Lifestyle - লাইফস্টাইল

দীর্ঘক্ষণ কানে ইয়ারফোন রাখার বিপদ

স্মার্ট ফোনের ব্যবহারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্লুটুথ, ইয়ারফোন বা হেডফোনের চাহিদাও।  স্মার্টফোনে মগ্ন হয়ে গান শোনা বা সিনেমা দেখার সময় নয়া প্রজন্মের সবচেয়ে প্রিয় এই গ্যাজেট হল ইয়ারপড বা ইয়ারফোন । অফিসে, স্কুল বা কলেজে যাওয়ার সময় বাসে বা ট্রেনে সফরকালে কানে ইয়ারফোন গুঁজে বসে থাকতে দেখা যায় । কিন্তু দীর্ঘক্ষণ কানে হেডফোন দিয়ে রাখলে কানের বেশ ক্ষতি হয় ।  একটা নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত হেডফোন ও ইয়ারফোনে গান শোনা ঠিক আছে কিন্তু উচ্চ পর্যায়ের শব্দে অনেকক্ষণ গান শোনা, কানের শব্দ শোনার ভারসাম্য নষ্ট করে । রাস্তাঘাটে অন্যান্য শব্দের জন্য আমরা ইয়ারফোন ও স্মার্ট ফোনের ভল্যুউম সর্বোচ্চ মাত্রায় দিয়ে গান শুনি ।  এর থেকেই কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে ।

ইয়ারফোনের উচ্চ শব্দে কানের পর্দার স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে । এমনকি আপনি কানে শোনার ক্ষমতাও হারাতে পারেন । তাই আজই সাবধান হোন !

জেনে নেওয়া যাক, দীর্ঘ সময় হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহারের ফলে কী কী ক্ষতি হতে পারে –

. কানে ব্যথা অতিরিক্ত হেডফোন বা ইয়ারফোন অনেকক্ষণ কানে গুঁজে রাখার ফলে  অনেকেই কানের ব্যথা অনুভব করেন । মাঝে মাঝে কানের ভেতরে ভোঁ ভোঁ আওয়াজ হয় ।  ইয়ারফোনের অতিরিক্ত শব্দ সরাসরি কানে যাওয়ার কারণে কানের ভেতরের অংশে চাপ পড়ে, ফলে কানে ব্যথা হয় । এছাড়া, ইয়ারফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারে মাইগ্রেনের সমস্যাও ।

. কানে সংক্রমণ  একজনের ইয়ারফোন অন্যের সঙ্গে ভাগ না করাই উচিত ।  কারণ এর মাধ্যমেই সবচেয়ে দ্রুত এবং সহজে ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন হেডফোন-এর মাধ্যমে  একজনের থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়াতে পারে ।

. কানের ভেতর ফোঁড়া দীর্ঘসময় হেডফোন কানে দিয়ে থাকলে কানের গহ্বরের ভেতরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে কানের ভেতরে ঘাম জমতে থাকে । এর থেকে ব্ল্যাকহেড বা অ্যাকনে জন্মায় ।

. মনঃসংযোগের অভাব  ইয়ারপড বা ইয়ারফোনের শব্দ কানের পর্দায় খুব খারাপ প্রভাব ফেলে । এই শব্দ কান থেকে মস্তিষ্কে যায় এবং আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে, যারফলে মনোযোগের অভাব হয় । ইয়ারফোনের অত্যাধিক ব্যবহারের কারণে ফোকাস এবং একাগ্রতার অভাব দেখা দেয় । ইয়ারফোন থেকে সৃষ্ট ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক তরঙ্গ মস্তিষ্কের জন্য গুরুতর বিপদ ডেকে আনতে পারে । বায়ু চলাচলে বাধা পড়ার কারণে কানের ভিতরের আর্দ্র পরিবেশে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায় । সে থেকে কানের ভেতর পুঁজ জমতে পারে বা ফোঁড়া তৈরি হতে পারে ।

. বাতাস ঢুকতে বাধা বেশিরভাগ হেডফোন এয়ার-টাইট । অর্থাৎ কানে বাতাস প্রবেশ করতে পারে না  । যার ফলে ঝুঁকি থেকেই যায় । ইয়ারফোন বা হেডফোন সরাসরি কানের ভেতরে প্রবেশ করলে কানে বায়ু চলাচল ঠিকমতো হয় না । আর বায়ু চলাচলে বাধা পড়ার কারণে কানের ভিতরের আর্দ্র পরিবেশে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায় । যে কারণে কানে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ বা ইনফেকশন হতে পারে ।

NIHL বা নয়েজ ইনডিউসড হিয়ারিং লস সূত্র অনুযায়ী, সর্বোচ্চ শব্দমাত্রার ৬০ শতাংশের বেশি ভলিউম বাড়ানো কখনই উচিত নয় ।

১০০ ডেসিবল এবং তার চেয়েও বেশি মাত্রায় প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট কিছু শুনলে কানের স্থায়ী ক্ষতি নিশ্চিত । যেমন, স্মার্টফোন কিংবা স্পিকারের সর্বোচ্চ ভলিউমে গান শুনলে সেই ক্ষতি ডেকে আনতে পারে ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top