Mental health মনের যত্ন

স্কুলের নাম শুনলেই কান্না, দীর্ঘ অনভ্যাসে স্কুল ফোবিয়ায় (School Phobia) ভুগছে খুদেরা

দীর্ঘ বিরতির পর মহামারীর ভীতি কাটিয়ে ফের স্কুলমুখো পড়ুয়ারা ।  কিন্তু টানা দু’বছর বাড়িতে অনলাইন ক্লাস বা স্কুলের মুখ দেখতে না পাওয়ার কারণে স্কুল ফোবিয়ায় (School Phobia) ভুগছে অনেক খুদে পড়ুয়াই । যারা সদ্য স্কুলে ভর্তি হয়েছে যেমন নার্সারি বা কেজির ছাত্রছাত্রীরা সকালে স্কুলের নাম শুনলেই  কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে ।

তবে উঁচু ক্লাসের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই সমস্যা তেমন নেই ।

যেহেতু স্কুলের পরিবেশের সঙ্গে তারা অনেকদিন ধরেই অভ্যস্ত তাই উঁচু ক্লাসের এই সমস্যা হওয়ার কথা নয় কিন্তু খুদেদের  স্কুল সম্পর্কে বিশেষ অনুরাগ তৈরি না হওয়ায় তারা হঠাৎ করেই স্কুলে যেতে চাইছে না ।

অনেক পড়ুয়ার  স্কুলজীবন অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শুরু হওয়ার পর তারা স্কুলে গিয়ে প্রথমে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে না ।  ফলে স্কুলের নাম শুনলেই, কান্না, বমির মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে ।

কপালে চিন্তার ভাঁজ অভিভাবকদেরও । 

কাকে বলে স্কুল ফোবিয়া (School Phobia) ?

এই ধরণের ফোবিয়া আছে এমন শিশুরা প্রায় অসুস্থতার অভিযোগ করে । তাদের মাথা ব্যথা করে, পেটে ব্যথা হয়, গলায় টক টক লাগে, গলায় কিছু আটকে আছে এমন অনুভূতি হতে পারে, তারা প্রায়ই কাঁদে । স্কুলে যেতে হবে না এটি নিশ্চিত হলে অসুস্থতার অনুভূতি সাধারণতঃ চলে যায় ।

কিছু খাবার খেলেই বমিও হয়ে যায় অনেকের । 

কারণ কী ?

টানা ২ বছর বাড়ি বসে মা কিংবা বাবার তত্ত্বাবধানে পড়াশোনা করার পর স্কুল ও ক্লাসরুমের পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে না পারা । করোনা আবহে একটি ভিন্ন সিস্টেমে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে ছোট্ট বাচ্চারা ।  সেখান থেকে স্কুলের পরিবেশে নিজে মানিয়ে নিতে গিয়ে একটা উৎকণ্ঠা কাজ করছে তাদের মধ্যে এমনটাই মত  চিকিৎসকদের ।

আবার সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার অনভ্যাসের ফলে স্কুলে যেতে অনীহা তৈরি হচ্ছে অনেক বাচ্চার মধ্যেই ।

এছাড়াও অনেক সময় টিচাররা ঠিকমতন ট্যাকল করতে পারছেন না কোনও বাচ্চাকে । খালি বকছেন । আবার ধরুন, কোন বন্ধু দুষ্টুমি করছে – পেছনে থেকে জামাটা টানছে, মারছে, এই ধরণের । আর ক্লাসে পড়া না পারার জন্য সবার সামনে অপমান- যতই বাচ্চা হোক, হজম করা একটু কঠিন হয়ে যাচ্ছে আজকাল ।

সেই কারণেই ঠিক স্কুলে যাওয়ার সময়ে মিথ্যে পেট ব্যথার ভান করে অনেক বাচ্চাই । আবার অনেকে আর এক কাঠি এগিয়ে গোঁ ধরে বসে থাকে- স্কুলে যাবই না ।

এই সমস্যাতো ক্রমাগত  বেড়ে চলেছে । মা-বাবাদের কপালে রীতিমতন ভাঁজ ফেলে দিয়েছে ।  কিভাবে হবে এর সমাধান, কাউন্সেলিং ? নাকি ওষুধেরও দরকার হয় ?

কাউন্সেলিং বা ওষুধ– কোনওটাই ঠিক নয় । সরাসরি স্কুলে গিয়ে কথা বলুন শিক্ষকদের সঙ্গে, পারলে দু-একজন বন্ধুর সঙ্গে । বাচ্চার কান্নাকাটি করে বমি করার প্রবণতা থাকলে তাকে সকালে হালকা খাবার খাইয়ে স্কুলে পাঠান ।

তবে স্কুল ফোবিয়ায় আক্রান্ত বাচ্চাকে বাড়িতে ভাল করে বুঝিয়ে স্কুলে পাঠান ।  তা নাহলে এই প্রবণতা বাড়বে ।  তবে বকাবকি একদম না করাই ভাল, তাতে সন্তানের জেদ বাড়বে ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top