Diet - ডায়েট

 ডিমের প্রতি দুর্বলতা, অজান্তে কি ডেকে আনছেন বিপদ

সানডে হো ইয়া  মানডে রোজ খাও আন্ডে”

ছেলে বুড়ো সকলের কাছে ডিম একটি প্রিয় খাবার। স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ডিমের জুড়ি মেলা ভার।  ডিম দিয়ে ঝটপট যেকোনো রেসিপি তৈরি করা যায় ।  প্রায় প্রতিদিনের খাবারেই ডিম রাখেন সবাই। বিশেষ করে সকালের ব্রেকফাস্টে ডিমের উপস্থিতি এক্কেবারে মাস্ট।

পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম হল প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। তাই ডিম স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো । কারণ এতে খুব তাড়াতাড়ি লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

একটা ডিমে থাকে ১৪৩ ক্যালোরি, কার্বোহাইড্রেট থাকে ০.৭২ গ্রাম। প্রোটিন থাকে ১২.৫৬ গ্রাম, ফ্যাট থাকে ৯.৫১ গ্রাম। এছাড়া ফসফরাস থাকে ১৯৮ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, জিঙ্ক থাকে ১.২৯ মিলিগ্রাম।  ডিমের সাদা অংশে থাকে এই প্রোটিন এবং কুসুমে থাকে গুড ফ্যাট, আয়রন ও ভিটামিন। এছাড়াও এতে ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন-ডি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বর্তমান । যা শরীরকে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ব্রিটিশ ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশনের ড: ফ্র্যাঙ্কি ফিলিপস্ বলছেন, ”দিনে একটা – এমনকি দুটো ডিমও স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।”

তবে একইসঙ্গে এটাও জেনে রাখা ভাল অতিরিক্ত ডিম খেলে হতে পারে বিপদও।  বেশি পরিমাণে ডিম খেলে, তা হিতে বিপরীত হতে পারে। যারা ব্রেকফাস্ট লাঞ্চ কিংবা ডিনারে ডিম না খেয়ে থাকতে পারেন না তাদের সাবধান হওয়া দরকার।

তাই ডিমকে ভালোবেসে নিজের অজান্তেই বিপদ ডেকে আনছেন না তো? যেকোনো একটি বিশেষ খাবার অতিরিক্ত খাওয়াটা মোটেই স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয়, মত পুষ্টিবিদদের। ডিমের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে একটি ডিমের মধ্যে ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরলের উপস্থিত থাকে ।  গবেষণায় ডিম খাওয়ার সঙ্গে কোলেস্টেরলের মাত্রাবৃদ্ধির একটা সম্পর্ক লক্ষ্য করা গিয়েছে।  দিনে দুটির বেশি ডিম খেলে LDL বা  খারাপ কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। তাই অন্যান্য উচ্চ কোলেস্টেরল যুক্ত খাবারের সঙ্গে ডিম খেলে কোলেস্টেরল বেশি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আসলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে হার্টের অসুখের সম্পর্ক রয়েছে। যাদের হৃদরোগ থাকে তাদের  সীমিত পরিমানে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমাতে ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে সাদা অংশ খেতে বলা হয়। স্ট্রোক বা হৃদরোগের পরও ডিম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

ডায়াবেটিসে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের  জন্য বেশি ডিম বিপদ ডেকে আনতে পারে।  ডিম ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকি বাড়িয়ে রক্তে শর্করার মাত্রার উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।   ডিমের কুসুমে এক ধরনের উপাদান পাওয়া গিয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

এছাড়াও পেটে গ্যাসের বা বদহজমের সমস্যা থাকলে তা বাড়িয়ে দিতে পারে ডিম।  তবে একটা বা দুটি ডিম্ দিনে খাওয়াই যেতে পারে।  তার বেশি হলেই বিপদ। 

যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদযন্ত্রে সমস্যা রয়েছে তাদের সপ্তাহে তিন দিন কুসুম ছাড়া ডিম খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন ডায়েটেশিয়ানরা।

বিশেষজ্ঞ ডায়েটেশিয়ানরা বলছেন, ৫ থেকে ১০ বছরের শিশুদের দিনে একটির বেশি ডিম খাওয়ানো কখনো উচিত নয়। ওজন যদি কম থাকে তাহলে কুসুমসহ ডিম খেতে হবে। তবে ওজন বেশি হয়ে থাকলে কেবল মাত্র সাদা অংশ খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। ৬০ বছর বয়সীদের কুসুম ছাড়া দিনে একটি করে ডিম খাওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞ ডায়েটেশিয়ানরা।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top