Mental health মনের যত্ন

গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন মুডসুইং, সমাধান কিন্তু হাতের নাগালেই

মাতৃত্ব যেকোনো মেয়ের জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে  । দেহের মধ্যে নতুন প্রাণের স্পন্দনের আভাস পাওয়ার পরপরই শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে  অনেক রকমের মানসিক পরিবর্তনের সম্মুখীন হতে হয় গর্ভবতী মহিলাদের ।  তারইমধ্যে একটি মুড সুইং অন্যতম ।

অবসাদ, মানসিক চাপ এবং শরীরের বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তনের কারণে গর্ভকালীন সময়ে মুড সুইং করাটা খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয় ।  না চাইতেই অনেক সময় মনখারাপের কুয়াশা ঘিরে ধরে মনকে ।  তার প্রভাব পড়ে আচরণে ।

কখনও  অকারণেই মেজাজ তিরিক্ষে হয়ে ওঠে, আবার কখনও কখনও মন বিষণ্ণ হয়ে পড়ে ।  বেপথু মেজাজকে শাসন করে লাগাম পরানোর চেষ্টা করলেও অনেক সময় তা সম্ভব হয়ে ওঠে না ।  তাই এই মেজাজ পরিবর্তনকে বশে রাখার কিছু টিপস রইলো এই প্রতিবেদনে ।

১. মাতৃত্ব হঠাৎ করেই অনেকটা  খুশি বা আনন্দ এনে দিতে পারে । আবার সেই অনুভূতির কারণে মুহুর্তের মধ্যে হঠাৎ ক্রুদ্ধ বা হতাশ হয়ে পড়তে পারে যে-কেউই । এই অবস্থাকে মুড সুইং বলে । আবেগের এই আকস্মিক এবং নাটকীয় পরিবর্তনগুলি দেখে মনে হতে পারে যেন তারা অকারণে চলে এসেছে । গর্ভাবস্থায় মহিলাদের এই অনুভূতি খুব বেড়ে যায় । এই সময় নিজেকে সময় দেওয়াটা খুব দরকার । যেভাবে পারবেন নিজেকে একটু বেশি করে ভালবাসুন । যা মন চায়, তাই করুন ।

২. যখনই মন খারাপ হবে, প্রিয় কোনও মানুষের  সঙ্গে কথা বলুন । নিজের কাছের জনের সঙ্গে কথা বললে মানসিক শান্তি পাওয়া যায় । মনের চাপ কমে । কখনও কখনও বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে যান । এতে মন ভাল থাকবে ।

৩. গর্ভস্থ শিশুর জন্য সঠিক পুষ্টি দরকার হয় ।  যেটা মন চাইছে সেটা খেতে না পারলে অনেক সময় মনের মধ্যে ক্ষোভ বাসা বাঁধতে পারে ।  সেই থেকেই হঠাৎ করেই মুড বিগড়ে যেতে পারে ।  গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি চকোলেট বা আইসক্রিম খাওয়া যেতে পারে ।  ডার্ক চকোলেট স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো এবং মন ভালো করে দেওয়ার উপাদান রয়েছে  এই  চকোলেটে ।

৪.  ঘুম শরীরের ক্ষয় পূরণ করার মহৌষধ ।  যখনই ক্লান্ত মনে হবে, একটু ঘুমিয়ে নিন । রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যান । সম্ভব হলে যতক্ষণ ইচ্ছে হয়, ঘুমোন বা বিশ্রাম নিন । আর ক্লান্ত হলে ঘুম তো অবশ্যম্ভাবী । ঘুমোলে মন তাজা হতে বাধ্য ।

৫. মুড সুইং হলে পছন্দের গান শুনতে পারেন ।  মিউজিক থেরাপিতে মন চনমনে হয়ে ওঠে ।

৬. যোগাসন মনকে নিয়ন্ত্রণ করার অন্যতম একটি হাতিয়ার ।  গর্ভাবস্থায় হরমোনের অনেক ওঠানামা হয় । সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওঠানামা করে মেজাজও । তাই এইসময় শরীর ও মনের উপর খুব চাপ পড়ে । এসবই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে যোগাসন । প্রেগন্যান্সির সময় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এটি খুব সাহায্য করে । রোজ সকালে ধ্যান করলেও মেজাজ ঠিক থাকবে ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top