Mental health মনের যত্ন

অকারণে মিথ্যা বলা বা ‘প্যাথলজিক্যাল লাইয়িং’ যখন একটি মানসিক রোগ ?

জীবনে চলার পথে আমরা সকলেই কোনও না কোনও পরিস্থিতিতে মিথ্যা কথা বলি বা বলতে বাধ্য হই।  লজ্জাজনক পরিস্থিতি বা বিপদ থেকে বাঁচাতে আমরা অনেকসময় মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে  থাকি। গবেষণার তথ্য বলছে, একজন মানুষ কারণে-অকারণে দৈনন্দিন গড়ে ১ টি থেকে  ৬৫টি মিথ্যা কথা বলে থাকেন।

কিন্তু আমাদের আশপাশে খুঁজে এমন কয়কেজনকে খুঁজে পাওয়া যাবে যারা কোনো কারণ ছাড়াই অবলীলায় মিথ্যা কথা বলে যান। এই ধরনের ব্যক্তিরা নিজের কোনো স্বার্থের জন্য বা সুযোগ নেওয়ার জন্য মিথ্যেকে বারবার সত্যি বলে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন এমনটা নয়। এই ধরণের  যারা বানিয়ে বানিয়ে কথা বলেন , তাতে কারও কোনো ক্ষতিও হয় না বা কারও কোনো লাভ হয় না। এটি যেন এটি সহজাতভাবেই তাদের মধ্যে চলে আসে।

এইধরণের মিথ্যা বলার অভ্যেসকে বলে প্যাথলজিক্যাল লাইয়িং এবং যিনি কোনো কারণ ছাড়াই মিথ্যা কথা বলেন তাঁকে প্যাথলজিক্যাল লায়ার বলা হয়। একে আবার ‘মিথোম্যানিয়া’ও বলা হয়ে থাকে।

মনোবিদরা জানিয়েছেন, যারা এই রোগের শিকার তারা অকারণে মিথ্যা বলে অদ্ভুত ধরণের মানসিক পরিতৃপ্তি বোধ করেন। যদিও সেই মিথ্যার জন্য  কোনও লাভ হয় না, কারও কোনো ক্ষতি না।  হয়তো সেগুলো নিতান্তই ছাপোষা মিথ্যা বা বানিয়ে বানিয়ে কথা বলা, যা শুধুমাত্র আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেকে একজন কেউকেটা বা ‘হিরো’ প্রমাণ করার জন্য অনর্গল মিথ্যা কথা বলে যেতে পারেন। তাদের মিথ্যায় প্রচুর খুঁটিনাটি থাকে।  অনেক সময় দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মিথ্যা বলে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করে থাকেন  মিথোম্যানিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি।

কী কী কারণে এই রোগ হয় ?

১. অ্যান্টিসোশ্যাল পারসোনালিটি, আত্মবিশ্বাসের অভাব, নিজেকে নিয়ে অসন্তুষ্টি, কিংবা নিজেকে জাহির করার প্রবণতা থেকে মানুষ এ ধরনের ক্রমাগত মিথ্যা বলে থাকে।

২. পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার বা সিজোফ্রেনিয়ার মতো রোগও এই রোগটিকে ডেকে আনতে পারে।

৩. ডিমেনশিয়ায় ভুগলে এই ‘প্যাথলজিক্যাল লাইয়িং’-এর প্রবণতা তৈরি হয়।

৪. বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার, নার্সিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার এবং অ্যান্টিসোশ্যাল পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার- তিনটি ক্ষেত্রেই এই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

উল্টো দিকে এটাও মনে রাখতে হবে ননপ্যাথলজিক্যাল লায়ার হওয়া কোনো মানসিক সমস্যার অন্তর্গত নয়। এক্ষেত্রে কোনো একটি কারণকে সামনে রেখেই একজন মানুষ মিথ্যে কথা বলে থাকে।

চিকিৎসা :

এই ধরণের সমস্যায় যারা ভোগেন তাদের একটা সমস্যা থাকে যে তাদের মিথ্যা অন্য লোকের সামনে প্রকাশিত হয়ে পড়লেও তারা সেটা বুঝেও বুঝতে চান না। তাই তাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং প্রয়োজন পড়ে। সাধারণত, পরিবার ও চারপাশের মানুষগুলোর সাথে কথা বলে এবং কিছু ঘটনা পর্যবেক্ষণ করার পর প্যাথলজিক্যাল লায়ারকে শনাক্ত করেন মনোচিকিৎসকরা ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top