Lifestyle - লাইফস্টাইল

সদ্য সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, বিষয়গুলি এড়িয়ে চলবেন না

প্রত্যেক মেয়ের জীবনে মাতৃত্ব সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিগুলোর মধ্যে অন্যতম । গর্ভাবস্থায় নানা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে কাটলেও নতুন জীবনের জন্ম দেওয়ার পর আরও একটি নতুন পর্বের সূচনা হয় । কিন্তু গর্ভধারণের সময় যদিওবা নিজের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল থাকে  প্রসবের পর তা হয়ে ওঠে না ।

সাধারণত গর্ভধারণের মধ্যে ও প্রসবের আগে ডেলিভারির প্রস্তুতিতে হবু মা এত ব্যস্ত ও চিন্তিত হয়ে পড়েন যে,  প্রসবের পরে যে নিজের শরীরের যত্নের প্রয়োজন হয়, তা ভুলে যান ।  প্রসবের পরেও সদ্যোজাত সন্তানের দেখভালের প্রতি সমস্ত মনোযোগ ও যত্ন নেওয়ার ফলে নিজের প্রতি যত্ন নেওয়া হয় কম ।

কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, সন্তানের সঙ্গে সঙ্গে একজন সদ্য মাকেও নিজের প্রতি যত্ন ও খেয়াল রাখাটা অত্যন্ত জরুরি । কারণ  গর্ভধারণ থেকে শুরু করে প্রসব পরবর্তী সময়গুলোতে একজন নারীকে বেশ কিছু মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে পথ অতিক্রম করতে হয় ।

বিশেষ করে ত্বক, স্বাস্থ্য ও চুলের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে ।  এছাড়া ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যাতো আছেই ।

তাই প্রসব পরবর্তী ৬-৮ সপ্তাহ সময় একজন মায়ের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ সময় । প্রসব পরবর্তী দিনগুলো মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উভয়ের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং ।

 প্রসব পরবর্তী খাবার:  প্রসব পরবর্তীতে মায়ের স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ক্যালোরির দরকার হয় । এই অতিরিক্ত ক্যালোরি মাতৃদুগ্ধ তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় । তাই এ সময় মাকে সঠিকমাত্রায় সুষম খাবার খেতে হবে । পাশাপাশি প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে ।  মাছ, মাংস, দুধ, ডিম এইসব প্রোটিন জাতীয় খাবার রাখতে হবে প্রতিদিন । যেহেতু মা শিশুকে স্তন্যপান করান সেহেতু তার খুব বেশি খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করাও উচিত না ।

ত্বক চুলের যত্ন  মা হওয়ার নতুন দায়িত্বের জন্য আসা চাপ এবং ক্লান্তির প্রভাব পড়তে দেখা যায় ত্বক ও চুলে ।  গর্ভাবস্থার সময় বা পরে শরীরে প্রজেস্টেরনের উচ্চমাত্রা ব্রণ তৈরি করতে পারে । ব্রণর জন্য ভালো ক্লেনজার ব্যবহার করুন ও মুখ পরিষ্কার রাখুন ।

এছাড়াও ডেলিভারির পরপর শুরু হয় চুল পড়া । পরবর্তী বেশ কয়েক মাস এই চুল পড়া চলতে থাকে। এছাড়া অনেকের প্রেগন্যান্সির সময়কার স্ট্রেচমার্ক, প্রসবের পর দৃশ্যমান হয় । পেটে, উরুতে স্ট্রেচমার্ক বেশ পরিষ্কার বোঝা যায় ।

পেটে স্ট্রেচ মার্ক বা ফাটা দাগ দূর করার জন্য অলিভ অয়েলের তুলনা হয় না । প্রতিদিন রাতে ঘুমনোর আগে দাগের ওপর অলিভ অয়েল লাগিয়ে শুয়ে পড়ুন এবং সকালে স্নান করে ফেলতে হবে । এতে ত্বক থাকবে মসৃণ । দেখবেন কিছুদিন পর দাগ হালকা হওয়া শুরু হয়েছে । অ্যান্টি-স্ট্রেচ মার্ক ক্রিম ব্যবহার করলেও ফল ভালো পাবেন ।

ব্যায়াম – নরমাল ডেলিভারি হলে অন্তত দেড় মাস এবং সিজারিয়ান হলে অন্তত তিন মাস থেকে ছয় মাস কোনওপ্রকার ভারী ব্যায়াম করা উচিত না । কিন্তু প্রতিদিন হাঁটা এবং ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করাটাকে ইদানিং চিকিৎসকরা উৎসাহ দিয়ে থাকেন । এছাড়াও পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ করলে ভালো কাজ দেয় । এটি জরায়ুর দেয়াল মজবুত করে, পেলভিক মাসল শক্ত করে ।

যদিও শুরুর দিকে এই ব্যায়াম করা কষ্টকর হলেও  প্রথম পাঁচ সেকেন্ড করে শুরু করুন । আস্তে আস্তে সময় বাড়ান । দাঁড়িয়ে, শুয়ে, বসে যেকোনো অবস্থানে থেকে এটি করা সম্ভব ।

সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা যতটা সম্ভব কম করা উচিত । এছাড়াও ভারী জিনিস ওঠানো বা বহন করা বন্ধ রাখতে হবে ।

 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top