Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

বুস্টার ডোজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মোকাবিলা করবেন কীভাবে ?

টানা দু’বছর করোনা অতিমারীর সঙ্গে লড়াই করতে আমাদের অন্যতম হাতিয়ার ছিল টিকা।  ধীরে ধীরে সবকটি দেশেই টিকাকরণের কাজ অগ্রগতির পথে।  দু’টি করে না হলেও অধিকাংশ মানুষের প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে টিকার বুস্টার ডোজও।  বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা সংক্রমণ কমানোর জন্য টিকাকরণই একমাত্র অবলম্বন।

তবে টিকা নেওয়া মানে এটা ভাবা ভুল যে কোনও ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হবেন না।  টিকা নেওয়া থাকলে  করোনা আক্রমণ করলেও তা ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছয় না। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের ডিরেক্টর, অ্যান্টনি এস ফাউচি মনে করেন, করোনার RNA ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অন্যতম প্রধান অস্ত্র।

কোভিড ১৯ থেকে বাঁচতে এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিশ্বের বহু দেশে করোনা বুস্টার ডোজ নিয়ে আসা হয়েছে। এদেশেও যাঁদের করোনা টিকার সব ডোজ নেওয়া সম্পূর্ণ হয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রেই একমাত্র বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। যাতে করে নতুন করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না কমে যায়।

সেই সঙ্গে বুস্টার ডোজের ক্ষমতা এবং বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে নিয়মিত গবেষণা হচ্ছে।  এই বুস্টার ডোজ সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গিয়েছে টিকাপ্রাপ্ত অধিকাংশ ব্যক্তিদের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে।

 

জেনে নিন বুস্টার ডোজটি কী ?

যেকোনো টিকার ক্ষেত্রে বুস্টার ডোজ হল বাকি ডোজের মতোই ভ্যাকসিনের আরও একটি ডোজ। এক্ষেত্রে প্রথম টিকাটি শরীরকে জানান দেয় শত্রুর উপস্থিতি, দ্বিতীয় টিকা শরীরকে দেয় ইমিউনিটি। এই তৃতীয় টিকার মাধ্যমে ইমিউনিটি হ্রাস পেলে তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৬০ ঊর্ধ্ব কো-মর্বিডিটি থাকা মানুষকে বুস্টার দেওয়া শুরু হয়েছে ।

এক্ষেত্রে দ্বিতীয় টিকা নেওয়ার ৯ মাস বাদে নিতে হবে তৃতীয় ডোজ।

বুস্টার ডোজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মোটামুটি একই। জ্বর, সর্দি-কাশি বা অন্য কোনও  শারীরিক সমস্যায় ভুগলে বুস্টার নিতে যাওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিন। টিকাকেন্দ্রে গিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। মাস্ক পরে থাকুন। এছাড়া বুস্টার ডোজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে কিছু বিষয় মেনে চলা  অত্যন্ত জরুরি—

শরীরকে হাইড্রেট করতে হবে করোনা বুস্টার শট নিলে বেশি করে জল খেতে হবে।  টিকা নিলে জ্বর আসা স্বাভাবিক।   শরীর আর্দ্র থাকলে অসুস্থতার প্রতিরোধ করা সহজ হবে। সেজন্য টিকা নেওয়ার আগে এবং পরে প্রচুর জল খাওয়া দরকার ।

মদ্যপান ধূমপান এড়িয়ে চলা ধূমপান ও মদ্যপান করলে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আরোo বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। টিকার কার্যক্ষমতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

হালকা খাবার খান কম কম খাবার খান বারে বারে। বাড়ির তৈরি সহজপাচ্য খাবার খান। বেশি ঝাল-মশলা দেওয়া খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।    খাবারের তালিকায় ফল ও সবজি রাখুন।  ডায়েটে প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিক ও ফাইবার রাখবেন। প্রসেসড ফুড এই ক’দিন খাবেন না।

পর্যাপ্ত ঘুম যেকোনো টিকা নেওয়ার পর শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কম থাকে। প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম। তাই টিকা নেওয়ার পর একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমনো জরুরি।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top