Lifestyle - লাইফস্টাইল

নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হওয়া বা হ্যালিটোসিসের কারণে লজ্জা !

হ্যালিটোসিস হল নিঃশ্বাসের দীর্ঘস্থায়ী দুর্গন্ধ ।  এই সমস্যায় যাঁরা ভোগেন তাতে মাউথওয়াশ ব্যবহার করলে বা ভালভাবে ব্রাশ করলেও এই সমস্যা পিছু ছাড়তে চায় না ।  কোনও টোটকাই এর সমাধান করতে পারে না ।  হ্যালিটোসিস দীর্ঘমেয়াদি একটি সমস্যা এবং এটির পেছনে কোনও গুরুতর রোগ লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা প্রবল থাকে ।

হ্যালিটোসিসের সমস্যা যাঁদের থাকে তাঁদের কথা বলার সময় মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে লজ্জায় পড়তে হয় । অনেক সময় এই বাজে সমস্যার কারণে কাছের বন্ধুরাও দূরে যেতে থাকে । মুখের দুর্গন্ধ সত্যিই খুবই অস্বস্তিকর । এর কারণে আত্মবিশ্বাসও কমতে থাকে ।

হ্যালিটোসিসের কারণ ?

দাঁত মাড়ির সংক্রমণ: গভীরে লুকিয়ে থাকা মাড়ির রোগ, ক্যাভিটি মুখের মধ্যে দুর্গন্ধযুক্ত ব্যাকটেরিয়াকে অতিরিক্ত জায়গা করে দেয় । আপনি যখন আপনার দাঁত ব্রাশ করছেন বা পরিষ্কার করছেন তখন তা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করা কঠিন হয়ে পড়ে। দাঁত ও মাড়ির সংক্রমণ  হ্যালিটোসিস হওয়ার একটা কারণ হিসেবে পরিগণিত হয় ।

মুখ, নাক এবং গলার সংক্রমণ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিকের মতে নাক, সাইনাস এবং গলার সমস্যা যেটি পোস্ট ন্যাজাল ড্রিপ হতে পারে ।  যাকে মুখের বা নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধের একটা কারণ হিসেবে গণ্য করা হয় । আমাদের শরীর যখন সাইনাস জাতীয় সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে তখন দেহে শ্লেষ্মা তৈরি হয় ।  ব্যাকটেরিয়ার আদর্শ বাসস্থান এই শ্লেষ্মা ।  এই শ্লেষ্মা থেকেও নিঃশ্বাস বা মুখ  দুর্গন্ধযুক্ত হতে পারে ।

শুষ্ক মুখ :  লালা আমাদের দাঁতের স্বাস্থ্য এবং শ্বাস থেকে দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে ।  লালা  মুখ থেকে খাবার বা অবাঞ্ছিত অবশিষ্টাংশ ধুয়ে ফেলে এবং অপসারণ করে ।  আমরা যখন খাবার খাই  তখন খাবার ভেঙ্গে দিতে সাহায্য করে লালা এবং মুখগহ্বরে সংক্রমণ প্রতিরোধ করে । মুখে যদি পর্যাপ্ত লালা তৈরি না হয় তবে  হ্যালিটোসিস হতে পারে ।  কিছু  ওষুধ,  অ্যালকোহল, তামাকের ব্যবহার বা অতিরিক্ত ক্যাফিনের কারণে মুখের ভিতর লালা তৈরিতে বাধা সৃষ্টি হয় ।

ধূমপান এবং তামাক:  তামাকজাত দ্রব্য আপনার শরীর এবং আপনার শ্বাসের ক্ষতি করে । শুধু তাই নয়, অনেক তামাকজাত দ্রব্য নিঃশ্বাসে তাদের নিজস্ব গন্ধ রেখে যায় ; তাতে আপনার মুখ শুকিয়ে যেতে পারে । ধূমপায়ীদেরও মাড়ির রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, যারসঙ্গে  হ্যালিটোসিসও যুক্ত হতে পারে ।

অন্যান্য রোগের কারণ : হ্যালিটোসিস প্রায়শই গ্যাস্ট্রিক রিফ্লাক্স, ডায়াবেটিস, লিভার বা কিডনি রোগের লক্ষণও হতে পারে ।

নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ একইভাবে, আপনি যে ওষুধগুলি গ্রহণ করেন তার একটি তালিকা তৈরি করুন । কিছু ওষুধ মুখের গন্ধ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে ।

প্রতিকার:

দাঁতের  নিয়মিত চেকআপ বছরে অন্তত দু-বার দাঁত পরীক্ষা করান । পেশাদার চিকিৎসক দাঁত পরিষ্কার করে দেবেন ।  এছাড়াও পেরিওডন্টাল রোগ, শুষ্ক মুখ বা অন্যান্য সমস্যা যা নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধের কারণ হতে পারে তা খুঁজে বের করে চিকিৎসা করতে সক্ষম হবেন চিকিৎসক।

ধূমপান এবং তামাক ধূমপান ও তামাক চিবোনো বন্ধ করতে হবে ।

জল খাওয়া বেশি করে জল খেতে হবে ।  জল মুখকে আর্দ্র রাখবে । চিনিবিহীন গাম চিবোনো বা চিনিবিহীন মিছরি চুষে খেলেও লালা বেরোবে, যা খাদ্যের কণা এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে ।

ফলমূল ও শাকসবজি – তাজা সবজি, ফল বেশি এবং মাংস কম খান । আপেল, গাজর, সেলারি এবং অন্যান্য শক্ত ফল এবং শাকসবজি আপনার মুখ থেকে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণু এবং খাদ্যকণা পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top