Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

হিট স্ট্রোকের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করবেন কীভাবে

কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই সব খুদেরাই এখন স্কুলমুখী।  দীর্ঘ দু’বছরের গৃহবন্দি অনলাইন ক্লাসের পর ফের স্বাভাবিক হয়েছে পঠনপাঠন।  কিন্তু এই দুবছরের পাল্টে যাওয়া পরিস্থিতি থেকে আবার পুরোনো ছন্দে ফিরছে পড়ুয়ারা।  একদিকে যেমন স্কুল খুলে যাওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা বেজায় খুশি অন্যদিকে তেমনি ছোট্ট শিশুদের মধ্যে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।  কারণটা হলো অত্যাধিক গরম। অন্যদিকে, আবার  এবছর বৈশাখ পেরোলেও দেখা মিলছে না কালবৈশাখীর।

গরম পড়তে না পড়তেই বাচ্চাদের মধ্যে সর্দি-গর্মি, জ্বর, হিট স্ট্রোকের (heat stroke) , dehydration এর মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।  গরমের মধ্যে রোজ দীর্ঘ সময় স্কুলে যাওয়া আসার মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ছে পড়ুয়ারা। বাড়ি ফিরেই জল খাওয়া বা স্নান করার বায়না জুড়ছে সব বাচ্চাই। আর সেই থেকেই ঘটছে বিপত্তি। তাই অসহ্য গরমে দাবদাহে বাড়ির ছোট্ট সদস্যকে সুস্থ রাখতে গেলে মাথায় রাখতে হবে কয়েকটি বিষয়।

গরমের সময় সবচেয়ে যে বিষয়টি বাড়ির অভিভাবককে চিন্তায় ফেলে দেয় তা হলো ঠিকঠাক জল না খাওয়া।  কারণ স্কুলে দৌড়ঝাঁপ করলেও ঠিকমতো জলটা খেতে চায় না অনেক বাচ্চাই।  ফলে খুব সহজেই তাদের শরীরে dehydration এর সমস্যা দেখা দেয়।  তাই স্কুলের সময়টা বাদ দিয়ে বাড়িতে থাকার সময়টুকুতে নিয়ম করে জল, ফলের রস বা শরবত / সরবত খাওয়ানোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে।  বাচ্চারা যে পরিমাণে ছোটাছুটি ও খেলাধুলো করে তাতে তাদের প্রতিদিন ২-৩ লিটার জলের দরকার হয়।

স্কুলের টিফিনে ফল দেওয়ার চেষ্টা করুন। তরমুজ, শসা / শশা, লিচু, জামরুল জাতীয় ফল দিন।  এতে জলের অভাব মিটবে।  হালকা মশলাদার খাবার দিন। ডাল বা সুপ খাওয়াতে হবে।  জাঙ্ক ফুড বা বাইরের খাবার দেবেন না।  ফুড পয়জনিং হলে শরীর থেকে জল বেরিয়ে সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।  পরিশোধিত জল না খেলে এই জল থেকেই রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে সবথেকে বেশি। তাই বাচ্চাদের যখনই বাড়ির বাইরে পাঠাবেন সবসময় সঙ্গে জলের বোতল দিন।

গরমে হালকা সুতির পোশাক পরান।  পারলে দিনে দু,বার স্নান করিয়ে দিন। রোদ থেকে ফিরেই স্নান করবেন না।  ঘাম গায়ে স্নান করলে সর্দি হতে পারে।  সম্ভব হলে বিকেলে সাঁতারের ক্লাসে ভর্তি করে দিতে পারেন।  সাঁতার কাটলে শরীরচর্চাও একদিকে যেমন হবে তেমনই শরীরও ঠান্ডা থাকবে।

প্রচন্ড গরমে দুপুরে বাচ্চাকে বাড়ির বাইরে বের করবেন না-দুপুর বেলা, মূলত ১২-৪টের মধ্যে শিশুকে বাড়িতে রাখার চেষ্টা করুন। বিকেল বেলা খেলতে পার্কে নিয়ে যেতে পারেন। স্কুল থেকে ফেরার সময়  অবশ্যই টুপি, ছাতা ব্যবহার করুন।

বাচ্চাদের ত্বক নরম ও সংবেদনশীল হওয়ায় গরমকালে র‌্যাশের সমস্যা দেখা দেয়। তাই বাইরে খেলতে পাঠানোর সময় চেষ্টা করুন ভাল সানস্ক্রিন লাগিয়ে রোদে পাঠাতে। ভাল এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিন শিশুদের ত্বক সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির থেকে রক্ষা করবে।

অ্যালার্জি বা সর্দি-জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top