Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

খাবার খেলেই বুকে জ্বালা, বমি, অ্যাসিড রিফ্লাক্স ( Acid Reflux)-এ ভুগছেন

কোনও কিছু খেলেই হজম না হওয়ার সমস্যা ? খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই গলা জ্বালা, বুকে চাপ ও বমি বমি ভাব।  এমনকি কখনও কখনও বমি হয়ে যাওয়া।  এসবই কিন্তু  Acid Reflux-এর লক্ষণ বলে ধরা হয়। এই ধরণের উপসর্গ বা সমস্যা যদি সপ্তাহে ২ বারের বেশি হতে থাকে তবে এটিকে অ্যাসিড রিফ্লাক্স-এর সমস্যা বলে গণ্য করা হয়ে থাকে।

যাদের এই সমস্যা থাকে তাদের খুবই ভুগতে হয়। স্বাভাবিক জীবনকে  পুরোপুরি যন্ত্রণাদায়ক  ও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে এই সমস্যা । আপনি মন চাইলেই যেকোনো খাবার খেতে পারবেন না। এমনকি ঘুম পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত হবে।

কারণ কী ?

আমাদের গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলি যখন আমাদের দেহের খাদ্যের হজম প্রক্রিয়ার জন্য যতটা পরিমাণ অ্যাসিড  দরকার হয় তার থেকে বেশি অ্যাসিড তৈরি করে ফেলে তখন অ্যাসিডিটি ঘটে।

নিম্ন খাদ্যনালী স্ফিঙ্কটার (LES) সঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স ঘটে।

পাকস্থলীতে অ্যাসিডের প্রবাহ বেড়ে গেলে তা খাদ্যনালী হয়ে মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে।

মুঠো মুঠো অ্যান্টাসিড বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ খেয়েও আরাম পাওয়া তো দূর অস্ত হার্টবার্ন থেকেই যায়।

পরবর্তীতে যুক্ত হয় বমির মতো ভয়ঙ্কর উপসর্গ।  এমনকী প্রেসক্রিপশনে দেওয়া অন্যান্য ওষুধেও কোনও  কাজ হয় না।

অ্যাসিড রিফ্লাক্স হওয়ার ফলে যে প্রদাহ ও অস্বস্তি তৈরি হয় তার থেকে খাদ্যনালী বা ইসোফেগাস সঙ্কুচিত হয়ে যায়।

এর ফলে গলায় অস্বস্তি, বমি ভাব, কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্টর মতো সমস্যা দেখা দেয়। গলার কাছে কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি হতে থাকে।

বমিভাব বা বমি হওয়া;

টকটক ঢেঁকুর ওঠা;

পেট ফুলে থাকা বা পেটে গ্যাস অনুভূত হওয়া;

হেঁচকি ওঠা;

পেটের নীচের অংশে জ্বালাভাব;

খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া বা গলায় খাবার আটকে আছে এমন অনুভূতি হওয়া;

খিদে কমে যাওয়া ;

হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া ।

মার্কিন যুক্তরাষ্টের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক-এর তথ্যানুসারে, পেটে অতিরিক্ত চাপ পড়লে অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়তে পারে।

বুক জ্বালা, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, পেট ফোলাভাব, কন্ঠস্বরে পরিবর্তন, সাইনাসের সমস্যা, কানে সংক্রমণ, নিউমোনিয়া ইত্যাদি অ্যাসিড নিঃসরণের অন্যতম লক্ষণ।

এসব উপসর্গ দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি।

এছাড়াও স্ট্রেস হল Acid Reflux-এর একটি অন্যতম কারণ। নীরবে ঘাতক হিসেবে Acid Reflux কে বাড়িয়ে দেয় মানসিক চাপ ও স্ট্রেস। জার্নাল অব সাইকোসমাটিক রিসার্চে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, অ্যাসিড রিফ্লাক্স-এর সঙ্গে স্ট্রেসের  সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও,  স্ট্রেস ক্রমশ  অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে থাকে।

অতিরিক্ত ওজনের ফলে অনেকসময় অ্যাসিড রিফ্লাক্স-এর উপসর্গ দেখা যেতে পারে।

অ্যালকোহল গ্রহণ ও ধূমপান করলেও অ্যাসিড রিফ্লাক্স হওয়ার ঝুঁকি  বাড়িয়ে দেয়।

দিনে বারবার অতিরিক্ত চা-কফি এই সমস্যা ডেকে আনতে পারে।

শরীরে হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং গর্ভের ভিতর বেড়ে ওঠা ভ্রূণের চাপের কারণে এটি হয়ে থাকে।

অ্যাসিড রিফ্লাক্সের লক্ষণগুলি গর্ভাবস্থার থার্ড ট্রাইমেস্টারে বেড়ে যায়  এবং প্রসবের পরে এই সমস্যা হ্রাস পায়।

এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, যেমন ঘুমের আগে ভারী খাবার গ্রহণ করা, খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া ইত্যাদির কারণেও অ্যাসিড রিফ্লাক্স হতে পারে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top