণু আমাদের বন্ধু।

সুস্বাস্থ্যের জন্য আমাদের শরীরে এসব জীবাণুর উপস্থিতির বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। এই আনুবীক্ষণিক উপকারী ব্যাকটিরিয়াগুলি আমাদের হজমশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর ফলে সুস্থ থাকে আমাদের শরীর।

৩০ থেকে ৪০ শতাংশ রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা থাকে আমাদের পৌষ্টিকতন্ত্রে।

সেইসব ভালো ব্যাকটিরিয়াকে প্রোবায়োটিক বলা হয়। প্রোবায়োটিক আমাদের সমগ্র শরীরের, বিশেষ করে আমাদের পরিপাকতন্ত্র যথা- খাদ্যনালী, পাকস্থলী, অন্ত্র ইত্যাদির সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে।

আমাদের হজম ক্ষমতাকে ভালো রাখার জন্য প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও স্ট্রেস কমাতে এবং ত্বককে সুন্দর রাখতেও সাহায্য করে।

প্রোবায়োটিক আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাকটিরিয়া। পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় ও ভালো রাখার জন্য ভালো জীবাণুর দরকার হয়।

এদের কাজ কী কী জেনে নেওয়া যাক

  • এরা পরিপাকক্রিয়াকে উন্নত করে;
  • বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন তৈরি করে;
  • বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান নিষ্ক্রিয় করে;
  • অন্য ক্ষতিকর জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে;
  • ক্ষতিকর জীবাণুর অতিরিক্ত বংশবৃদ্ধি প্রতিরোধ করে।

দেহে প্রোবায়োটিকের অভাব দেখা দেয় বিভিন্ন কারণে। যেমন :

  • অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার;
  • কোনও রোগের কারণে;
  • অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ।

তাই পরিপাকতন্ত্রকে শক্তিশালী করে তুলতে আমাদের প্রত্যেকদিন প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। যা অন্ত্র বা কোলনের মধ্যের উপকারী ব্যাকটিরিয়াকে পুষ্টি প্রদান করে।

এগুলো পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ওজন বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

ইনসুলিনের সংবেদনশীলতার উন্নতি ঘটায় এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

 

কী কী উপায়ে খাবারের তালিকাকে প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ করে তুলবেন

 

কলা কলার মধ্যের বেশি পরিমাণে ফাইবার থাকে। যে পাকা কলায় সামান্য সবুজ রঙ থাকে তাতে প্রোবায়োটিক বেশী থাকে।

দই দইকে সবথেকে ভালো প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাদ্য হিসেবে ধরা হয়ে থাকে । ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটিরিয়া ও বিফিডোব্যাকটিরিয়ার মাধ্যমে গাঁজানো হয় দুধকে।

দই হাই-ব্লাডপ্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে শিশুদের যে ডায়ারিয়া হয়, তার উপশমে দই খুব ভালো কাজ করে এবং ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম কমানোয় বড় ভূমিকা পালন করে।

পনির পনিরও খুব ভালো একটি প্রোবায়োটিক। এছাড়াও পনির-এ আছে ভিটামিন-এ, বি-১২, ফসফরাস, ক্যালশিয়াম, ইত্যাদি। প্রতিদিন পরিমাণমতো পনির খান।

রসুন কাঁচা রসুনের মধ্যে ১৭.৫ শতাংশ প্রোবায়োটিক থাকে। যে কারণে বলা হয় কাঁচা রসুন খাওয়া খুবই ভালো। এতে শরীরের অন্যান্য রোগও সেরে যায়।

বাটার মিল্ক মাখন তোলা দুধের সঙ্গে এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর তা ফ্রিজে রাখুন কিছুক্ষণ।

এই দুধ কিন্তু শরীরের জন্য দারুণ ভালো। টাটকা বানিয়ে খান।

ডার্ক চকোলেট ডার্ক চকোলেট একটি উচ্চ মানের প্রোবায়োটিক। এছাড়াও এতে আছে অ্যান্টি -অক্সিডেন্ট যা শরীরকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা করে।

 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top