Mental health মনের যত্ন

সম্পর্কে বিচ্ছেদ, ভেঙে না পড়ে শুরু করুন নতুনভাবে

একটা সম্পর্কের শুরু  যখন হয় তখন তাতে থাকে নতুন ভালোলাগা, উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ।  সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্কে পলি পড়তে শুরু করলে আসে বিচ্ছেদের সম্ভাবনা।  কিন্তু বিচ্ছেদ মানেই যে তা খারাপ এমনটা নয়।   সারাজীবন একসঙ্গে একই ছাদের নিচে থাকা না হয়ে উঠলেও বা সম্পর্কের জোড়া না লাগলে সেই সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে।  কিন্তু সম্পর্কে বিচ্ছেদ হওয়া মানেই কিন্তু প্রতিপক্ষ কিংবা শত্রু হওয়া নয়।  দু’জনের মধ্যে বোঝাপড়ার বিষয়গুলো যদি ক্রমশ জটিলতায় বাঁধতে থাকে সেক্ষেত্রে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই শ্রেয়।

কোনও নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে সম্পর্কের মধ্যে মতবিরোধ বারবার হতে থাকলে একটা সময় আসে যখন আর বোঝাপড়ার অবকাশ থাকে না। সেই  সমস্যা সমাধানের কোনও কার্যকর উপায় খুঁজে পান না দু’জনের কেউই।

এই পরিস্থিতিতে সমস্যাটা যতই তুচ্ছ হোক না কেন এর কারণেই ওই সম্পর্কটিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার আর কোনও পথ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে ওঠে।  এমতবস্থায় সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা ভবিষ্যতের পক্ষে ভাল।

১. যখন দেখছেন দু’জন একসঙ্গে থাকা সম্ভব হচ্ছে না সেই মুহূর্তে বিচ্ছেদই উপযুক্ত। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করুন। পরামর্শের মাধ্যমে নিজেরাই নিজেদের মতো করে আলাদা হয়ে যান। অতীতের গ্লানি মুছে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ।

২. একটা সম্পর্কে থাকাকে যদি মনে হয় বন্দীদশা এবং তা থেকে মুক্ত হওয়ার স্বপ্ন যদি আপনাকে আনন্দ দেয়, তবে বিষয়টা নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে। সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে  আপনি ক্রমেই নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকবেন আপনার সঙ্গীর কারণে।

৩. যেকোনো একটি সম্পর্ক তা প্রেমেরই হোক বা বন্ধুত্বের, বিচ্ছেদের পরও দু’জনের মধ্যে সৌজন্যতাবোধ বজায় রাখা একটি যৌথ কর্তব্যর মধ্যে পড়ে।  এমন সৌজন্য থাকলে অনেকাংশে প্রতিহিংসার মাত্রা কমে যায়।

 বিচ্ছেদ হলে কী করণীয় :

দেখা হলে এড়িয়ে যাবেন না

রাস্তাঘাটে বা পরিচিতমহলে দেখা-সাক্ষাৎ হলে এড়িয়ে যাবেন না।  দেখা হলে, না চেনা বা না দেখার ভান রবেন না। কুশলবিনিময় করতে পারেন।

অতীত ভুলে যান

অতীতের সমস্ত তিক্ততা মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।  সেই বিষয়গুলো যদি আপনি ভুলতে না পারেন তবে মনে আক্ষেপ জমতে থাকে। বিচ্ছেদের পর এসব বিষয় অন্যের সঙ্গে আলোচনা করবেন না। পরে সেই কথা আপনার সঙ্গীর কানে গেলে অহেতুক জটিলতা বাড়তে পারে।

মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না

বিচ্ছেদ কোনও অপরাধ নয়, যদি তা সমঝোতার মাধ্যমে হয়। বানিয়ে মিথ্যে কথা বলার দরকার নেই। সঙ্গীর কোনও আচরণ যদি আপনার ভালো না লাগে, তাঁকে স্পষ্ট জানান। উল্টো দিকে নিজের দোষ শোনার সময় রেগে যাবেন না। সঙ্গীকেও ঠান্ডা মাথায় আপনার বক্তব্য শুনতে বলুন। দু’জনের মধ্যে এই মৌলিক সততাটুকু থাকলে পরবর্তী কথাবার্তার পথ সুগম হবে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top