Mental health মনের যত্ন

ফেসবুক, ইন্সটায় মজে সারাদিন ! হতাশা আর অবসাদে ঘিরবে মন 

সারাদিন চোখ মোবাইলের স্ক্রিনে ।  ক’টা লাইক আর কার নোটিফিকেশনে  কি এল তা নিয়ে দিনের অধিকাংশ সময় ব্যস্ত থাকি ছেলে-বুড়ো সকলেই ।  বর্তমানে ইন্টারনেটের নেশা সব থেকে বড় একটি সামাজিক ব্যাধি ।

আপনি কি দিনের অনেকটা সময় ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম-এর মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের জন্য ব্যয় করেন ? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে সাবধান !

জানেন কি সোশ্যাল মিডিয়ায় ও ভার্চুয়াল দুনিয়ায় দিনভর ঘুরে বেড়ানোর ফলে মানসিক অবসাদ ও বিষণ্ণতার মতো রোগের শিকার হতে পারেন আপনিও ।

এমনিতেই আমরা যতটা শারীরিক সমস্যাতে গুরুত্ব দিয়ে থাকি মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে আমরা ততটা মনোযোগ দিই না ।  মানসিক স্বাস্থ্য ভীষণভাবেই উপেক্ষিত ।

হতাশা, উদ্বেগ এবং মুড স্যুইংয়ে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ জেরবার । এরই মধ্যে আমাদের আবালবৃদ্ধবনিতাদের মধ্যে ইন্টারনেট আসক্তি ক্রমেই বাড়িয়ে তুলছে হতাশা, বিষণ্ণতা ও অবসাদের মতো মানসিক রোগ ।

সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ব্যবহারে আপনার ব্যক্তিগত জীবনে নেমে আসতে পারে হতাশা, নিঃসঙ্গতা, উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা । পেনসিলভ্যানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তত্ত্ব গবেষকদের এক সমীক্ষায় এই ছবিটাই উঠে এসেছে ।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ বাথের ডক্টর জেফ ল্যামবার্ট সাম্প্রতিককালে একটি  গবেষণা করে জানিয়েছেন , আমাদের হতাশা এবং উদ্বেগ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সবথেকে বড় অবদান রয়েছে বিপুলভাবে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলির ।

দু’টি গবেষণাতেই উঠে এসেছে দিনের অধিকাংশ সময় ভার্চুয়াল দুনিয়ায় কাটানোর নেতিবাচক পরিণতি হল হতাশা ও বিরক্তি । পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে নেতিবাচক ওই সব মানসিক অনুভূতির সঙ্গে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সম্পর্ক এক্কেবারে সরাসরি এবং নিবিড় ।

সমীক্ষাতেই প্রমাণিত, অত্যাধিক পরিমাণে  ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম আসক্তি মানুষের জীবনের ইতিবাচক দিকগুলি ধ্বংস করে হতাশা বা ডিপ্রেশনের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে ।

গবেষকদের মতে, দিনে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সোশ্যাল মিডিয়ায় উঁকিঝুঁকি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাবে । তার থেকে বেশি সময় থাকলেই হিতে বিপরীত ।

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সপ্তাহখানেক যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়া এড়িয়ে চলেছেন তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে নানা ইতিবাচক প্রভাব বেড়েছে  এবং স্বাস্থ্যও ভালো হয়েছে ।

কেন আসে এই হতাশা ?

সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার ব্যক্তির জীবনে হতাশা, নিঃসঙ্গতা, মানসিক ক্লান্তি নিয়ে আসে কেন ? সোশ্যাল মিডিয়াতে যারা সর্বক্ষণ ঘুরে বেড়ান তাঁরা নিজেদের সঙ্গে অন্যদের  প্রতিক্ষেত্রেই  বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক তুলনা টানেন ।

আর যখনই আপনি মনে করবেন অন্য কারও জীবন আপনার থেকে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ, মসৃণ, সেক্ষেত্রে হতাশা আসতে বাধ্য ।

দেখনদারি সর্বস্ব এই কৃত্রিম দুনিয়ায় সকলেই দেখাতে চান আমি অন্যের তুলনায় কত ভাল আছি ।

আর আমার চেয়ে অন্যরা বেশি ভাল আছে, এমন ভাবনা, প্রবণতা এমনিতেই মানুষের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যমান ।

তারমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাতেগরম প্রমাণ দেখলে সে আরও তুলনায় চলে যায় মনে মনে । এই ভাবনা থেকেই সৃষ্টি হয়   দুর্বলতা, হতাশা ।

তাই  গবেষকদের দাবি, মানুষের জীবনে ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধির ফলেই মানসিক স্বাস্থ্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top