Lifestyle - লাইফস্টাইল

ঘামের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায়

প্রত্যেক মানুষের শরীর থেকে ঘাম বের হয়।  আর সেই ঘামের মধ্যে যে জীবাণু জন্ম নেয় তা থেকেই দেহে ঘামের গন্ধ বের হয়।  ঘামের দুর্গন্ধের কারণে অনেককেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষত্রে বা স্কুল, কলেজে একই জামা পরে  থাকতে হয়। অনেকেই এই দুর্গন্ধের কারণে নিজেকে সংকুচিত করে রাখেন।

শরীর থেকে যে দুর্গন্ধ বের হয় তারজন্য অনেকে ঘামকে দোষারোপ করে থাকেন। কিন্তু এটা জেনে রাখা ভালো ঘামের নিজস্ব গন্ধ নেই। দেহে যেসব জায়গা চাপা থাকে সেখানেই ঘাম বেশি হয়। আর সেই ঘাম থেকেই সমস্যা সৃষ্টি করে শরীরের বাজে গন্ধ। অনেকেই মুখ ফুটে এই সমস্যার কথা বলতে পারেন  না।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার কয়েকটি ঘরোয়া উপায় রইল এই প্রতিবেদনে …….

. নিয়মিত স্নান – যাদের শরীরে ঘামের দুর্গন্ধ হয় তাদের দিনে অন্তত ২ বার স্নান করতেই হবে।  এতেই খানিকটা শারীরিক দুর্গন্ধ থেকে রেহাই মিলবে । স্নানের সময় সাবান বা শাওয়ার জেল ব্যবহার করুন ও সারা শরীরে ভালোভাবে সাবান মাখতে হবে। এছাড়াও  উষ্ণ, আর্দ্র পরিবেশে বসবাস করলে প্রতিদিন ২ বার  স্নান করতে পরামর্শ দেওয়া হয় । তবে স্নান করা একান্ত সম্ভব না হলে ভেজা কাপড় দিয়ে বাহুমূল, কুঁচকি ও ত্বকের ভাঁজ মুছে নিলেও দুর্গন্ধ কমবে। ব্যায়ামের পর অথবা শরীর ঘামে ভিজে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্নান করে নেওয়া ভালো।

২. বাহুমূলে  উপযুক্ত সুগন্ধি এই ধরণের প্রোডাক্ট  ব্যবহার করলেও ঘামের দুর্গন্ধ কমে যাবে। ডিওডোরেন্ট  হচ্ছে একধরনের antiperspirant,  যা ঘামের গ্রন্থি বন্ধ করে দেয়।

ফলে ঘাম কম হয় এবং দুর্গন্ধ কমে যায়।  আপনার শরীর থেকে বেশি ঘাম ঝরলে এমন প্রোডাক্ট কিনুন যার লেবেলে antiperspirant ও ডিওডোরেন্ট উভয়ই রয়েছে।

তেমন ঘাম বের না হলে কেবল ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। আপনার জন্য সঠিক antiperspirant / ডিওডোরেন্ট কিনতে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন নিতে পারেন।

. সুতির পোশাক ব্যবহার করুন পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। সুতির কাপড় বা ন্যাচারাল ফাইবার পরার চেষ্টা করুন। এগুলো ত্বকে  বাতাস চলাচলের সুযোগ  করে দেয়, ফলে ঘাম বাষ্পীভূত হতে পারে। ঘাম জমে ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হতে পারে না। ফলে দূর্গন্ধ কম হয়। সেসব পোশাক পরিহার করুন যা ত্বকে ঘাম ধরে রেখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। গরমের সময় নাইলন বা মিক্সড ফ্যাব্রিক পরা থেকে বিরত থাকুন। সম্ভব হলে প্রতিদিন সাবানে কাচা জামা কাপড় পরতে হবে।

. সুগন্ধি ভেজা টিস্যু  বাড়ির বাইরে বেরোলে ব্যাগে ভেজা সুগন্ধি টিস্যু রাখুন।  ঘাম হলেই কিছুক্ষণ  পরপর বাথরুমে গিয়ে  ওয়েট টিস্যু দিয়ে বাহুমূল পরিষ্কার করে নিন। এতে দুর্গন্ধ কম হবে।

. অবাঞ্চিত রোম পরিষ্কার  শরীরের লোম পরিষ্কার রাখুন। কারণ শরীরের যেসব স্থানে লোম বেশি সেখানে অ্যাপোক্রাইন গ্রন্থিও বেশি, ফলে সেখান থেকে ঘাম বেশি বের হয়।  বাহুমূলের রোমে জমে থাকা ঘাম বাষ্পীভূত হয় না ।  ফলে ব্যাকটিরিয়া জমে  দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। প্রতিদিন anti- bacterial সাবান ব্যবহার দিয়ে বাহুমূল পরিষ্কার রাখতে পারেন।

শরীরের অতিরিক্ত ওজন, মশলাদার ও কড়া স্বাদের খাবার, ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা, লিভার রোগ,  থাইরয়েড বা বংশগত স্থুলতা এবং মানসিক চাপের সমস্যায় ভুগলেও অত্যাধিক ঘাম নিঃসরণ হয়। ঘামের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে বেশি করে জল খান।  চা-কফি, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top