Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

বিলম্বিত মাতৃত্বের ঝুঁকি

প্রবাদে আছে মেয়েরা কুড়িতেই বুড়ি ।  কিন্তু সেই প্রবাদকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে মেয়েরা এখন ত্রিশ না পেরোলে বিয়ের পিঁড়িতে বসতেই চাইছেন না ।  সময় বদলেছে, সেই সঙ্গে বদলেছে মানুষের চিন্তাও । তারফলে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ক্যারিয়ার ও অন্যান্য আর্থ-সামাজিক বিষয়গুলি মাথায় রেখে সন্তানধারণে বেশ কিছুটা দেরি করে ফেলছেন মেয়েরা । এখনকার দিনে অনেক মেয়েরাই বেশি বয়সে মাতৃত্বের স্বাদ নিতে চাইছেন ।

চিকিত্‍সাশাস্ত্র অনুসারে ১৫ বছর বয়স থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত একজন মহিলা সবথেকে বেশি ফার্টাইল থাকেন । অর্থাৎ সেই সময়টা খুব তাড়াতাড়ি গর্ভধারণ করা সহজ হয় ।  বয়ঃসন্ধিকালে একজন নাবালিকার ডিম্বাণুর পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ থাকলেও মধ্যবয়স (৩০ বছরের দিকে) এর সংখ্যার পরিমাণ চলে আসে প্রায় ২৫ হাজারের ঘরে । তাই ৩০-এর পর মাতৃত্ব লাভের  ক্ষেত্রে একটু সমস্যা  দেখা দিলেও দিতে পারে । সন্তানের জন্ম দেওয়ার জন্য এতদিন অপেক্ষা না করতেই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা । কারণ বয়স ৩০ পেরোলেই গর্ভধারণে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনার কথা কিন্তু উড়িয়ে দিচ্ছেন না গাইনিকোলজিস্টরা ।

কেন এই সতর্কবাণী ?

বয়স ৩০-এর ছুঁইছুঁই হলেও মেয়েদের ডিম্বাণুর সংখ্যা অনেক কম থাকার পরেও গর্ভধারণ অনেকের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা বা জটিলতা তৈরি নাও করতে পারে । আবার কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপারটা হয়তো এমন হবে যে, গর্ভধারণ করার জন্য একটু বেশি সময় লাগবে । এছাড়াও বয়স ৩০-এর দোরগোড়া পেরোনোর পরেই প্রেগন্যান্সিতে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে । এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসকরা ।

সাধারণত বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর গুণমান হ্রাস পেতে থাকে, যা বেশি বয়সে গর্ভধারণকে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে । এক্ষেত্রে ক্রোমসোমাল অস্বাভাবিকতাসহ গর্ভপাত পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে ।

ত্রিশ পেরিয়ে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে কোন কোন ঝুঁকি থাকতে পারে:

১. ত্রিশ বছর বয়সের পর অনেক সময়েই  আশঙ্কা থেকে যায় । তাই ত্রিশের পরে গর্ভধারণ করলে ছোটখাটো কোনো বিষয়কেই অবহেলা করবেন না ।

২. বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা রোগের বাসা বাঁধার প্রবণতা থাকে । ত্রিশ পেরিয়ে গেলে আমাদের শরীরে ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে শুরু করে ।  প্রি-ম্যাচিওর ডেলিভারির এসময় গর্ভধারণে উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা থাকতে পারে । গর্ভাবস্থায় পা ফোলা, ওয়াটার রিটেনশন, একটানা মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হলে একদমই অবহেলা করবেন না । এরকম সমস্যা সাধারণত ৩০-৪০ বছর বয়সী প্রেগন্যান্ট মহিলাদের মধ্যে দেখা দিতে পারে ।

৩. বেশি বয়সে মাতৃত্ব ডেকে আনতে  পারে একটোপিক প্রেগন্যান্সির ঝুঁকিও । এই অবস্থায় ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণুর নিঃসৃত হওয়ার পর ফার্টিলাইজড হয়ে জরায়ুতে প্রবেশ করার বদলে জরায়ুর বাইরে ফ্যালোপিয়ান টিউবে ডিম্বাণুর প্রবেশ করে । এর ফলে গর্ভপাতের প্রবল আশঙ্কা থাকে ।

দেরিতে গর্ভাবস্থায় সাধারণত যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হতে পারেন

* অতিরিক্ত অবসাদ;

* পেশী সংকুচিত হয়ে যাওয়া;

* হাড় এবং গাঁটে ব্যথা;

* পা এবং পায়ের পাতা ফুলে উঠা;

* বিরক্তিবোধ এবং হতাশা ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top