Lifestyle - লাইফস্টাইল

ছোট্ট থেকেই সন্তানকে শেখান ভালো ভালো অভ্যেস

শিশুরা হল একতাল নরম কাদামাটি। যে আকারেই গড়তে চাইবেন সেইভাবেই তারা গড়ে উঠবে। শিশুরা তাদের বাবা-মাকে দেখেই ভবিষ্যতের তাদের আচার-আচরণ শিখে থাকে। এই অবস্থায় বড় হয়ে শিশুরা তাদের বাবা-মায়ের আচরণ এবং কাজকর্মকে অনুকরণ করে।

তাই নিজের পরিবারের সন্তানদের মধ্যে এমন কিছু সু-অভ্যাস তৈরি করা দরকার যা পরবর্তী জীবনে তাকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং তার আত্মবিশ্বাসকেও বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে।

শৈশব থেকেই নিজের সন্তানকে ভালো এবং খারাপ অভ্যাসগুলির মধ্যে পার্থক্য করতে এবং সেগুলির মধ্যে থেকে ভালোটিকে বেছে নিতে শিক্ষা দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।

সেই কাজ শুরু হয় পরিবার থেকেই। পরের ধাপে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও শিশু বেশ কিছু সু-অভ্যাস শিখতে পারে।

বাচ্চাকে হেলদি এবং অ্যাকটিভ রাখতে হলে তাকে কয়েকটি ভালো অভ্যাসে অভ্যস্ত করাতে হবে।

খুব সহজ কয়েকটি নিয়ম অনুসরণ করেই শিশুর মধ্যে আদব-কায়দা, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা যায়।

শৈশবে যে অভ্যাস একবার বাচ্চার মধ্যে গড়ে তোলা হয়, সারাজীবনেও শিশুটি সেই অভ্যাস সহজে ছাড়তে পারে না।

সঠিক খাবার চেনানো বাচ্চারা খুব তাড়াতাড়ি ফাস্ট ফুড বা জাঙ্ক ফুডের দিকে আকর্ষণ বোধ করে।  ছোটবেলা থেকেই চিপস, কোল্ড ড্রিঙ্ক, চকোলেট, পিজ্জা, পাস্তা ও  নুডলস-এর প্রতি ভালোলাগার প্রবণতা থাকে।

সেগুলি থেকে মনোযোগ সরাতে হলে বাড়িতেই সুন্দর করে রঙিন খাবার তৈরি করে দেওয়া যেতে পারে। নানা রঙের খাবার বানিয়ে দিয়ে বাড়ির তৈরি খাবারের দিকে তাদের আকৃষ্ট করতে হবে।  নিয়মিত, পুষ্টিকর এবং সুষম খাবার খাওয়ার মাধ্যমে তাদের হেলদি ফুড হ্যাবিট তৈরি করতে হবে।

একঘেয়ে খাবার খাওয়ালে তারা বাড়িতে বানানো খাবারের প্রতি অনীহা দেখাতে শুরু করবে।

পিজ্জা, পাস্তা ও নুডলস-এর মতো খাবার বাড়িতে তৈরি করে দিন।  সাজিয়ে দিন আকর্ষণীয়ভাবে।

হ্যান্ড, বডি এবং ওরাল হাইজিন ছোট্ট থেকেই প্রত্যেক শিশুর দৈনন্দিন জীবনে ওরাল হাইজিন মেনে চলাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ওরাল হাইজিন মেনে চললে, বাচ্চা অনেকরকমের অসুখ থেকে পরিত্রাণ পেতে পারবে যেমন- ক্যাভিটি, নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ এবং হার্টের অসুখ।

সারা দিনে ২ মিনিট করে অন্তত দু-বার বাচ্চাকে শেখান দাঁত ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করতে, বিশেষ করে খাবার খাওয়ার পর দাঁত পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি;

শৈশব থেকেই বাচ্চাকে রোজ দাঁত ব্রাশ করতে এবং কুলকুচি করতে শেখানো উচিত;

টাং ক্লিনার দিয়ে জিভ কীভাবে পরিষ্কার করতে হবে, সেটা বাচ্চাকে ছোটো থেকেই শেখাতে হবে।

একইভাবে বাচ্চাকে হাত ধোওয়ার অভ্যাস করান। প্রতিবার খেতে বসার আগে হাত ধোয়া দরকার।

হাত ধুলে রোগের জীবাণু যেমন ছড়ানো থেকে আটকানো যায় তেমনি সংক্রমণ এবং অসুস্থতা থেকে বাঁচার জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

প্রতিবার টয়লেট ব্যবহার করার পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ানো অভ্যেস করতে হবে।

নাকে বা মুখে হাত দেওয়ার পর হাত ধুইয়ে দিন।

বাইরে থেকে ঘুরে আসার পর বা খেলাধুলো করে আসার পর হাত ও পা ভালো করে সাবান দিয়ে ধুতে শেখান ।

এছাড়াও সারাদিনে দু-বার অন্তত বাচ্চাকে পা ধোয়ার অভ্যাস করাতে হবে।

আঙুলের মধ্যের অংশগুলো ভালো করে পরিষ্কার করে ধুয়ে, শুকিয়ে মুছে নিতে শেখাতে হবে।

শারীরিক কসরত শিশুর সারাদিন শুয়ে-বসে থাকাকে একদম উৎসাহিত করবেন না।

বাচ্চা যদি ঘন্টার পর ঘন্টা রিমোট হাতে নিয়ে শুয়ে-বসে কাটায় তাহলে তাতে উৎসাহ দেবেন না।

। তাদের বাইরে যেতে উৎসাহিত করুন, যেমন- তাদের হাঁটতে বা ব্যায়াম করতে অথবা বাইরে খেলতে পাঠান ।

জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা ছোট্ট সন্তানটিকে তার নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার দায়িত্ব তাকেই দিয়ে দিন।  শিশুদের জীবনের প্রথমদিকে তাদের পরিচ্ছন্নতা শেখানোটা বাধ্যতামূলক ।

যখন তারা সুশৃঙ্খলভাবে থাকা জিনিসপত্র দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে, তখন তারা নিজেরাও জিনিসপত্র ওইভাবে রাখতে চাইবে ।

নিয়মিত এটি করলে, তারা শীঘ্রই নিজেদের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখতে শিখবে ও সেইভাবে রাখার চেষ্টা করবে ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top