Diet - ডায়েট

গরমে নিশ্চিন্তে খান পান্তা ভাত, পাবেন অশেষ উপকার

সম্প্রতি পান্তা ভাতের ( panta rice) প্রেমে মশগুল হয়েছেন ফেমাস বলিউডি নায়িকা ও ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলির ঘরণী অনুষ্কা শর্মা ।  ফিটনেস ফ্রিক এই অভিনেত্রী নিজের ডায়েট ভুলে বাঙালির প্রিয় পান্তাতে মন মজিয়েছেন ।

সঙ্গে আলুভর্তা, কাঁচা পেঁয়াজ ও বেগুনভাজা ।  ইনস্টা-স্টোরিতে খাবারের সেই ছবি পোস্ট করতেই তুমুল শোরগোল নেটপাড়ায় ।

সেলিব্রিটি অভিনেত্রী হন বা আমজনতা, গরমে অনেকেরই পাতে পড়ছে প্রিয় খাবার পান্তা ভাত ।

শুধু বাঙালিরাই নয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নাম বদলে এর কদর কিন্তু বহুকাল আগে থেকেই ।  পুষ্টিগুণে ঠাসা ভেজা ভাত বা পান্তার কদর বহু আগে থেকেই ।

প্রখর তাপ থেকে শরীরকে বাঁচাতে পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, অসম এবং ওড়িশাতেই পান্তা ভাত খাওয়ার যথেষ্ট প্রচলন রয়েছে। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে এই খাবার খান চেটেপুটে ।

এমনকি AIIMS-এর চিকিৎসকরা পর্যন্ত স্বীকার করে নিয়েছেন,  পান্তা খেলে নাকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দারুণ কার্যকর হয়ে ওঠে ।

এক এক রাজ্যে এক এক নাম । বাংলায় যা পান্তা, ওড়িশায় এর নাম পোখাল ভাত । শুধুমাত্র কাঁচা তেল, নুন, কাঁচালঙ্কা, কাঁচা পেঁয়াজ এবং সুস্বাদু নানারকম ভাজা দিয়ে এই ভাত খাওয়ার আনন্দই আলাদা ।

ওড়িশাতে অবশ্য এই ভাত দই, বড়ি ভাজা, আলুসিদ্ধ, আচার ইত্যাদি দিয়ে মেখে খাওয়ার প্রচলন আছে ।

স্বাদের দিক থেকে যেমন জিভে জল আনে  তেমনই  পান্তাভাত পুষ্টিগুণের দিক থেকে বলে বলে  টেক্কা দিতে পারে অন্যান্য কুলীন খাবারকেও ।

পান্তা ভাত হলো ভাত সংরক্ষণের একটি প্রাচীন পদ্ধতি ।

রাতের খাবারের জন্য রান্না করা ভাত বেঁচে গেলে সংরক্ষণের জন্য এই ভাতকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জলে প্রায় একরাত ডুবিয়ে রাখলেই তা সকালে পান্তায় পরিণত হয় ।

ভাত পুরোটাই শর্করা ।

ভাতে জল ঢেলে দিয়ে রাখলে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া বা ইস্ট এই শর্করা ভেঙ্গে ইথানল ও ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে । ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরির ফলে পান্তা ভাতের অম্লত্ব বেড়ে যায় (pH কমে) ।

তখন পচনকারী ও অন্যান্য ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক ভাত নষ্ট করতে পারে না ।

জলে ফেঁপে ওঠা পান্তাভাতের শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ।

এছাড়াও পান্তাভাতে থাকে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট ।

ফার্মেন্টেশনের ফলে পান্তা ভাতে ভিটামিন-বি-টুয়েলভ বেড়ে যায় ।

এটি দেহের ক্লান্তি দূর করে । কিছু ক্ষেত্রে অনিদ্রা দূর করতেও সাহায্য করে ।

তাই পান্তা ভাত খাওয়ার ফলে ঘুম পায় ।

  • গরমের দিনে শরীরে জলের অভাব দূর করতে ব্যাপক কাজ দেয় পান্তা ভাত ।
  • জলীয় খাবার বলে শরীরের জলের  অভাব মেটায় ।
  • শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় রাখে ।
  • পান্তা ভাত খেলে শরীর হালকা ।

কাজে বেশি শক্তি পাওয়া যায়, কারণ এটি ফারমেন্টেড বা গাঁজানো খাবার ।

মানবদেহের জন্য উপকারী বহু ব্যাকটেরিয়া পান্তা ভাতের মধ্যে বেড়ে উঠে ।

রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে পান্তা ভাত বেশ উপকার করে ।

কারণ সাধারণ ভাতের তুলনায় এতে সোডিয়ামের পরিমাণ কম ।

অন্যদিকে পটাশিয়ামের পরিমাণ যথেষ্ট বেশি ।

১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে (১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর) ৭৩.৯১ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে;

পটাশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৩৯ মিলিগ্রাম;

ক্যালশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৫০ মিলিগ্রাম;

সোডিয়ামের পরিমাণ কমে হয় ৩০৩ মিলিগ্রাম, যেখানে সমপরিমাণ গরমভাতে সোডিয়াম থাকে ৪৭৫ মিলিগ্রাম ।

 

 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top